ট্রাম্পের ‘গোমর ফাঁস’ করলেন সাবেক উপদেষ্টা

4

রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার আগে দেশটির সাবেক নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জোরেশোরে অভিযোগ তোলে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।  গোয়েন্দা সংস্থাটির অভিযোগের জের ধরে সে সময় পদত্যাগ করেন ফ্লিন।

তবে প্রশাসনিক ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থানকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত নিজের বিরুদ্ধে আনা আভিযোগ স্বীকার করে ট্রাম্পেরই ‘গোমর ফাঁস’ করলেন তাঁর সাবেক এই উপদেষ্টা।

মাইকেল ফ্লিন স্বীকার করেন, রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। আর এ বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে তিনি সর্বোচ্চ সহায়তা করছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি আদালতে এ স্বীকারোক্তি দেন ফ্লিন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্বরত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সার্গেই কিসলাকের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েল ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। ক্ষমতায় বসার আগেই ট্রাম্পের নির্দেশেই প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করেন ফ্লিন।

আদালতে ফ্লিন আরো জানান, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি যে তথ্য দিয়েছিলেন তা ছিল মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত ও প্রতারণামূলক। পরিবার ও দেশের স্বার্থেই তিনি সত্যিটা প্রকাশ করেছেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করতে ট্রাম্পই তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ফ্লিন। এই স্বীকারোক্তির ফলে তাঁর কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

তবে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি ফ্লিন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প পরিবারের আরো অনেকের জড়িত থাকার বিষয় সামনে চলে আসতে পারে। সেই রকম কিছু হলে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এমনকি স্বাক্ষীদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।

যদিও এরই মধ্যে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এতে ফ্লিন একাই জড়িত।

এদিকে ফ্লিনের এই স্বীকারোক্তিকে এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলারের একটি বড় সফলতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তিনি ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্ত করছেন।

এফবিআইয়ের আনা অভিযোগের জেরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার ২৩ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন ফ্লিন।  তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে এত দিনে কেন তিনি সত্যিটা স্বীকার করেননি তা পরিষ্কার নয়।