করোনায় অসহায় মানুষের পাশে কুমিল্লা জেলা বিএনপি

141

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা, দেবিদ্বার, দাউদকান্দি, মুরাদনগর, হোমনা, মেঘনা ও তিতাস এই ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। চলমান করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে দেশব্যাপী দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ও লকডাউন থাকায় দলীয় কার্যক্রমে এই স্থবিরতা। তবে ত্রাণ কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা, ইফতার সামগ্রী ও ঈদ সামগ্রী ইত্যাদি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহের। প্রতিটি উপজেলায় পৃথক কমিটি গঠন করে করোনাকালীন দুর্ভোগে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দলটি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে সভাপতি করে জেলা ত্রাণ কমিটিও গঠন করে দলটি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সভাপতি সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ঢাকায় নিজ বাসভবন থেকেই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেছেন

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদর ও দলীয় কার্যলয় চান্দিনায় হওয়ায় দলীয় কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় মূলত চান্দিনা উপজেলায় বিতরণের মধ্য দিয়েই। তবে রাজনৈতিক কারণে ও ক্ষমতাসীন দলের সাথে ঝামেলা বা নেতাকর্মীদের মামলা থেকে রক্ষা সহ নানা কারণে এসব বিতরণ অনুষ্ঠানে জন সমাগম করা হয়নি বলে দাবি দলীয় নেতাদের। তারা দাবি করেছেন দলমত নির্বিশেষে দু:স্থ, অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোথাও রাতের বেলায় ওই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠান করেছেন তারা।

দাউদকান্দি সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এর অর্থায়নে, দেবিদ্বারে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অর্থায়নে, চান্দিনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এর অর্থায়নে, হোমনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন ও উপজেলা যুবদল আহবায়ক মো. আবদুর রহিম সরকার এর অর্থায়নে ত্রাণ, রমজান প্যাক ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় বিত্তশালী বিএনপি নেতা, প্রবাসী বিএনপি নেতা, বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন বলে জানাগেছে।

হোমনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এর অর্থায়নে এবং পত্যক্ষ নির্দেশনায় আমরা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। হোমনার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৬শত জনের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। হোমনা পৌরসভায় ১হাজার ৭শত ৫০ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

জেলা বিএনপির এই ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আরও বলেন- ত্রাণ কার্যক্রমে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক এবং উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিত্তশালী বিএনপি নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সহযোগিতা রয়েছে।হোমনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম ফজলুল হক মোল্লা বলেন, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আমাদের স্থানীয় কিছু আওয়ামীলীগ নেতা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি সশরীরের উপস্থিত থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করেছি। পরে আর কেউ বাঁধা দেয়নি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. আলমগীর খান জানান, দেশ ব্যাপী করোনা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলা ইউনিট ও পৌর ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা শীর্ষ পদে থাকা দুইজন নেতার সমন্বয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির নির্দেশনায় প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিটের বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং প্রবাসী বিএনপি নেতাদের সহযোগীতায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়।চান্দিনা পৌরসভার সাবেক এই মেয়র আরও বলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর পক্ষ থেকেও আমরা ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছি। সেই ত্রাণ সামগ্রী আমরা গরীব-দু:খী মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। প্রবাসী অনেক ভাইয়েরা আমাদের দলীয় ত্রাণ কমিটির ফান্ডে টাকা পাঠিয়েছেন। এছাড়া দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা বিত্তশালী তারাও সহযোগীতা করেছে।

চান্দিনা উপজেলায় ২ হাজারেরও বেশি পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এর ব্যক্তিগত অর্থায়নে আমরা ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সব এলাকায়ই ত্রাণ বিতরণ করেছি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিম বেলাশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমাদের একজন দলীয় কর্মী গু’লিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। তার পরিবারকে আমরা নগদ অর্থ ও ঈদ সামগ্রী দিয়েছি।’কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে পরপর দুই দিন তিনি ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় কথা বলতে রাজি হননি। তিনি পরে যোগাযোগ করলে সব তথ্য দিবেন বলে জানান।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজ উদ্দীন ভূইয়া জানান, আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নে চান্দিনার বাড়েরা ইউনিয়নে দুইবার অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। এছাড়া ঈদ সামগ্রীও বিতরণ করেছি।বর্ষীয়াণ এই রাজনীতিক আরও বলেন- উপজেলার বরকইটে সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম এর অর্থায়নে, দোল্লাই নোয়াবপুরে উপজেলা যুবদল সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কাজী শাখাওয়াত হোসেনের অর্থায়নে, মহিচাইলে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল মান্নান এর অর্থায়নে, সুহিলপুরে উপজেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি রেজাউল করিম এর অর্থায়নে, জোয়াগ ইউনিয়নে জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাবর এর অর্থায়নে আরও প্রায় আটশত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, করোনা পরিস্থি শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আমি ব্যক্তিগত অর্থায়নে দলমত নির্বিশেষে ২ হাজার অসহায় মানুষের মাঝে পাঁচ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। আমি তিনবার বিদেশ থেকে উন্নত চিকিৎসা নিয়েছি। এখনো অসুস্থ। ডাক্তার আমাকে পুরোপুরি রেস্টে থাকতে বলেছেন তাই কোথাও যেতে পারিনি। আমার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

সিনিয়র এই বিএনপি নেতা বলেন, দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। তারা প্রবাসীদের কাছ থেকে অনুদান নিয়েও মানুষের দুর্ভোগ দূর করার চেষ্টা করেছে। পবিত্র রমজান মাসে আমরা রমজান প্যাকেট ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছি।এই নেতা আরও বলেন, ‘দাউদকান্দিতে সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এর অর্থায়নে দুইবার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এভাবে জেলা বিএনপির প্রতিটি ইউনিটে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। রাজনৈতিক নানা কারণে এসব বিতরণ অনুষ্ঠান মিডিয়ায় ফলাও করা হয় নি বলে তিনি দাবি করেন।’সাংগঠনিক স্থবিরতার বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের মানুষ জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় সভা সামাবেশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

Loading...