দারোয়ানের মত সাদেক হোসেন খোকার পায়ের কাছে বসে থাকতেন হাজি সেলিম

885

বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মা’ ডাকতেন। সাদেক হোসেন খোকার পায়ের কাছে বসে থাকতেন। বিএনপির সমর্থনে ১৯৯৪ সালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েছিলেন। ৯৬ এর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সাদেক হোসেন খোকা তার জন্য তদ্বিরও করেছিলেন কিন্তু লালবাগের ঐ আসনে ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছিলেন তারেকের পছন্দের। তাই হাজী সেলিম মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগে যোগদেন হাজী সেলিম।

লালবাগের ঐ আসনে আওয়ামী লীগের সাম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তাকে বসিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেন ‘খালেদা পুত্র’ হাজী সেলিমকে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’দের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হলো হাজী সেলিম। ৯৬এ এমপি হয়ে কি করেননি হাজী সেলিম। বুড়িগঙ্গা দখল, জমি দখল। ২০০১ এর নির্বাচনে যাদের কারণে আওয়ামী লীগ ইমেজ সংকটে পরেছিল তাদের অন্যতম ছিলেন হাজী সেলিম। এমপি না হলেও বন্ধ হয়নি তার অপকর্ম।

২০০৪ সালে একজন পুলিশ অফিসারকে লাহ্নিত করেন হাজী সেলিম। এসময় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়। সব সময় বলা হয়, অনুপ্রবেশকারীরা অতিথি পাখী। দূর্দিনে এদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাজী সেলিমের ক্ষেত্রেও কথাটি প্রযোজ্য অক্ষরে অক্ষরে। ওয়ান-ইলেভেন আসার সাথে সাথে পালিয়ে দেশ ত্যাগ করেন সন্ত্রাসের বরপুত্র। নির্বাচনের আগে যখন দেশে ফেরেন তখন তার মাথায় দুইশ মামলা। এরপর শুরু হয় মামলা প্রত্যাহার নাটক।

প্রথম দাফায় ‘হয়রানিমূলক’ চিহ্নিত করে, তার বিরুদ্ধে করা ২১টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে হাজী সেলিম আবদুল হান্নান হত্যা মামলা থেকে খালাস পান। ২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাজী সেলিম রেকর্ড করেন। তার বিরুদ্ধে করা ১০৫টি মামরা একযোগে প্রত্যাহার করা হয়।
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তে পুলিশের উপর আক্রমনের মামলাটিও প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে পরাজিত করেন।

২০১৪ সালেও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করেন হাজী সেলিম। সে মামলাও থমকে গেছে। ঐ বছরই বুড়িগঙ্গা অবৈধ দখলদার মুক্ত করার অভিযানেও আদালত অবমাননা করেন হাজী সেলিম। এসব ঘটনায় হাজী সেলিমের উপলব্ধি হয় আইন তার জন্য নয়। অপকর্ম করে পার পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতায় দূর্বীনিত হয়ে উঠেছিলেন তার পুত্র।