Breaking News

১০১ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রথম দফায় আত্মসমর্পণকারী ১০১ ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে করা দুই মামলার রায়ের দিন ২৩ নভেম্বর ধার্য করেছে আদালত।

একই সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ১৭ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো আদেশ এবং ধার্য দিনে আদালতে অনুপস্থিত ৮৪ আসামির জামিন বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম।

ফরিদুল বলেন, সোমবার আসামিদের পক্ষে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী মো. আজিজ উদ্দিন এবং টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা গিয়াস উদ্দিন ভুলু সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন।

“পরে এ দুই জনকে আসামি পক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ জেরা শেষে উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন হয়। এরপর আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর মামলা দুইটির রায় ঘোষণার তারিখ র্ধায করে আদেশ দিয়েছেন।”

মামলার নথির বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুইটি মামলা করে। এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক আসামি মারা গেছে।

মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ১৭ আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয় এবং অনুপস্থিত ৮৪ আসামির জামিনও বাতিল করা হয় বলে তিনি জানান।

পিপি ফরিদুল জানান, গত ৩০ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টেকনাফ থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা এর সাক্ষ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলায় মোট ২১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা এবং সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন ও যুক্তি-তর্কের পর আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর মামলা দুইটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে।

২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ সদরের টেকনাফ পাইলট উচ্চ
বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি ও গডফাদার সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, ৩০ টি দেশে তৈরি বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন।

ওইদিনই আত্মসমর্পণকারী ১০২ জনকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী টেকনাফ থানার ওই সময়ের পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ ইবনে আলম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় পরিদর্শক এবিএমএস দোহাকে।

মামলা দায়েরের দিনই আদালতের মাধ্যমে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১০২ জন আসামির মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ২০১৯ সালের ৭ অগাস্ট মোহাম্মদ রাসেল নামে এক আসামি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর আদালতে ১০১ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র
দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে মামলাটি
বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল সব আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে মামলার চার্জ গঠন করেন।

জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো ১৭ জন আসামি হলেন নুরুল হুদা, শাহ আলম, আব্দুর রহমান, ফরিদ আলম, মাহবুব আলম, রশিদ আহমেদ, মোহাম্মদ তৈয়ব, জাফর আলম, মোহাম্মদ হাশেম ওরফে আংকু, আবু তৈয়ব, আলী নেওয়াজ, মোহাম্মদ আইয়ুব, কামাল হোসেন, নুরুল বশর ওরফে কালাভাই, আব্দুল করিম ওরফে করিম মাঝি, দিল মোহাম্মদ ও মো. সাকের মিয়া ওরফে সাকের মাঝি।

Check Also

চোখ বেঁধে ও বিবস্ত্র করে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে সবুজ কাজী (২৬) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published.