Categories
অপরাধ

স্ত্রী’র সঙ্গে পুলিশের পরকীয়ার জের ব্যবসায়ীকে থানায় এনে ক্রসফায়ারের হুমকি

ব্যবসায়ীর সাবেক স্ত্রী’র সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান পুলিশের এসআই রবিউল ইসলাম। গত বছরের ১৭ই জানুয়ারি রাতে আপত্তিকর অবস্থায় এসআই রবিউল ও প্রেমিকা শাকিলাকে গ্রামবাসী হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ওই সময় গ্রামবাসী পুলিশকে বেদম মারধর করে। ঘটনার মাসখানেক আগেই স্ত্রী শাকিলার (২৬) সঙ্গে ব্যবসায়ী হানযালার বিচ্ছেদ হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে। পিটুনিতে ব্যবসায়ী আ. ফ. ম হানযালার হাত রয়েছে এমন ধারণা থেকে তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এসআই রবিউল। মিথ্যা মাললা দিয়ে জেলেও পাঠানো হয়েছিল তাকে। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে সারিয়াকান্দি থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল করিম, মাহবুব হাসান ও সারিয়াকান্দি চন্দনবাইশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ওই সময়ে কর্মরত এসআই রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন হানযালা। গত ২৩শে জুন বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি করেন তিনি।

অভিযুক্ত এসআই রবিউল ইসলাম বর্তমানে রাজশাহীর বাঘা থানায় কর্মরত। যদিও মামলার আসামি সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান দাবি করেছেন হানযালা শিবিরের উপজেলা সভাপতি ছিলেন।

তার আইনজীবী বিএনপির পদধারী নেতা। হানযালার পক্ষে যারা কথা বলবেন তারা সবাই বিএনপির লোক। তিনি একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আমরা কেবল একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। ওসি হানযালাকে মাদক ব্যবসায়ী বললেও মামলার অপর আসামি পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলছেন হানযালা মাদকসেবী। হানযালার সাবেক স্ত্রী শাকিলা উপজেলার দেবডাঙ্গা কাজলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বাদী হানযালা সারিয়াকান্দির দিঘলকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সারিয়াকান্দি সদরের তরফদার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী তিনি। মামলা করার পর থেকেই হানযালা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তার আইনজীবী জাকিউল আলম সোহেল। মানবজমিনকে সোহেল জানান, রবিউল স্থানীয়দের হামলার শিকার হওয়ার পর ধারণা করেন যে হানযালাই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

ফলে হানযালাকে বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখিয়ে আসছিলেন চন্দনবাইশা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রবিউল ইসলাম। পরবর্তীতে এ ঘটনায় এসআই রবিউল ইসলামকে বাঁচানোর জন্য অন্য পুলিশ কর্মকর্তারাও জড়িয়ে যান। ব্যবসায়ী হানযালা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, স্থানীয়রা রবিউলকে তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেন। ওই সময় গ্রামবাসীর মারধরের শিকার হন রবিউল। এরপর থেকেই এসআই রবিউল তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা শুরু করেন। পরবর্তীতে সারিয়াকান্দি থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শুধু তা-ই নয়, চাঁদা না দিলে হানযালার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকিও দেন ওসি মিজানুর রহমান। এমনকি হানযালা কোথাও যেনো বের হতে না পারে সেজন্য তার মোটরসাইকেল থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ২৫শে মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সারিয়াকান্দির গোল্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা করছিলেন তিনি। এমন সময় ভিত্তিহীন অভিযোগে সারিয়াকান্দি থানার এসআই রবিউল করিম ও মাহবুব হাসান তাকে আটক করে। হানযালা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন মধ্যরাতে তাকে হাজত থেকে বের করে থানার এসআইদের রুমে নিয়ে গিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধর করার আগে গামছা দিয়ে তার চোখ বাঁধা হয়েছিল।

মারধর শেষে তার চোখের বাঁধন খুলে দেয়া হয়। ওই সময় ওসি মিজানুর বলেন, চাহিদার টাকা না দিলে এবং এসব বিষয়ে মুখ খুললে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরের দিন ২৬শে মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আইনজীবী জাকিউল আলম সোহেল জানান, হানযালা পুলিশের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ২৩শে জুন বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য বগুড়ার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। মামলার আসামি পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, হানযালা একজন মাদকসেবী। তাকে আমরা গ্রেপ্তার করে আদালাতের মাধ্যমে জেলে পাঠিয়েছিলাম। জামিনে বেরিয়ে এসে সে আমাদের নামে মামলা করেছে।

অপর পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিম মানবজমিনকে বলেন, হানযালাকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। থানায় নিয়ে নির্যাতন এবং টাকা দাবির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে হানযালার দায়ের করা মামলার আসামি সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, তার সাবেক স্ত্রী শাকিলার সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের অনৈতিক কার্যকলাপ চলাকালীন গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। পুলিশ কর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। কোর্ট থেকে কোনো কাগজপত্র আমাদের হাতে পৌঁছাইনি।

Categories
অপরাধ

মেয়েকে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখেন পাষণ্ড বাবা

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঝোপ থেকে মিনু আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের সৎবাবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছেন, টাকা না দেওয়ায় মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখেন সৎবাবা শফিকুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার (২৫ জুন) রাত ১১টার দিকে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ২৪ জুন রাতে কুড়িগ্রাম থেকে শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরেরদিন শনিবার (২৫ জুন) বিকেলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য আসামি রিপন মিয়াকে একই দিন (শনিবার) বিকেলে ভালুকার জমিরদিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিপন মিয়াকে রোববার (২৬ জুন) দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ওসি কামাল হোসেন বলেন, শফিকুল ইসলামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি ভালুকায় বসবাস করতেন। বেশ কয়েক বছর আগে সৎ মেয়ে মিনুকে মেনে নিয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন শফিকুল। মাহমুদা আক্তার পোশাক কারখানায় চাকরি ও রফিকুল ভাঙারির ব্যবসা করতেন। মাহমুদা পোশাক কারখানায় চাকরি করে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা করেন। ওই টাকা দিয়ে মেয়ে মিনুর নামে ডিপোজিট করার পরিকল্পনা করে মা মাহমুদা। বিষয়টি শফিকুল জানতে পেরে মাহমুদা আক্তারের কাছে টাকা চান। তবে তিনি টাকা দিকে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল তার বন্ধু রিপনকে নিয়ে সৎ মেয়ে মিনুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৮ জুন মা মাহমুদা আক্তার বাড়িতে না থাকায় রাতে ঘুমন্ত মিতুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেন। পরদিন রাতে ওই মরদেহ একই এলাকার কারখানায় বাউন্ডারির ভেতরে নিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখেন।

এদিকে, মিনুকে চাপা দেওয়া মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে গিয়ে তার পা বের হয়ে আসে। এভাবে ১৭ দিন পার হলে মরদেহ পুরোটাই ভেসে উঠে। পরে স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
এই ঘটনায় ওই দিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে ভালুকা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলার প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরটিভি

Categories
অপরাধ

স্ত্রীর অত্যাচারে আমেরিকান স্বামীর আত্মহত্যার, স্ত্রীর প্রেমিক গ্রেফতার

শ্বশুরবাড়ি ও স্ত্রীর অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বাংলাদেশ ও মার্কিন নাগরিক শেখ সোয়েব সাজ্জাদ (৪৪)। এমন অভিযোগ করেছেন সাজ্জাদের পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসেও জানানো হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে আত্মহত্যা করেন মার্কিন নাগরিক শেখ সোয়েব সাজ্জাদ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক সাজ্জাদের স্ত্রী সাবরিনাসহ নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদের অভিযোগ করে বলেন, তাকে এমন মানসিক অত্যাচারে রাখতো যে সে কখনও মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে পারতো না। শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর সাজ্জাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছিল স্ত্রী সাবরিনা। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন-টাকা রেখে দেওয়া হয়। পাসপোর্ট ও টাকা-পয়সা হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সাজ্জাদ। বারবার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফেরত চেয়েও পাননি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, স্ত্রী সাবরিনা ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারে আত্মহননের পথ বেছে নেন সাজ্জাদ। এ মামলায় সাজ্জাদের স্ত্রী সাবরিনা শারমিন (৩০) এবং স্ত্রীর প্রেমিক কাজী ফাহাদকে (২৭) আসামি করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিক সাজ্জাদের মৃত্যুর ঘটনাটি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসকে জানানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে সাবরিনা শারমিনের সঙ্গে আমেরিকান নাগরিক শেখ সোয়েব সাজ্জাদের বিয়ে হয়। এরপর আমেরিকাতে তারা বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সালের মে মাসে সাজ্জাদকে রেখে সাবরিনা বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর রাজধানীর ওয়ারীর ১৯/১ ওয়ারস্ট্রীট রোডের বাসার পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকেন। পাশের বাসার কাজী ফাহাদ নামে এক ছেলের সঙ্গে সাবরিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাবরিনার প্রেমিক ফাহাদ সবসময় সাবরিনার বাসায় যাতায়াত করতেন।

এ নিয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে সাবরিনার ফোনে কথা কাটাকাটি হয় এবং মনোমালিন্য হয়। একই বাসার নিচতলায় সাজ্জাদের ভাই, বাবা ও মা থাকতেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে সাবরিনার যোগাযোগ ছিল না। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ করতেন না সাবরিনা। গত ১৬ মার্চ সাজ্জাদ আমেরিকা থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর স্ত্রী সাবরিনাকে সঙ্গে নিয়ে বনানী ডিওএইচএস মসজিদ রোডের ১০৫ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। শ্বশুরবাড়িতে ওঠার পরপরই সাজ্জাদের ওপর অত্যাচার বাড়তে থাকে। জানা গেছে, দশ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শেখ সোয়েব সাজ্জাদ, নাগরিকত্বও নেন দেশটির। আর বনানী ডিওএইচএস-এর একটি বাসা থেকে সোয়েব সাজ্জাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় গত ৩০ এপ্রিল। এ ব্যাপারে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করে সাজ্জাদের পরিবার।

ক্যান্টনমেন্ট জোনের এডিসি ইফতেখাইরুল ইসলাম জানান, মামলার যে দ্বিতীয় আসামি কাজী ফাহাদ আমরা তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছি। তার পাঁচ দিনের রিমান্ডও চেয়েছিলাম। আদালত জেল গেটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। সেই আদেশের কপিটি আসার পর আমরা অভিযোগকারীদের সাথে কথা বলব। আর এ মামলার আরেকজন আসামি রয়েছে তাকেও গ্রেফতার করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

Categories
অপরাধ সর্বশেষ সংবাদ

সারা দেশে কেউ কিছু করতে পারেনি, তোরা কী করতে পারবি বলেই সংবাদ কর্মীকে বেদম প্রহার

কক্সবাজারে হাঙ্গর মাছের তেল, চামড়া ও কান পাচারের সাথে জরিত চক্রের প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ ও তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কক্সবাজারের ( Cox’ Bazar ) স্থানীয় অনলাইন মিডিয়া আউটলেট দ্য টেরিটোরিয়াল নিউজ ( Territorial News ) (টিটিএন ( TTN )) এর প্রধান প্রতিবেদক আজিম নিহাদ কক্সবাজারের ( Cox’ Bazar ) নুনিয়াছড়ায় একটি হাঙর ( Shark ) তেলের কারখানার ভিডিও ধারণ করার সময় একজন সুপরিচিত ক্যামেরাম্যান লোকমান হাকিমকে ( Lokman Hakim ) আক্রমণ করে মোস্তাক আহমেদ নামে এক বাসিন্দা।

কক্সবাজারে অবৈধভাবে হাঙর ( Shark ) নিধন এবং তেল, চামড়া ও কান পাচারে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় তিন সাংবাদিক। রোববারের এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরও ৩-৪ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও সোমবার সন্ধ্যা ( Monday evening ) পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এর আগে রোববার সকালে জেলা শহরের নুনিয়াছড়ায় একটি হাঙর ( Shark ) তেলের কারখানার চিত্রগ্রহণ ও খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা হয়। হাঙ্গর তেল, চামড়া ও কান চোরাচালানের সাথে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্রধান মোহাম্মদ আলমগীরের ( Mohammad Alamgir ) ছোট ভাই মোস্তাক আহমেদ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন কক্সবাজারের স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য টেরিটোরিয়াল নিউজের (টিটিএন) প্রধান প্রতিবেদক আজিম নিহাদ, রিপোর্টার রাহুল মহাজন ও ক্যামেরাম্যান লোকমান হাকিম। ঘটনার সময় ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি মোস্তাক ভিকটিম নিহাদকে গলা টিপে ধরে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে ক্যামেরা পারসন লোকমানের উপর হামলা চালায়। এ সময় মোস্তাককে চিৎকার ও অশালীন আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে মোশতাককে ‘পুরো বাংলাদেশ কিছুই করতে পারেনি, তোরা কী করতে পারবি’ বলে অভিমান করতে শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহাদসহ অন্যদের উদ্ধার করে। এরপর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এদিকে আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার বিকেলে কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং জাতীয় খেলাঘর আসরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন কক্সবাজার পৌরসভার সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে। সাংবাদিকদের উপর হামলা নিয়ে।

উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি মোস্তাক আহমেদ সাংবাদিক আজিম নিহাদকে গলা টিপে ধরে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে ক্যামেরাম্যান লোকমানের ওপর হামলা চালায়। ক্যামেরা ছিনতাই ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। এ সময় মোশতাককে চিৎকার ও গালিগালাজ করতে দেখা যায়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, পুরো বাংলাদেশ কিছুই করতে পারেনি, তোরা কী করতে পারবি। খবর পেয়ে পুলিশ ও সাংবাদিক নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের অন্য সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

Categories
অপরাধ

টয়লেটের কমোডে সন্তান প্রসব, পাইপ কেটে উদ্ধার করলেন বাবা

ব‌রিশা‌লে হাসপাতা‌লের টয়‌লে‌টের পাইপ ভেঙে এক নবজাতক‌কে উদ্ধার করেছেন বাবা। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে শনিবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রেন। নবজাতকের বাবা নেয়ামত উল্লাহ জেলে ও মা শিল্পী বেগম গৃহিণী। তাদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির গণমান শেখপাড়া বাজার এলাকায়।

নেয়ামত উল্লাহ বলেন,‘আমার গর্ভবতী স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে শনিবার বরিশাল মেডিক্যালে ভর্তি করি। ডাক্তার সিজার করার পরামর্শ দেন। বিকেলে অপারেশনের জন্য ওষুধ কিনে ফিরে দেখি টয়লেটের সামনে ভিড়। আত্মীয়-স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন। ‘লোকজন জানান, আমার স্ত্রী টয়লেটেই সন্তান প্রসব করে দিয়েছে। একজন আমাকে কমোডের মধ্যে হাত দিতে বলেন। আমি পুরো হাত ঢুকিয়েও কিছু পাইনি কিন্তু পাইপের মধ্যে থেকে কান্নার আওয়াজ পাচ্ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের লোকজন বলেন, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়েছে। আমি কারো অপেক্ষা না করে দ্রুত কমোডের পাইপ ভেঙে আমার মেয়েকে বের করে আনি। ‘আমার স্ত্রী প্রসব বেদনায় টের পায়নি কখন সন্তান প্রসব হয়ে গেছে। সঙ্গে এক আত্মীয় ছিলেন। তিনি না দেখলে হয়তো আমার মেয়েকে আর পেতাম না।

হাসপাতালের পরিচালক জানান, নবজাতকটি শিশুদের বিশেষ সেবা ইউনিটে (স্ক্যানু) ও তার মা প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Categories
অপরাধ

বির শিক্ষক নিয়োগে ছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ওই শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বরাবর এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাবির যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলকে অধ্যাপক আকরামের বিষয়ে তদন্তের আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম সিন্ডিকেট।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, গত ৩১ মার্চ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে দুজন এবং অস্থায়ী প্রভাষক পদে দুজনকে নিয়োগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার নিয়োগ ভাইভার পর সহকারী অধ্যাপক পদে দুজন শিক্ষক এবং অস্থায়ী প্রভাষক পদে দুজনের নাম সুপারিশ করে সিন্ডিকেটে পাঠায় সিলেকশন বোর্ড। কিন্তু এক নারী শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে যৌন হয়রানি এবং ওই বছর ও এ বছর প্রভাষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অধ্যাপক আকরাম হোসেন বৈষম্য করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাবি যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলকে অধ্যাপক আকরামের বিষয়ে তদন্তের জন্যে বলা হয়।

একইসঙ্গে প্রভাষক পদের নিয়োগ স্থগিত করা হয়। তবে সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বহাল থাকবে।

একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৮ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিয়োগের ব্যাপারে অধ্যাপক আকরাম হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেন এবং সেই নিয়োগে তাকে সুপারিশ করা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১০ মে ওই নারী শিক্ষার্থী অধ্যাপক আকরামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এ বছর বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের সময় ওই শিক্ষার্থী বিবিএ এবং এমবিএ উভয় পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সত্ত্বেও তাকে নিয়োগের জন্যে অধ্যাপক আকরাম সুপারিশ করেননি।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর দুইটি অভিযোগপত্রের কপি দেশ রূপান্তরের কাছে রয়েছে।

উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষক নিয়োগের আগে অধ্যাপক আকরাম হোসেন তাকে একটি ‘অত্যন্ত অনৈতিক ও ঘৃণ্য প্রস্তাবসহ তার স্পর্শকাতর স্থানে পাশবিকভাবে নির্যাতন করেন।’ ওই মর্মে তিনি তৎকালীন ডিন বরাবর অভিযোগ পেশ করেন। তখন শিক্ষক নিয়োগে তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বাদ দিয়ে তার সমান রেজাল্টধারী দক্ষিণাঞ্চলের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়।

তিনি বলেন, এ বছর শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপনে আমি আবারও আবেদন করি এই ভেবে যেহেতু অধ্যাপক আকরাম তার শিক্ষক ছিলেন, এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু এবারও তাকে বিবিএ ও এমবিএ দুটোতে প্রথম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও বাদ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে তিনি যৌন নিপীড়নের বিচার এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে তার মেধার মূল্যায়নের দাবি জানান।এ বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের আগে অধ্যাপক আকরাম আমাকে একটি অত্যন্ত অনৈতিক ও ঘৃণ্য প্রস্তাব দেন। নিয়োগের ব্যাপারে অধ্যাপক আকরাম হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, স্যার আমাকে বলে ‘এসব ব্যাপারে এতো ‘টেন্সড’ হওয়ার কিছু নেই, আমার যেমন পরিবার আছে তেমনি আমার ব্যাক্তিগত লাইফও আছে।’ এসব শুনে আমি কেঁদে ফেলি এবং বলি, ‘আমার কাছে এসব ঠিক মনে হচ্ছে না।’ আমি উঠে যেতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বসো, কেন ঠিক না?’ একপর্যায়ে তিনি আমার হাত চেপে ধরলে আমি কোনো রকমে রুমের দরজার দুটো ছিটকিনি খুলে বের হয়ে যাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আকরাম হোসেন বলেন, এর আগের নিয়োগ হয় ২০১৮ সালে। সেবার নিয়োগ না পাওয়ায় ২০১৯ সালের মে মাসে তিনি তৎকালীন ডিন বরাবর অভিযোগ করেন। কিন্তু সেই অভিযোগপত্রের ‘রিসিভড কপি’ ছিল না। এ ছাড়া ওই সময় আমি সিলেকশন বোর্ডেও ছিলাম না কিংবা চেয়ারম্যানও ছিলাম না। উনি সুপারিশপ্রাপ্ত হননি বলে আবার তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি

তিনি বলেন, ওনার দুইটি অভিযোগপত্রের মধ্যে দুই ধরনের কথা লেখা রয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। আমাদের দলের কিছু অনুপ্রবেশকারী এ বিষয়ে ইন্ধন দিচ্ছে।

Categories
অপরাধ

বাসরঘরে স্বামীর সহযোগিতায় নববধূ ধর্ষণ!

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বাসরঘরে স্বামীর সহযোগিতায় তাঁর দুলাভাই এক নববধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রধান আসামি সিরাজগঞ্জ সদরের ভুরভুড়িয়া গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালের দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার নববধূ (১৮) ধুনট উপজেলার বিশ্বহারিগাছা গ্রামের এক কৃষকের মেয়ে। একই এলাকার সরোয়া-পাঁচথুপি গ্রামের ফেরদৌস আলমের ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ২৩ মার্চ মেয়েটির বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই রাতেই নববধূকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নেয় বরপক্ষ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নববধূ ও তার স্বামী ফরিদুল বাসরঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ফরিদুলের ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন শরবতের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নববধূকে পান করায়। কিছুক্ষণ পর বাসরঘরের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে নববধূ।

এরপর ফরিদুলের সহযোগিতায় আলমগীর হোসেন সকাল পর্যন্ত নববধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পর দিন (২৪ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে নববধূ ঘুম থেকে উঠে দেখে আলমগীর তার সঙ্গে ঘুমিয়ে আছে। আর তার স্বামী ফরিদুল ইসলাম একই ঘরের পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। নববধূ বিষয়টি তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জানালে তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো নববধূকে মারধর করে। এ অবস্থায় ২৫ মার্চ রাতেও একই কৌশল অবলম্বন করতে থাকে আলমগীর হোসেন। তখন টের পেয়ে নববধূ তার বাবাকে মোবাইলফোনে ঘটনাটি খুলে বললে বাবা তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নববধূর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আলমগীর হোসেন, নববধূর স্বামী ফরিদুল ইসলাম ও শ্বশুর-শাশুড়িকে আসামি করা হয়।ধুনট থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নববধূর শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপর আদালতে তার জবনবন্দি রেকর্ড করা হবে।

Categories
অপরাধ

নাহিদকে কুপিয়ে হত্যা: অস্ত্রধারীরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে কুরিয়ার কর্মী নাহিদ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যাকারীদের দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় তারা সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে একজন হলেন কাইয়ুম, অন্যজনের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তারা দুজনই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির একজন নেতার অনুসারী। সংঘর্ষের ঘটনায় সংগ্রহ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এছাড়া ধারালো অস্ত্র হাতে গত মঙ্গলবার রাস্তায় যাঁদের দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁরাও ঢাকা কলেজের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদেরকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার সংঘর্ষে এলিফ্যান্ট রোডের একটি কম্পিউটার এক্সেসরিজের দোকানের ডেলিভারিম্যান নাহিদ মিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অস্ত্রধারীরা।

ওইদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপের নেতৃত্বে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এই গ্রুপগুলোর নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ নেতা জুলফিকার, ফিরোজ ও জসিম।

Categories
অপরাধ

বিদেশ থেকে ফিরে হতভম্ব স্বামী, স্ত্রীর নামে ঋণ ৬৮ লাখ টাকা

ফ্রান্স প্রবাসী রবিউল আলম সোহেল (৪৫) দেশে ফিরে দেখেন তার স্ত্রী বিভিন্ন এনজিওতে অর্ধকোটিরও বেশি টাকার ঋণ আছে। স্ত্রীর ঋণের বোঝা এখন কাঁধে। ভুক্তভোগী রবিউল আলম সোহেল কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার সোনাইসার গ্রামের বাসিন্দা। সাত বছর পর প্রবাস জীবন শেষে গত জানুয়ারিতে দেশে ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রীর নামে স্থানীয় ৭টি এনজিওতে ৬৮ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। এছাড়া জীবনে যত আয় করেছেন, সবই তুলে দিয়েছেন স্ত্রীর হাতে।

সোহেল বলেন, এই ঋণ পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রেমিটেন্স ঋণ দিলে অবশ্যই প্রবাসে অবস্থানরত ব্যক্তির সাথে কথা বলতে হবে এনজিওগুলোর। তা না করে আমার স্ত্রীকে তারা কীভাবে ঋণ দিলো। সাত বছর পর দেশে এসে আমি নিঃস্ব। আমি জানি আমার স্ত্রী অপরাধী। কিন্তু এনজিওগুলো কীভাবে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে আমার স্ত্রীকে ঋণ দিলো। এখানে অবশ্যই তারা বেনিফিটেড হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রীর সাথে সূক্ষ্ম প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ দিয়েছে এনজিও কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিউল আলমের স্ত্রী মারিয়া আফরিন মোট ৬৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৪৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি আছে ২২ লাখ টাকা। তার স্বামী বলেন, আমি বাড়ি এসে একটি ফোন কলের সূত্র ধরে জানতে পারি, আমার স্ত্রী আমার অগোচরে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, আমার অবর্তমানে আমার স্ত্রীকে কীভাবে তারা এতো টাকা ঋণ দিলো। এখানে এনজিওর ফিল্ড ম্যানেজাররা অবৈধ সুযোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, গত সাত বছর ফ্রান্সে থেকে যে আয় করেছি তা দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছি। এখনো কাজ শেষ হয়নি। এই মুহূর্তে বাড়ি এসে ঋণের কথা শুনে আমি দিশেহারা। আমার এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। স্ত্রীকে ঋণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে বলে এ ঘটনায় সে আত্মহত্যা করবে। আমি এখন কি করবো?

এদিকে এনজিওগুলোর মধ্যে গাকের ফিল্ড অফিসার রিপন জানান, তিনি মারিয়া আফরিনের মোবাইল ফোনে তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেই ঋণ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ফোনের ওই পাশে কে ছিল তা তিনি নিশ্চিত নন। একই কথা বলেন এসএসএস এর ফিল্ড অফিসার বিপ্লব ভদ্র। তিনি বলেন, এসএসএস থেকে মারিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচ বার ঋণ নিয়েছেন। প্রতিবারই ঋণ দেয়ার সময় যতটুকু কাগজপত্র রাখা দরকার। আমরা রেখেছি। এছাড়া সিসিডিএ ভরাসার শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার কাউছার আলম বলেন, মারিয়ার স্বামী ফোনে বলেছেন, তার শ্বশুর সব জানে। মারিয়াকে ঋণ দিলে কোনো সমস্যা নেই। আমরা নিয়ম মেনেই ঋণ দিয়েছি।

Categories
অপরাধ

হেলমেট পরা অস্ত্রধারীরা কোথায়?

পুরনো চেহারায় নিউ মার্কেট। ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থী সংঘাতে প্রাণ হারানো দুই পরিবারে আহাজারি। শোকের পাশাপাশি পরিবার দুটির সামনে গভীর অনিশ্চয়তা। কী করে সামনের দিনগুলো চলবে তারা জানেন না। এখনও তাদের পাশে তেমন কেউ দাঁড়ায়নি। কোনো জনপ্রতিনিধি বা ব্যবসায়ী নেতা তাদের বাসায় গেছেন এমন খবরও পাওয়া যায়নি।

সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিউ মার্কেট থানা বিএনপির সাবেক এই সভাপতির মার্কেটে দুটি দোকান রয়েছে। কিন্তু দুটি দোকানই ছিল ভাড়া দেয়া। কয়েকমাসে তিনি নিউ মার্কেট যাননি বলেও দাবি করেছেন। মকবুল হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

সহিংসতার ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও এবং স্থিরচিত্র এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সংঘর্ষের দিন হেলমেট মাথায় অস্ত্রধারীদের সক্রিয় দেখা গেছে ওই এলাকায়। দোকান কর্মচারী এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেকে হেলমেট পরা ছিলেন। তাদের কারও কারও কাছে অস্ত্রও দেখা গেছে। নাহিদকে অস্ত্রধারীর কোপানোর ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু ওই অস্ত্রধারী এখনও আইনের আওতায় আসেনি। তাছাড়া, ওই অস্ত্রধারীর পাশে হেলমেট পরা আরও কয়েকজন তরুণকে দেখা গেছে। তাদের শনাক্তের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি। নাহিদ কীভাবে নিহত হলেন তা অনেকটাই স্পষ্ট।

যদিও তিনি ঘটনার মধ্যে পড়ে যান নাকি সংঘাতে অংশ নিয়েছিলেন তা নিয়ে দুই ধরনের মতামত রয়েছে। দোকান কর্মচারী মুরসালিন ঠিক কিভাবে নিহত হলেন তা অবশ্য এখনও খোলাসা হয়নি। ঢাকা কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও গুরুতর আহত হয়েছেন। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন অনেকে। সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেক প্রশ্ন ওঠেছে।