বাংলাদেশে এখনও তাণ্ডব চালাচ্ছে আম্ফান, এখন পর্যন্ত নি’হত ১০

21

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় তাণ্ডব শুরু করে তা এখনও চলছে। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানা গেছে, এ মুহূর্তে আম্ফান আছে ঝিনাইদহে। এটি ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি করে বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবনে আঘাত হানে। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। প্রবল বেগের এই ঝড় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

রাত পৌনে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আম্পান ঝিনাইদহে অবস্থান করছে। এদিকে রাত দুইটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাছ ও দেয়ালচাপায় এবং নৌকাডুবিতে বিভিন্ন স্থানে ১০ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।বুধবার (২০ মে) দিনগত রাত দেড়টায় ঢাকাস্থ আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি মধ্যরাতে দুর্বল হয়ে উত্তরের দিকে অগ্রসর হয়ে ঝিনাইদহ জেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝড়িয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৫ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিলোমিটার, যা আরো দমকার বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।আম্ফানের মূল কেন্দ্র দিঘা, উড়িশার পর পশ্চিমবঙ্গ হয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। এ সময় সাতক্ষীরা, খুলনাসহ পশ্চিম উপকূলে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস বয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়।

এতে প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রবল ঝড়ে যশোরে ঘুমন্ত অবস্থায় মা-মেয়ে, গাছচাপায় সাতক্ষীরা শহরে গৃহবধূ, পটুয়াখালীতে শিশুসহ দু’জন, কলাপাড়ায় নৌকাডুবিতে একজন, ভোলার চরফ্যাসনে গাছচাপায় একজন, পিরোজপুরে দেয়ালচাপায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন এবং বরগুনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।