Home / খেলাধুলা / মুস্তাফিজ বাংলাদেশের না হায়দরাবাদের?

মুস্তাফিজ বাংলাদেশের না হায়দরাবাদের?

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ট্রল হয় হরহামেশাই। কেউ দুঃসময়ে পড়লে তো কথাই নেই, মানহানিকর ট্রলেও ভরে যায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো।তবে নিউজিল্যান্ডে অবস্থানকালে জাতীয় দলের অন্দরমহলেই একটা ট্রল বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে—বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলেন মুস্তাফিজুর রহমান!

গত বছরের মতো এবারও আইপিএল পূর্ববর্তী পরিস্থিতি যে একই রকম। সর্বাত্মক যত্নআত্তি করে ‘দ্য ফিজ’কে পুরো ফিট করে তুলছে বাংলাদেশ। সেটা করতে গিয়ে নিজের ক্ষয়ক্ষতিও মুখ বুজে সয়ে নিচ্ছে দল। গত বছরের প্রেক্ষাপটে মুস্তাফিজের ইনজুরির টাইমলাইন ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারও পুরো ফিট মুস্তাফিজকে পাবে তাঁর আইপিএল দল হায়দরাবাদই, বিশ্ব ক্রিকেটে ‘উপহার’ হিসেবে আবির্ভূত এ বাঁহাতি পেসারকে সারিয়ে তোলার দায়ভারটাই শুধু বাংলাদেশের!

আজ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে অবশ্য খেলছেন মুস্তাফিজ। তিনি খেললে ম্যাচে দুই দলের বোলিং ভারসাম্য যে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে থাকবে, তা বলা বাহুল্য। ক্রাইস্টচার্চে বিশেষ সুবিধা না করলেও নেলসনের উইকেট থেকে বাড়তি কিছু সুবিধাও পাওয়ার কথা মুস্তাফিজের। তবু তাঁকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। কারণ, ‘ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ফিজকে সব ম্যাচে খেলানো যাবে না’, কাল জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন। ‘টেস্টের জন্য পেতে হলে ওকে বিশ্রাম দিয়ে দিয়েই খেলাতে হবে’, সিরিজের দুটি টেস্টেই মুস্তাফিজকে পাবে বাংলাদেশ, সে নিশ্চয়তাও নেই মিনহাজুলের কাছে, ‘সামনে অনেক খেলা। সেটা মাথায় রেখেই ওকে হ্যান্ডল করতে হবে। ’ ধারণা করা হচ্ছে আজকের ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টির তিন ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজ বিশ্রাম পেতে পারেন ওয়েলিংটন  টেস্টে। কন্ডিশনের কথা ভেবে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টেই মুস্তাফিজের পরিপূর্ণ ফিটনেস পরীক্ষা নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

‘স্পেশাল’ ক্রিকেটার বাড়তি যত্নআত্তি পেতেই পারেন, মুস্তাফিজও পাচ্ছেন। তবে ফ্ল্যাশব্যাকে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগের সঙ্গে কোথায় যেন মিল আছে এবারের ঘটনাবলিতেও। ২০১৫ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে চোট নিয়ে ছিটকে পড়েন মুস্তাফিজ। কাঁধের সেই চোট যেন আরো ভয়াবহ না হয়ে ওঠে, সে কারণে এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে মুস্তাফিজকে খেলিয়েছে বাংলাদেশ। অতঃপর পুরো ফিট হয়ে উঠলেন তিনি, আর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। প্রায় দুই মাসে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ১৬ ম্যাচ খেলা মুস্তাফিজ বাংলাদেশের জার্সিতে প্রায় দুই বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন মাত্র ১৩টি টি-টোয়েন্টি।

গত আইপিএল চলাকালেও মুস্তাফিজের কাঁধের ইনজুরি নিয়ে ফিসফাস ছিল। হায়দরাবাদ যেন জোর করে খেলিয়ে বাংলাদেশের প্রধানতম বোলিং অস্ত্রকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে না দেয়, এ নিয়ে দেনদরবার হয়েছে। সানরাইজার্সের পক্ষ থেকে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বিসিবিকে যে, মুস্তাফিজের পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়া হচ্ছে। যদিও একটা বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়, যাঁরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিশ্রাম দিয়ে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা কেন আইপিএলে বাঁহাতি পেসারকে বিরামহীন খেলতে দেখেও বিচলিত হননি?

অবশ্য এতে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে গত নভেম্বরের পর এ বছরের জুলাই থেকে মুস্তাফিজের চোট-অস্ত্রোপচার-পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একই সমান্তরালে চলছে। প্রায় ছয় মাস শুশ্রূষা আর পুনর্বাসনের পর মাঠে ফেরা মুস্তাফিজের ব্যাপারে শতভাগ যত্নশীল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। নিউজিল্যান্ডে যেমন চলছে আর কি। এরপর ভারতে এক টেস্টের সফর এবং মার্চে সম্ভাব্য শ্রীলঙ্কা সফরের সব ম্যাচে মুস্তাফিজকে খেলানোর পরিকল্পনা নেই বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের। সেটা ‘কাটার মাস্টার’কে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যেই। এমন নিবিড় যত্নে এপ্রিলে আবার শতভাগ ফিট হয়ে উঠবেন ‘দ্য ফিজ’, নাভিশ্বাস তুলে দেবেন সানরাইজার্সের প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের।

ক্রিকেটারদের ট্রলের ‘অনুপ্রেরণা’ এটাই— জাতীয় দলের জার্সিতে খোঁড়াবেন মুস্তাফিজ আর দাপাবেন সানরাইজার্সের জার্সিতে।

খুবই নেতিবাচক ট্রল; একজন ক্রিকেটারের আত্মনিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো ব্যাপার। এমন কোনো মন্তব্য মুস্তাফিজ আজও করেননি, যা শুনে মনে হতে পারে বাংলাদেশের চেয়ে হায়দরাবাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট তিনি। তবে কার্যক্ষেত্রে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির তুলনায় মুস্তাফিজের সামান্যই পেয়েছে কিংবা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভাবগতিক বলছে অদূর ভবিষ্যতেও এ বন্দোবস্ত জারি থাকবে!

পরিশেষে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে মিনহাজুলের সুচতুর পরিকল্পনার কারণেই আইপিএলের সময়টায় পুরো ফিট থাকেন মুস্তাফিজ। ফিজিও রিপোর্ট দেন আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন হেড কোচ। মিনহাজুলরা এ জমানায় অ্যাংকর রোল প্লে করেন শুধু, বিপর্যয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের হার্ড হিটিং সেনসেশন একজনই—চন্দিকা হাতুরাসিংহে।

সে আপনি স্বীকার করুন কী না করুন, মানুন কী না মানুন।

Facebook Comments