সংসদে আছি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্যঃ সাবের হোসেন চৌধুরী

96

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সরকারি দলের সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘অনেকেই বলেন, বাজেট হতে হবে অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই। এখানে যেন কোনো অপচয় না হয়। কিন্তু আমরা যে আলোচনা বা বিতর্ক করব, সেই বেসিসটা (ভিত্তি) তো ঠিক থাকতে হবে। আমরা সংসদে আছি শুধু হ্যাঁ বা না বলার জন্য।’

আজ শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী এসব কথা বলেন। সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সংসদে আছি মানুষের চাহিদার কথা ব্যাখ্যা করা ও তুলে ধরার জন্য। কিন্তু আমরা যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকি, তাহলে সেই বিষয়গুলো কেন আসবে?’

বাজেট প্রণয়নের আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁদের অনুরোধে অন্তত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করতেন বলে স্মরণ করেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘তিনি (মুহিত) নোট নিতেন। মনে হয় না বর্তমান অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো কমিটির আলোচনা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের এই সাংসদ বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। আমরা যদি মনে করি যে সরকার যেটা দেবে, সেটাকেই পাস করে দিতে হবে, তাহলে তো বাজেট অধিবেশনের কোনো দরকার নেই। বাজেটের গুণগত মান পরিবর্তনে সাংসদেরা তেমন একটা কিছু করতে পারছেন না।’

আমরা যদি মনে করি যে সরকার যেটা দেবে, সেটাকেই পাস করে দিতে হবে, তাহলে তো বাজেট অধিবেশনের কোনো দরকার নেই।
সাবের হোসেন চৌধুরী, সাংসদ
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আরেকটা ভূমিকা রাখতে পারে রাজনৈতিক দল। কিন্তু আমাদের সরকারি দল বা মুখপাত্র বাজেটের সঙ্গে সঙ্গেই বলে দেন যে বাজেটটা ভালো এবং এখানে সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আছে। বাজেট আলোচনায় অংশ না নিলে জবাবদিহির জায়গাটা কীভাবে তৈরি হবে

?’বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘২০১৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপের ফলাফল দিয়ে এখন কাজ করলে তো হবে না। পরিসংখ্যান ঠিক না থাকলে যত আলোচনাই করি না কেন, লাভ হবে না।’

‘জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমরা ব্যর্থ হয়েছি’ এমন স্বীকারোক্তি দিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্থ্যের দিকটি প্রতিফলিত হয়নি। হাসপাতালে কয়টা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) বসল, এটা জনস্বাস্থ্যের নির্ণায়ক নয়।
কোভিডের কারণে যত লোক মারা গেছেন, তার চেয়েও বেশি লোক প্রতিবছর তামাকের কারণে মারা যান বলে মনে করেন এই সাংসদ। বলেন, দেশে যথাযথ তামাক কর নীতি নেই।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ২০২১-২২ অর্থবছরের উপস্থাপিত বাজেটের সার্বিক দিক তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সংলাপে নির্ধারিত আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, মেট্রো চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নুরুল গণি।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানা, তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সৈয়দ আবদুল হামিদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির প্রধান নির্বাহী কল্পনা আক্তার প্রমুখ।