‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই মীমকে হত্যা করি’

14

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই কুমিল্লার চান্দিনায় শিশু সুবর্ণা আক্তার মীমকে (৭) গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করেছিল একমাত্র ঘাতক ওমর ফারুক। গ্রেফতারের পর ফারুক সোমবার কুমিল্লার বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্যই জানিয়েছেন।
ওমর ফারুক (১৯) জেলার চান্দিনা উপজেলার বেলাম্বর গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে এবং নিহত মীম (৭) চান্দিনা পৌরসভার বেলাশ্বর এলাকার সাবেক পুলিশ সদস্য কোরবান আলীর মেয়ে। সে চান্দিনা ইকরা মহিলা মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।গ্রেফতার হওয়া আসামি ওমর ফারুকের দেয়া জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, ফারুক একটি প্রাইভেটকারের চালক। গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার গাড়িতে উঠিয়ে মীমকে উপজেলার কেরনখাল এলাকায় একটি ব্রিক ফিল্ডের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে মীমকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে মীম চিকিৎসা শুরু করে এবং একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এতে ভয়ে ঘাতক ওমর ফারুক মীমের গলায় থাকা ওড়না পেচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মীমের মরদেহ প্রথমে তার গাড়ির পেছনে বেকডালাতে রাখার পর সন্ধ্যার দিকে মরদেহ কেরনখাল এলাকায় খালের পাড়ে ফেলে দেয়।
ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে ঘাতক ফারুক মীমের বাবার নিকট মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পরদিন সকালে ঘাতক ওমর ফারুক স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে মীমের মরদেহ দেখে ভয় পেয়ে তার মোবাইল সিমটি ব্রিক ফিল্ডের দক্ষিণ পাশে ঝোপের মাঝে ফেলে দেয়।চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, ঘাতকের মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে গত রোববার রাতে চান্দিনার বদরর্পু মেহার এলাকা থেকে ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মীমকে হত্যার কথা স্বীকার করার পর তাকে জেলহাজতে পাঠনো হয়েছে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার জেলার চান্দিনা উপজেলার কেরনখাল ইউনিয়নের থানগাঁও ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় চান্দিনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে মীমের বাবা কোরবান আলী।
জেডএ