কেন মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেম নিতে চান ট্রাম্প?

4

ফিলিস্তিনিরা নতুন প্রতিরোধ যুদ্ধের ডাক দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের আহ্বান জানানো হয়েছে। শান্তির আশাবাদ অস্থিরতায় ঢেকে যাওয়ার আশঙ্কা আরবদের। কিন্তু ইসরায়েলের অর্ধশতাব্দীর বেশি অপেক্ষার হয়ত অবসান ঘটাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের দেশের নামের পাশে থাকবে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টানদের পবিত্র শহর জেরুজালেম।জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন খবরটি প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিকভাবে এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৭০ বছরে যা কোনও প্রেসিডেন্ট করেননি শনিবার ট্রাম্প তা করতে পারেন এই ঘোষণা দিয়ে। আরব ও ইসরায়েলিরা অধৈর্য্য হয়ে অপেক্ষায় আছেন ট্রাম্প সত্যি সত্যি এই ঘোষণা দেন কিনা তা জানার জন্য। কিভাবে ট্রাম্প জেরুজালেমকে আখ্যায়িত করেন, কী বলতে পারেন এবং পরিবর্তনকে কিভাবে তুলে ধরেন- তা জানার জন্য মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাসী তাকিয়ে থাকবে।বুধবার ভাষণে ট্রাম্প এই ঘোষণা দিতে পারেন। ইসরায়েলিদের কাছে এই স্বীকৃতির প্রত্যাশা রয়েছে। এতে করে জেরুজালেম তাদের বলে স্বীকৃতি পাবে। পশ্চিমা বিশ্বেও ইসরায়েলের এই দাবি প্রতিষ্ঠা পাবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্ব পবিত্র এই শহরকে ইসরায়েলের বলে স্বীকৃতি দেয়নি।ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে কয়েক দশকের আলোচনার পরও চূড়ান্ত বিষয় জেরুজালেম। সেই ক্রসেড ও রোমানদের সময় থেকেই এই পবিত্র শহর নিয়ে যে সংঘাত শুরু হয়েছে তা এখনও চলছে।প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী সদস্য হানান আশরাউয়ি জানান, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দীর্ঘদিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের বলে স্বীকৃতি শান্তির সব সুযোগ বন্ধ করে দেবে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে: আমাদের যা করার করে ফেলেছি।ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার কার্যালয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগানোর চেয়ে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়াটা কঠিন হবে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘটনা বড় ধরনের শক্তির প্রতীক।বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে কিংবা শহরটির বর্তমান সীমান্ত দিয়ে স্বীকৃতি দেন তাহলে আরব বিশ্বে সমালোচনার মুখে পড়বেন ট্রাম্প।জেরুজালেমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এক বিশ্লেষক অফার জালজারবার্গ বলেন, ফিলিস্তিনিদের কাছে এই ঘোষণা হবে আলোচনার সব সুযোগ শেষ।কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প যদি শুধু পশ্চিম জেরুজালেমের বিষয়ে কথা বলে তাহলে ইসরায়েল সমর্থকরা অসন্তুষ্ট হবে। কারণ তারা পূর্ব ও পশ্চিম জেরুজালেমকে একত্রিতভাবে রাজধানী চায়। এছাড়া এতে করে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার সুযোগ থাকবে।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শ্যাপিরো জানান, ট্রাম্প যে অবস্থানই নেন না কেন তাকে জেরুজালেমকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।ট্রাম্প এমন সময়ে এই ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন যখন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রশাসনের সময় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য একজন সাবেক মধ্যস্ততাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে সামনে নিয়ে আসায় শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য প্রশাসনের উদ্যোগ অর্থহীন হয়ে পড়ছে। সত্যিকার অর্থেই এটার কোনও মানে হয় না। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস।