নিজ বাসভবন নির্মাণে সরকারি ৮০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে ইউএনও আছিয়া

649

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। বরাদ্দের সেই অর্থ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উত্তোলন করে নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন।

অর্থ উত্তোলণের ৬ মাস অতিবাহিত হতে চললেও দৃশ্যমান কোনো কাজই শুরু হয়নি ভবনের। কোনো ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে পরিত্যক্ত ভবন রেখেই নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন ভবনের টাকা তুলে নেওয়ার খবরে বোয়ালখালীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন বোয়ালখালীতে যোগদান করার পর হতে পরিত্যক্ত ভবনে তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে পুরাতন বাসভবনটি ভাঙার টেন্ডাার হলেও অদৃশ্য কারণে ভাঙা হয়নি ভবনটি। এরই মধ্যে চলতি বছরের জুন মাসে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনাদি নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ উপখাতে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নতুন বাসভবন ও নির্বাহী কর্মকর্তার নতুন বাস ভবনের নির্মাণে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবরে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় দেওয়া হয়।

বরাদ্দকৃত অর্থ চলতি বছরের ৩০ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রত্যয়ন প্রদানের মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন।

ইউএনও প্রদত্ত প্রত্যয়নে বলা হয়, ‘বোয়ালখালী উপজেলাধীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের এর বাসভবন নির্মাণ করণের বরাদ্দ পাওয়ার পর দেশের সার্বিক অবস্থার কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয় নাই। এমতাবস্থায় উক্ত বিলের টাকা উত্তোলন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের যৌথ হিসাব নম্বর ৩৩০০৩৩৫২ সোনালী ব্যাংক লি., বোয়ালখালীতে জমা করা হবে এবং পরবর্তী বিধি মোতাবেক কার্যক্রম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে, এই বিলের ব্যাপারে হিসাবরক্ষণ অফিসের কোনো দায়ভার থাকিবে না’।

বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলনের ৬ মাস পার হতে চললেও নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় অফিসপাড়ায় নানান গুঞ্জন চলছে।

স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভবনের নকশা, সয়েল টেস্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। সব ঠিকঠাক হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে চলতি মাস পর্যন্ত এর অগ্রগতি প্রতিবেদন শূন্য রয়েছে। ভবনের নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা প্রত্যয়নপত্র দিয়ে গত ৬ মাস আগে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উত্তোলন করে নিয়েছেন ইউএনও বলে নিশ্চিত করেছেন এ দপ্তর।

বোয়ালখালী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ানের মুঠোফোনে যোগযোগ করলে তিনি পরে খবর নিয়ে জানাবেন বলে প্রতিবেদকের মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বিপ্লব ঘোষ জানান, তিনি সম্প্রতি বোয়ালখালীতে যোগদান করেছেন। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে জানাবেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় কিভাবে রয়েছে আমি জানি না। এ বিষয়ে ইউএনও ভালো বলতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছিয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ভবনের বরাদ্দকৃত টাকা যথাস্থানে রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ইউএনও কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যান আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। তবে টাকাগুলো কোথায় রয়েছে এ বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেননি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভবনটি ভাঙার টেন্ডারপ্রক্রিয়া শেষ হয়। ২০১৭ সালে ১৭ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন যোগদান করেন। তিনি পরিত্যক্ত বাসভবনে বসবাস করলেও তাঁর নামে বাসা বরাদ্দ নেই।