‘শাজাহান খানের সময়ে বন্দরে সব নিয়োগেই দুর্নীতি’

4

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে হওয়া সব নিয়োগেই ‘দুর্নীতি’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের এক নেতা।
পাশাপাশি বন্দরের নিয়োগ দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে ‘আমার চট্টগ্রামবাসী’ নামের সংগঠনের ডাকা অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ওই মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশ থেকে বন্দরের লস্কর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল না করলে নৌমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের লস্কর পদে সাম্প্রতিক নিয়োগে মাদারীপুর জেলা থেকে বেশি চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পেয়েছে এমন অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। ওই নিয়োগ বাতিলের দাবিও উঠেছে।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান অভিযোগ প্রত্যাখান করে রোববার বলেন, মেধার ভিত্তিতেই তার জেলার প্রার্থীরা ওই পদে চাকরি পেয়েছে।

সমাবেশে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, অতীতে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করা।

“আমি মনে করি শুধু লস্কর নিয়োগ নয়, চট্টগ্রাম বন্দরে শাজাহান খান আসার পর থেকে যতগুলি লোক নিয়োগ হয়েছে, সবগুলি ‍দুর্নীতিপূর্ণ হয়েছে। সবগুলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। এটাই প্রথম কথা।

“দ্বিতীয় কথা হল, চট্টগ্রাম বন্দরে মাদারীপুরের লোক অবশ্যই চাকরি করবে। ওরা বাংলাদেশের লোক। কিন্তু বলে- কোটা। আমরা কোটামোটা বুঝি না। প্রত্যেক কোটায় আগে চট্টগ্রামের লোকের চাকরি করবে, এরপর অন্যরা করবে।”

সমাবেশে নগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক এটলী বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী আপনি তো শ্রমিক নেতা। আপনি কি সরকার ও শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করছেন?

“আপনি কাজে স্বচ্ছতা আনয়ন করুন। না হলে সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। লস্কর নিয়োগে অবশ্যই দুর্নীতি হয়েছে। গণমাধ্যমে এর প্রতিবেদন এসেছে। এটা মিথ্যা হলে সেই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে তো মামলা হতো।”

বন্দরের লস্কর পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামে ‘আমরা চট্টগ্রামবাসী’। এই সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

গত কয়েক দশক ধরে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী হলেন সুজনের রাজনৈতিক গুরু।