Breaking News

চা বিক্রেতা জনপ্রতিনিধি, জনগণের সমস্যার সমাধান নিজের দোকানেই

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. পালু শেখ। পেশায় একজন চা দোকানি। চায়ের দোকানে বসেই তিনি এলাকার মানুষের সমস্যার কথা শোনেন, করেন সমাধানও।

এলাকাবাসী বলছেন, তারা একজন সৎ ও যোগ্য লোককে নির্বাচিত করেছেন, যিনি ইউনিয়ন পরিষদের কোনো টাকা তছরুপ না করে জনকল্যাণে কাজ করেন।

মোনাখালী ইউনিয়নের রশিকপুর গ্রামের ফিরাজ শেখের ছেলে পালু শেখ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ডাব, তরমুজ, আনারস ও চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর (দ্বিতীয় পর্যায়ের) ইউপি নির্বাচনে মোনাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসী তাকে ভোটে দাঁড় করিয়ে দেন। ওই ওয়ার্ডে তিনিসহ মোট পাঁচজন সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তিনি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পাওয়ার পরও তিনি তার নিজ বাড়ির সামনে চায়ের দোকান চালান। এতে যে লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়ালেখার খরচ বহন করেন।

জানতে চাইলে ওয়ার্ড সদস্য পালু শেখ বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমার নৈতিক দায়িত্ব তাদের সেবা করা। নিজ ব্যবসার পাশাপাশি জনসেবা করে যাচ্ছি। জনগণও আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। আমি ভোর ৪টায় চায়ের দোকান খুলি। সকাল ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করি। এরপর গোসল খাওয়া শেষ করে জনসেবার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও হাসপাতালে যাই। আবার বাড়ি ফিরে বিকেলে চায়ের দোকানে বসি।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় কোনো বিচার-সালিশ থাকলে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমার দোকানে বসেই সমাধান করি।

স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক সুরুজ আলী বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে আমরা কোনো ভুল করিনি। আমরা একজন সৎ ও যোগ্য লোককে নির্বাচিত করেছি। পালু শেখ চায়ের দোকান করে সংসার চালান আর ইউনিয়ন পরিষদের কোনো অর্থ তছরুপ না করে জনগণের প্রাপ্য মনে করে জনকল্যাণে কাজ করেন।

প্রতিবেশী ইজারুল খাঁ বলেন, পালু শেখ ওয়ার্ড সদস্য হয়ে যথাযথভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার কার্ড যোগ্য মানুষদের করে দেন। আমার এক প্রতিবন্ধী মেয়ের কার্ড করে দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান খান বলেন, পালু আমাদের যোগ্য মেম্বার। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো প্রজেক্ট পেলে তা তার ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যথাযথভাবে কাজ করেন। তিনি নিজে না খেয়ে জনগণের অর্থ জনগণের জন্য যথাযথভাবে ব্যয় করেন।

প্রতিবেশী যুবক আসলাম হোসেন বলেন, অতীতের প্রায় সব ওয়ার্ড সদস্যই আপন স্বার্থে কাজ করেছেন। জনগণকে তুষ্ট করতে পারেননি। ওয়ার্ড সদস্য পালু শেখ তাদের থেকে ব্যতিক্রম। তিনি চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু জনগণের কল্যাণে দেওয়া সরকারি অর্থ তছরুপ করছেন না। তিনি আমাদের সবার গর্ব।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মেহেরপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সরকারি অর্থ তছরুপ না করে জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন পালু শেখ। চা বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ওয়ার্ড সদস্য হয়ে জনসেবা করছেন। এটা আমাদের গর্বের বিষয়। এদেশে তার মতো সমাজসেবক খুবই দরকার। আমরা যারা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বিশ্বাস করি তাদের তিনি অনুপ্রাণিত করবেন।

Check Also

চোখ বেঁধে ও বিবস্ত্র করে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে সবুজ কাজী (২৬) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published.