Breaking News

বাতাসে গোপনে লাখ লাখ টন বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানো হচ্ছে

বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো তাদের তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে যে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিগর্মন করছে সে খবরটি তারা গোপন রাখছে। এসব গ্যাসের কারণে ক্যান্সার হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। বিবিসি নিউজের একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপি, এনি, এক্সনমোবিল, শেভরন এবং শেল যেসব তেল ক্ষেত্রে কাজ করছে সেখান থেকে লাখ লাখ টন গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যে তথ্য এই কোম্পানিগুলো জানাচ্ছে না। তেল উৎপাদনের সময় উত্তোলন করা তেল থেকে যে বাড়তি প্রাকৃতিক গ্যাস নির্গত হয়, যা উৎপাদনের কাজে লাগে না, তা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ কোম্পানিগুলো বলছে, জ্বালানি তেল শিল্পের নিয়ম-বিধি মেনেই তারা তাদের তথ্য প্রকাশ করে থাকে।

অব্যবহৃত যে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা হয়, তার থেকে বাতাসে নির্গত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন এবং কালো ধোঁয়ার মারাত্মক এক মিশ্রণ, যা বায়ুদূষণ ঘটায় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তরান্বিত করে। ইরাকে যেসব তেল ক্ষেত্রে পোড়ানো গ্যাস চুল্লি থেকে বেরচ্ছে, তার কাছাকাছি যেসব মানুষ বসবাস করে, সেখানকার বাতাসে বিবিসি উচ্চ মাত্রার এমন সব রাসায়নিক পেয়েছে, যার থেকে ক্যান্সারের আশঙ্কা রয়েছে।

বিবিসির অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে উচ্চ মাত্রার অঘোষিত গ্যাস বায়ুমণ্ডলে পুড়ে মিশে যায়। এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ দূত ডিভিড বয়েড এইসব এলাকার মানুষদের সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, “এগুলো হল আধুনিক যুগের বলিদান অঞ্চল, যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য, মানবাধিকার এবং পরিবেশকে বলি দেয়া হচ্ছে মুনাফা আর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে।”

এই প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক দিন ধরেই স্বীকার করে আসছে যে জরুরি কারণ ছাড়া সব রকম বাড়তি গ্যাস পোড়ানো বন্ধ করা প্রয়োজন। বিপি, এনি, এক্সনমোবিল, শেভরন আর শেল কোম্পানি ২০১৫ সালে দেয়া বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিশ্রুতি মেনে অঙ্গীকার করেছিল তারা কতটা অবাঞ্ছিত গ্যাস পোড়াচ্ছে তা ঘোষণা করবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া এভাবে গ্যাস পোড়ানো বন্ধ করে দেবে। শেল বলেছিল তারা ২০২৫ সালের মধ্যেই এটা বন্ধ করবে।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যেসব ক্ষেত্রে তারা দৈনন্দিন পরিচালনার জন্য অন্য কোম্পানির সাথে চুক্তি করেছে, সেখানে এই পোড়া গ্যাস নিগর্মনের তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব অন্য কোম্পানিগুলোর। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান যত তেল উৎপাদন করে তার ৫০%, অর্থাৎ মূল উৎপাদনই হয় এধরনের তেল ক্ষেত্রগুলোতে। কয়েক মাস ধরে গবেষণা চালিয়ে বিবিসি দেখেছে, যেসব তেল ক্ষেত্রে এধরনের গ্যাস নির্গমন সংক্রান্ত তথ্য এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করছে না, সেখানে তাদের হয়ে আর কেউ এই তথ্য জানাচ্ছে না।
উপগ্রহ থেকে বাতাসে গ্যাস পোড়ানোর যে তথ্য বিশ্বব্যাংক সংগ্রহ করে, তা বিশ্লেষণ করে বিবিসি প্রত্যেকটা সাইটে গ্যাসের নির্গমন চিহ্ণিত করেছে। আমরা হিসাব করেছি যে ২০২১ সালে এধরনের আগুন থেকে প্রায় দুই কোটি টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়েছে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই নির্গমন বছরে ৪৪ লাখ গাড়ি থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের সমান। জবাবে এই পাঁচটি তেল প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকেই বলেছে, এসব তেল ক্ষেত্রে নির্গমন সম্পর্কে তথ্য দেয়ার ব্যাপারে তারা বিধিমালা মেনেই কাজ করে। যেখানে তেল স্থাপনা পরিচালনার সরাসরি দায়িত্ব তাদের সেখানে তারা এই তথ্য প্রকাশ করে।
শেল আর এনি আরও বলেছে, যেসব তেল স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব তাদের নয়, সেসব স্থাপনায় গ্যাস নির্গমনের তথ্য সার্বিক পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কিন্তু তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয় না। এমনকি বিশ্বব্যাংককে গ্যাস নির্গমন কমানোর যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল, সেখানেও এ বিষয়ে আলাদা করে কোন তথ্য দেয়া হয় না।
বিবিসি নিউজ অ্যারাবিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ‘ফ্লেয়ারিং’ বা অব্যবহৃত গ্যাস পোড়ানোর কারণে ইরাকে তেল ক্ষেত্রের কাছে থাকা বাসিন্দাদের কোন কোন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল ক্ষেত্রগুলোর কয়েকটি রয়েছে দক্ষিণ পূর্ব ইরাকের বাসরা, রুমাইলা, পশ্চিম কুরনা, জুবায়ের এবং নাহরান ওমার-এ। সেখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের সন্দেহ শৈশবকালীন লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার সেখানে বাড়ছে এবং এর জন্য দায়ী গ্যাস পোড়ানো।
বিবিসি নিউজ অ্যারাবিক ২০২১ সালে বসরার চারটি তেল ক্ষেত্রের কাছে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করেছে। দু’সপ্তাহ ধরে তারা পরীক্ষা করেছে পোড়া গ্যাস থেকে ক্যান্সার হয় এমন পদার্থ নির্গত হচ্ছে কিনা। অন্তত চারটি জায়গায় বাতাসের নমুনা পরীক্ষায় যে পরিমাণ বেনজিন পাওয়া গেছে তা ইরাকে এই রাসায়নিক নির্গমনের জন্য বেঁধে দেয়া জাতীয় সর্বোচ্চ সীমার সমান বা তার চেয়েও বেশি। বেনজিনের সাথে রক্তের ক্যান্সার লিউকেমিয়া এবং অন্যান্য রক্তের অসুখের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তারা ৫২জন শিশুর মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করিয়েছে। এর মধ্যে ৭০% নমুনায় উচ্চ মাত্রার ২-ন্যাপথল পাওয়া যায়। ন্যাপথালিন নামে যে রাসায়নিক পদার্থ থেকে ক্যান্সার হয় ২-ন্যাপথল তারই একটি ধরন। আমেরিকার কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির শৈশবকালীন ক্যান্সার বিষয়ক অধ্যাপক ম্যানুয়েলা অর্জুয়েলা-গ্রিম বলছেন, ‘শিশুদের শরীরে এটা খুব বেশি মাত্রায় আছে…তাদের স্বাস্থ্যের জন্য এটা খুবই উদ্বেগের এবং তাদের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।’ সূত্র: বিবিসি।

Check Also

রোজ খেলা দেখি : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ একদিন বিশ্বে খেলাধুলায় আরও অবস্থান তৈরি করবো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.