ভর্তিতে বিয়ের তথ্য জানতে চাওয়া কেন অসাংবিধানিক নয়: হাইকোর্ট

3

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বৈবাহিক অবস্থা জানতে চাওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে একটি অর্থপূর্ণ নীতিমালা কেন করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ কয়েকটি নির্দেশনাসহ এই রুল জারি করেন।চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, আইন সচিব, নারী ও শিশু সচিব, মহিলা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও নার্সিং অধিদফতরের মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ফাহরিয়া ফেরদৌস ও নাহিদ সুলতানা জেনি। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক, আইনুন নাহার সিদ্দিকা ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।এর আগে গত ১৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মেয়েটি এখন কী করবে?’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সংবাদে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৬ জুন দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ধর্ষণের শিকার হন মেয়েটি। একপর্যায়ে সন্তানসম্ভবা হলে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। তখন ওসিসি থেকেই ধর্ষণ মামলা করা হয়।

মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে।এরপর ওই যুবক, মেয়ে এবং তার সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রমাণ হয় ওই যুবকই শিশুর বাবা। পরে মেয়েটি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। কিন্তু সন্তান হওয়ার কারণে ওই মেয়েটি বিবাহিত না হলেও তাকে ফেলা হয়েছে বিবাহিত নারীর কাতারে। এ কারণে তিনি নার্সিং কলেজের ফরমই পূরণ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়। যার প্রেক্ষিতে নার্সিং কলেজে ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বৈবাহিক অবস্থা জানতে চাওয়া কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।পরে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত রুল জারির পাশাপাশি মেয়েটিকে অবিলম্বে নার্সিং কলেজে ভর্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। তবে এ সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রতিবেদন আকারে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।’