Home / জাতীয় / রোবট তৈরী করেছে বাংলাদেশী ক্ষুদে বালক

রোবট তৈরী করেছে বাংলাদেশী ক্ষুদে বালক

আমাদের দেশে জঙ্গি তৎপরতা নির্মূল ও সীমান্ত রক্ষায় ফাইটার রোবট ২১ ব্যবহার করা যাবে। ফাইটার রোবট ২১ নামে বিশেষ রোবটটি তৈরির কাজ শুরু করি ২০১৬ সালের অক্টোবরে। কিন্তু এটি তৈরির সিদ্ধান্ত নিই মাস কয়েক আগে। এ জন্য আর্থিক অনুদানের প্রয়োজন দেখা দেয়। আমি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইসিটি বিভাগে ‘দেশের শত্রু নির্মূলের জন্য স্বল্প খরচে ফাইটার রোবট ২১’ প্রকল্প শীর্ষক অনুদান চেয়ে আবেদন করি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ টু আই বিভাগ আমার আবেদনটি গ্রহণ করে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে আমাকে প্রকল্প মডেলসহ সাক্ষাৎ করতে বলে।

ফাইটার রোবট ২১ মডেলসহ তাদের সঙ্গে দেখা করি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফাইটার রোবট ২১ প্রকল্প সম্পর্কে কথা বলেন।

তারা আমার কাছ থেকে প্রকল্প মডেল বিষয়ে বিস্তারিত জানেন। এরপরই তারা এটি বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন করেন। নভেম্বর মাসে মডেলটি নির্মাণের জন্য আমাকে এক লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়। এভাবেই ফাইটার রোবট ২১ উদ্ভাবনের কথা জানালেন ক্ষুদে উদ্ভাবক ঢাকার বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান শাখার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানি জুবায়ের।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ফাইটার রোবট ২১ যে কাজে ব্যবহৃত হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- এটি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহার করা যাবে। যেমন- বোমা ফেলা, আগুন নেভানো, কোনো স্থানের নিরাপত্তা যাচাই করা, আহত সৈনিককে বহন করে নিয়ে আসা, চিকিৎসা সরঞ্জাম সৈন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়া, স্বয়ংক্রিয় পিস্তল (যা থেকে দূর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুলি ছোড়া), বোমা ড্রপার, যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিক জীবিত বা মৃত কিনা তা নির্ণয় করা, এবং জলপথে চলা ইত্যাদি।

সানি জুবায়ের প্রায় দু’মাসে রোবটটি তৈরি করেন। এর মাধ্যমে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি সরাসরি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরন্ত ক্যামেরার মাধ্যমে চারপাশের পরিবেশ এবং শত্রুর অবস্থান দেখা যাবে। কোথাও বোমা রাখা থাকলে তা শনাক্ত করতে পারবে। এমনকি মাটির নিচে বোমা থাকলেও কম্পিউটারে রেড সিগন্যালের মাধ্যমে তা জানা যাবে।

রোবটটি থেকে বোমার দূরত্বও জানা যাবে। জলসীমায় শত্রুর অবস্থান জানার ক্ষেত্রেও এটি কাজ করবে। সৈনিকদের মতোই ফাইটার রোবট ২১ শত্রু  পানিতে থাকলেও তাদের জিম্মি করতে পারবে। এর মাধ্যমে জলদস্যু কিংবা মাছ ধরা নিষেধের সময় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাদের বাধা দেয়া যাবে। স্পিকারের মাধ্যমে ভয়েজ দিয়ে তাদের হুশিয়ারি করা যাবে। যদি তারা তা না মানে তাহলে প্রথমে তাদের পায়ে টিজার গান নিক্ষেপ করে ইলেকট্রিক শক দেয়া হবে। অপরাধ মারাত্মক পর্যায়ে হলে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সহযোগিতা নেয়া হবে।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ২০টি পুরস্কার পেয়েছেন সানি জুবায়ের। এর মধ্যে ২০১৬ সালে পেয়েছেন এফআর ২১ প্রজেক্টের জন্য বুয়েট বিজ্ঞান মেলায় প্রথম পুরস্কার। স্পাই রোবটিক কার ও হাইপার কম্পিউটারের জন্য ৩৬ এবং ৩৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম পুরস্কার। হাইপার কম্পিউটারের জন্য বিএফ শাহীন কলেজ বিজ্ঞান মেলায় প্রথম পুরস্কার এবং স্পাই রোবটিক কারের জন্য তিনি উইলস লিটলস ফ্লাওয়ার বিজ্ঞান মেলায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন।

বিজ্ঞান চর্চায় মা আফরোজা আক্তার ও নানু আশরাফুজ্জামান সেলিমের কাছ থেকে পাচ্ছেন সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা। এ প্রসঙ্গে সানি জুবায়ের বলেন, আমি যখন কাজ করি, আমার মা আর নানু রাত জেগে আমার পাশে বসে থাকেন। কাজ করতে যাতে আমার কোনো সমস্যা না হয়। আমার বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষক রেজাউল ইসলাম আমাকে এই উদ্ভাবনী কাজে খুবই উৎসাহিত করছেন। বিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ অনেক।

Facebook Comments