ভয়ে তারেক রহমানকে সাহেব বলে ডাকেন শামীম ওসমান, জানালেন নিজেই

ভয়ে তারেক রহমানকে সাহেব বলে ডাকেন শামীম ওসমান, জানালেন নিজেই

সারা বাংলাদেশের বিপ্লবী রাজনীতিবিদের তালিকায় সর্বপ্রথমে যার নাম হচ্ছে শামীম ওসমান। তার বাস্তব ও রাজনৈতিক জীবন  সবার থেকে আলাদা বলে মনে করেন অনেকেই।  এবার তিনি তার রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু কথা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেছেন।  এছাড়াা তিনি জানিয়েছেন কেন তিনি তার বাসার ছাদে পুলিশের পাহারা বসিয়েছে।  সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির কিছু নেতাদের নাম উল্লেখ করে এসব  বক্তব্য তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, আমি তারেক রহমানকে স্যার বলে ডাকি। কারণ আবার যদি বোমা মেরে দেয়। এ কারণে বাড়ির ছাদে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করি না। কারণ একজন মুসলমান একবারই মারা যায়।

শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য আমার দুঃখ লাগে। লন্ডন থেকে নির্দেশ আসছে, আপনি বাংলাদেশ লাফিয়ে যাচ্ছেন। একটি বাচ্চা দুধ পান করে এবং অন্যরা লাফ দেয়। ঝাঁপ দিতে কোন সমস্যা নেই। যে হুকুমে এত লাফ দেয় তার বুকে কলিজা বা সাহস নেই। মানসিকভাবে দুর্বল কাউকে মেরে ফেললে গ্রেফতার হব। খালেদা জিয়ার ছেলের বউ বড় ডাক্তার, ভালো ঘরের মহিলা, কোথাও আসেননি।

আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য বলেন, কঠিন সময় আসছে। জনগণ ভোট না দিলে আমি ক্ষমতায় থাকব না। কিন্তু এখন সরকার নয়, দেশকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তোমরা খেলবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে, আর আমরা খেলবো দেশকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে। আর যদি মনে হয় সেই খেলায় জিতবে, তাহলে তারিখ দিন। খেলা হবে।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জন্মভূমি, সকল আন্দোলনের দোলনা। বঙ্গবন্ধু এখানে বহুবার এসেছেন। নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মিত্র বিএনপি-জামায়াত জাতির জনকের কন্যাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলছে, মিটিং করছে এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। কর্মীদের কথায়, জনগণের কথায় সভা ডেকেছি। বিশ্বে তোলপাড়। আমাদের এখন বৈঠক করার কথা নয়। কিন্তু ঢাকায় যখন মিছিল দেখলাম, ৭৫-এর অস্ত্র আবার গর্জে উঠুক- তার মানে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করতে চাই। মুছে দিতে চায় বাঙালি জাতির দিশা।

তিনি বলেন, কিছু তথাকথিত সুশীল সমাজের রাস্তা দখল করা উচিত। শেখ হাসিনার সঙ্গে কেউ নেই। তাই আজ সমাবেশ। আজ দেখছি রাজপথ শেখ হাসিনার দখলে। যারা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- বোমা হামলার পর যখন আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না, তখন বারবার বলেছিলাম ‘শেখ হাসিনাকে বাঁচাও’। আমরা তখনও জানতাম না কী হয়েছে। এর দুদিন পর খালেদা জিয়া বলেন- জাতির পিতার নিরাপত্তা আইন পাশ করতে আমরা ওই বোমা হামলা করেছি।

শামীম ওসমান বলেন, টিভির পর্দায় ফখরুল ইসলামকে দেখলে তিনি হেসে বলেন- আওয়ামী লীগ শরতে ফুল দেখবে। বলুন বাংলাদেশ হবে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হলে খুশি হবে কেন? আপনি দায়ী হলে বলুন কোথায় ভুল হয়েছে, কি করা যায়। তুমি এতো খুশি কেনো? আগে একজন মির্জাফর আসতেন অনেক দিন পর। এখন হঠাৎ মির্জাফর ও খন্দকার মোশতাকের জন্ম।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগের সম্পদ নন। শেখ হাসিনা এখন আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। তাই জাতির পিতার কন্যা ১৬ আগস্ট ভাষণ দিয়েছিলেন- চারিদিকে ষড়যন্ত্র চলছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে বলে, তারা বলে কোন সমস্যা নেই। তুমি ভাবছ আমি এসব বলে তোমাকে কষ্ট দিব, কিন্তু না আমি করব না। তিনি রাজনীতিতে এসে সভ্য ভাষায় কথা বলছেন। আমরা ভুল হলে, আমাদের জানান. এটা ভুল হলে, আমাকে জানান. আপনাদের টার্গেট সরকার পতন নয়, শেখ হাসিনাকে পতন করা।

সমাবেশে সঞ্চালনা করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চন্দন শীল ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপুর। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা প্রমুখ। মালা, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি প্রমুখ।

সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি শিরিন বেগম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সজনু, জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. উপস্থিত ছিলেন হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, মহানগর স্বচ্ছসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, কৃষক লীগের নেতা জিল্লুর রহমান লিটন প্রমুখ।

বর্তমানে সারা বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন   করছে। চা  শ্রমিকদের ন্যায্য মূল্যের দাবি,  দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি জনিত কারণ  এছাড়া জালানি ও   বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে  তারা এসকল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে আসছে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে।   বিরোধী দলের নেতারা ওই প্রতিবাদ সমাবেশে যে সকল বক্তব্য দিয়েছে তার জবাব দেওয়ার জন্য শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজস্ব বক্তব্য তুলে ধরেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net