মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে এসে বাবা জেলহাজতে

4

প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এক যুবক। বিচার চেয়ে থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা। কিন্তু ধর্ষককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে না পাঠিয়ে উল্টো ধর্ষকের করা মামলায় মেয়ের বাবাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার তালতলীতে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবন্ধী মেয়ের ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় দরিদ্র বাবা মো. মোশারেফ হোসেন এখন জেলহাজতে।
সোমবার দুপুরে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের সঙ্গে দেখা করে এসব কথা জানান প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রাণী বেগম। পরে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন রিকশাচালক মো. মোশারেফ হোসেনের স্ত্রী ও নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রাণী বেগম।
এর আগে চলতি বছর ২৪ অক্টোবর প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগর পাড়া গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে আল-আমিনকে (২২) আসামি করে তালতলী থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা।
মামলার পর বরগুনার পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতারে সচেষ্ট হয় পুলিশ। গত ৩১ নভেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বাবা মো. মোশারেফ হোসেন এবং মা রানী বেগমকে আসামি করে আড়াই লাখ টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগে মামলা করেন ধর্ষক আল-আমিনের বাবা মো. শাহ-আলম। এ মামলায় গত ৬ ডিসেম্বর আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান আদালত।
নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা রাণী বেগম আক্ষেপ করে বলেন, গরীব মানুষের জন্য বিচার নাই। গরীব মানুষের পাশে কেউ নাই। দুনিয়ার সবাই জানে আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে আল-আমিন। এ ঘটনায় আমরা মামলা করলাম। মামলায় ধর্ষকের কিছুই হলো না। অথচ বিনাদোষে জেলে গেল আমার স্বামী।
এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, তালতলী থানায় দায়েরকৃত ধর্ষণের মামলায় তারা স্বাক্ষ্য প্রমাণ নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা ধর্ষণের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন। আসামি আল আমিন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, ধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের আগেই ভুক্তভোগী পরিবার তার সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত অবহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তালতলী থানার ওসিকে মামলা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় তালতলী থানায় মামলা নেয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি জানান।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/আরআইপি