ফের অশান্ত পাহাড়

5

 রাঙামাটির শান্ত পরিবেশ ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে। আতঙ্কে দিন কাটছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তারা জানান, তিন দিনের ব্যবধানে এই জেলার তিন উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ দুই জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অতর্কিত হামলা চালিয়ে দলের আরও এক নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এরপর থেকে তাদের মনে ভয় ও আতঙ্ক জেঁকে  বসেছে।স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে নানিয়ারচর সতের-আঠারো মাইলের মধ্যবর্তী চিরঞ্জিব দোজরপাড়া এলাকার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে অনাধি রঞ্জন চাকমা (৫৫) নামে সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চরম মারমা ওরফে রাসেল মারকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যার পর বাসায় যাওয়ার পথে ৫-৬ জনের একদল যুবক লাঠিসোঠা নিয়ে চরম মারমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে তার কান ও মাথায় জখম হয়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু চাকমাকে উপজেলার সুবলং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।সূত্র আরও জানায়, এসব ঘটনার প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখার কারণে বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে জেলা জেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্যকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক।জুড়াছরি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা বলেন, ‘গত কয়েক দিনের এসব হামলার ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত।

এ কারণে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হওয়া জেলা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড থেমে গেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘এসব ঘটনায় স্থানীয় পাহাড়িরাও আতঙ্কিত।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক নেতা জানান, দিনের সময়টা আমার কাজে কেটে যায়। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে আতঙ্ক জেঁকে ধরে।’এসব ঘটনার জন্য পাহাড়িদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এদিকে, জেএসএস নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আওয়ামী লীগের আন্তঃকোন্দলের জেরে এসব ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারটা চাপা দিতে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, ‘জেএসএস নেতারা জুম্ম জাতির কথা বলে সবাইকে তাদের সংগঠন করতে বাধ্য করে। জেএসএস নেতারা প্রকাশ্যে বলেন, কোনও পাহাড়ি জাতীয় রাজনীতি করতে পারবে না। আমরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করি। আর তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির করে। তারাই এ অঞ্চলকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্রে রয়েছে। এ কারণে সাধারণ পাহাড়িরা তাদের কাছে জিম্মি। শিগগিরই আমাদের নতুন কর্মসূচি আসছে।’২৯৯ নং আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, ‘সবার রাজনীতি করার অধিকার আছে। কে কোন দল করবে, এটা তার নাগরিক ও মানবিক অধিকার। যারা এসব কাজ করছে, কী বুঝে করছে, জানি না। কিন্তু অবশ্যই খুব খারাপ কাজ হচ্ছে। আমরা সবাই শান্তি প্রিয় মানুষ। আমরা সবাই শান্তি চাই।’রাঙামাটি পুলিশ সুপার মো. সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনও অবনতি ঘটেনি। ওই সব নিছক দুর্ঘটনা। এমনটা সারা দেশেই মাঝেমধ্যে হয়। সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের ধরার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত কয়েক জনকে আমরা ধরতে পেরেছি। বাকিদেরও ধরা হবে। কেউ পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে অন্য কোনও সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না।’