Breaking News
Home / তথ্য প্রযুক্তি / একসময়ের খুনি এখন যেভাবে সিইও!

একসময়ের খুনি এখন যেভাবে সিইও!

প্রেমিকাকে ধর্ষণের দায়ে খুন করেন একজনকে। এ জন্য ১৬ বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর। কারাগারে থাকার সময় প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া সেই ব্যক্তি এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আগামী সপ্তাহে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে সেই কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

ওই ব্যক্তির নাম জন ভ্যালভার্ডে। কারাগারেই এইচআইভি এইডস–বিষয়ক কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেন তিনি। শিগগিরই ইয়ুথব্লিড ইউএসএ ইনকরপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে যোগ দেবেন ভ্যালভার্ডে। নিম্ন আয়ের কারণে ঝরে পড়া এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সাহায্য করার জন্য বৈশ্বিক একটি প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ভ্যালভার্ডে ১২৪ জনকে পেছনে ফেলে নিজের কৃতিত্বে ইয়ুথব্লিড ইউএসএর সিইও নির্বাচিত হয়েছেন।

ভ্যালভার্ডে বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া তরুণদের তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। তিনি অতীত সম্পর্কে সবাইকে সৎ হতে বলছেন। ভ্যালভার্ডে সম্প্রতি ইয়ুথব্লিড ইউএসএ ইনকরপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তারা শুধুই আমার মতো। তাদের পথও আমার মতোই। তারা যা কল্পনাও করতে পারে না, তা তারা অর্জন করতে পারে।’

তাঁর প্রেমিকাকে ধর্ষণের কারণে ১৯৯১ সালে ২০ বছর বয়সে জোয়েল সনফেল্ড নামের একজন ফটোগ্রাফারকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেন ভ্যালভার্ড। এ জন্য জন ভ্যালভার্ডের ১৬ বছরের সাজা হয়। কারাভোগের পর মুক্তি পান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই জানতাম যে আমি কী ভুল করেছি।’

ভ্যালভার্ডে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ‘সংশোধন করা ছাড়া জীবনকে এগিয়ে নেওয়া যায় না।’ তিনি তাঁর নিজের জীবনে তা করার চেষ্টা করেছেন।

কারাগারে থাকার সময়ে ভ্যালভার্ডে মার্সি কলেজ থেকে বিহেভিয়র সায়েন্সে স্নাতক শেষ করেন। এ ছাড়া আরবান মন্ত্রণালয়ের অধীন নিউইয়র্কের থিওলজিক্যাল সেমিনারি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আইনি পরামর্শবিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এরপরই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। সাত বছর ধরে তিনি অসবর্ণ অ্যাসোসিয়েশন নামে নিউইয়র্কের একটি সংগঠনে কাজ করছেন। এই সংগঠনটি বর্তমান এবং সাবেক বন্দীদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক সেবা নিয়ে কাজ করে।

ইয়ুথব্লিড ইনকরপোরেশন ১৯৭৮ সালে নিউইয়র্কের পূর্ব হারলেমে কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ২১টি দেশে ৮০টির বেশি প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করে।

১৮ বছর বয়সী ব্রিয়ানা বেল ইয়ুথব্লিড ইনকরপোরেশনের একটি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ভ্যালভার্ডের জীবনের গল্প শুনে প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন। ব্রিয়ানা বেল স্কুল থেকে ঝরে পড়া একজন শিক্ষার্থী। ২০১৫ সালে জর্জিয়া থেকে তিনি নিউইয়র্ক আসেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখন আমি প্রথম তাঁর (ভ্যালভার্ড) জীবনের মোড় ঘোরানোর গল্প সম্পর্কে জানতে পারি, এরপর ভাবলাম, যদি তিনি পারেন, তবে আমি কেন পারব না?’

ওই একই প্রোগ্রামের ১৯ বছর বয়সী করিম কায়ছার বলেন, ‘ভ্যালভার্ড পূর্বজীবনের কথা অকপটে স্বীকার করার ঘটনা আমাকে অভিভূত করেছে।’

Facebook Comments