Categories
এক্সক্লুসিভ

‘বন্দুকযুদ্ধে’ পা হারানো সেই ছাত্রদল নেতা এবার নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে আটক

গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এই ঘটনার পর কেটে ফেলা হয় তার একটি পা। স্ট্রেচারে ভর দিয়েই চলাফেরা  করতে হয় তাকে। সেই পঙ্গু ছাত্রদল নেতাকে এবার পুলিশ নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে আটক করেছে। পুলিশের দাবি, গত সোমবার রাতে পাঁচলাইশ থানাধীন রহমান নগর এলাকায় সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ নাশকতার প্রস্তুতিকালে সাইফুলকে আটক করা হয়েছে। তবে সাইফুলের পরিবারের দাবি, একটি রাজনৈতিক মামলায় হাজিরা দিয়ে চট্টগ্রাম আদালত ভবন থেকে বের হতেই তাকে আটক করে পুলিশ। গতকাল সকালে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্রদল নেতা ‘বার্মা সাইফুল’ পাঁচলাইশের রহমান নগরে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ নাশকতা করতে জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। পরে সেখান থেকে সাইফুলকে তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেন (২১), মো. আবিদ (২০), মো. সাজ্জাদ (২০) ও মো. ইমরানসহ (২২) আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫টি দেশি ছোরাও উদ্ধার করা হয়। আটক সাইফুল পাঁচলাইশ এলাকার হিলভিউ আবাসিক সংলগ্ন বার্মা কলোনির নুরুল আমিনের পুত্র।

তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর, নাশকতাসহ ৯টি মামলা আছে। তবে সবগুলো মামলায় আদালত থেকে জামিনে আছেন তিনি। নাশকতার প্রস্তুতিকালে সাইফুলকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তার ভাই সুজন মানবজমিনকে বলেন, গত বছরের জুনে পুলিশ আমার ভাইকে বাসা থেকে নিয়ে পায়ে গুলি করে বন্ধুকযুদ্ধের নাটক সাজায়। ওই ঘটনায় তার একটা পা কেটে ফেলা হয়েছে। আড়াই মাস সে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সেখান থেকে পরে পুলিশের মামলায় আটক দেখিয়ে চট্টগ্রাম কারাগারে নিয়ে আসা হয়। কারাগারে ৯ মাস থাকার পর দুই মাস আগে জামিন নিয়ে বাসায় আসেন। এরপর থেকে ঘরবন্দি আমার ভাই। স্ট্রেচার দিয়েও ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। কোলে করে গাড়িতে তুলে ডাক্তারের কাছে নিতে হয়, মামলার হাজিরা দিতে নিতে হয়। সে নাশকতা চালাতে লোকজন নিয়ে রাস্তায় ঘুরবে সেই কথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না।’ সুজন বলেন, ‘আসল কথা হচ্ছে আমার ভাই একটা বিস্ফোরক মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম কোর্টে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় একই মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়া আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। সারা রাত ধরে আমরা তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি। থানায় গিয়ে বসেছিলাম। পুলিশের সাফ কথা সাইফুল নামে কাউকে তারা আটক করেনি। এখন সকালে এসে বলছে নাশকতার প্রস্তুতিকালে রহমাননগর থেকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, ‘গত বছর বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে সাইফুল ইসলামকে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়। এখন মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় আবার আটক করে নাশকতার গল্প বানানো হচ্ছে। শুধুমাত্র ছাত্রদল করার কারণে তাকে এভাবে নির্যাতিত হতে হচ্ছে।’ নগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলে, ‘সাইফুল ছেলেটা গত বছরের জুনে পুলিশের গুলিতে একটা পা হারিয়েছিলেন। ওই অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিছুদিন আগেই জামিনে মুক্তি পান। সাইফুল একজন সাহসী ছাত্রদল নেতা। যে কারণে সে বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে। এদিকে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিনকে কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে এই বিষয়ে থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম বলেন, আটক সাইফুল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। নাশকতার প্রস্তুতিকালেই তাকে আটক করা হয়েছে।

Categories
এক্সক্লুসিভ

কমলাপুরে জটলা দেখতে গিয়ে ফাঁসির আসামি, বিনা দোষে ১৬ বছর কারাবাসের পর মুক্তি

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির ফেসবুকে লিখেছেন এই লোমহর্ষক বিবরণী। কীভাবে একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি কমলাপুরে জটলা দেখতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন খুনের মামলায়। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডও হয় তার। পড়ুন শিশির মনিরের বর্ণনায়-
১। অসহায়-দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানের তাগিদ অনুভব করছিলাম। কিন্তু বঞ্চিতদের সংখ্যা অনেক বেশি? তাহলে কিভাবে দিব? কেমনে নির্ধারণ করব? ফাইল পাব কোথায়? প্রকৃত ভুক্তভোগী কোথায় পাব? এই চিন্তা করে কিছু সময় কেটে গেল। তেমন কোন সমাধান পেলাম না। তাই বলে বসে থাকা যায় না। অবশেষে ঠিক করলাম সর্বাগ্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের জন্য কাজ করব। কারণ এরাই সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় আছে।

এরই অংশ হিসেবে আমার চেম্বারের জুনিয়র এবং হাইকোর্টের এডভোকেট নবাব অলী ভাইকে নিয়ে মিটিং করে সুনির্দিষ্ট কাজ ঠিক করলাম। আমার সহকারী নয়নকেও কাজ দিলাম। প্রথমেই ডেথ রেফারেন্স কোর্টের মামলার লিস্ট সংগ্রহ পর্যালোচনা করা হল। বেশ কিছু মামলায় কোন আইনজীবী ছিল না। আসামী জেল থেকে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল দায়ের করেছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র ডিফেন্স আইনজীবী নিযুক্ত করেছে। এই সকল মামলা নবাব আলী ভাই বাছাই করলেন। অতঃপর সেকশন থেকে পেপারবুক সংগ্রহ করা হল। পেপারবুক পড়ে মামলার ঘটনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হল।কিছু মামলা নির্ধারণ করে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করা হল। অনেকের কেউ নাই। তাদের জন্য জেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেয়া হল।
৩। প্রতিটি মামলা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে রয়েছে বিচিত্র অভিজ্ঞতা। তন্মধ্যে শংকর দেবনাথ@আনোয়ার স্মৃতিতে অম্লান। আজকে শুধু এই মামলা নিয়েই লিখব।

৪। এই মামলার পেপারবুক হাতে পেয়ে বার বার পড়লাম। ঘটনার বর্ণনা পড়ে গা শিহরিয়া উঠল। Horror সিনেমার মত বীভৎস বর্ণনা। যতই পড়ি ততই অবাক হই। আর ভাবী এটি কিভাবে সম্ভব! কিন্তু আইনজীবী হিসেবে অবাক হলেই ত হবে না! দেখাতে হবে প্রমাণ। সাক্ষী-সাবুদ। সেজন্য দরকার বার বার পড়া। ফিকির করা। গবেষণা করা। নজির খুঁজা। আমার জুনিয়র বন্ধু ইমরানকে বার বার পড়তে বললাম। রিসার্চ করতে দিলাম। নজির বের করার দায়িত্ব দিলাম। বেশ খাটাখাটি করল।প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম শংকরের জন্য আমরা সংগ্রাম করব।

৫। আসামির পরিচিত একজনকে পেলাম। তার নাম এডভোকেট আলমগীর। জেলে থাকা আবস্থায় তার সাথে পরিচয়।তিনি ঢাকা জজ কোর্টে ওকালতি করেন। নবাব আলী ভাই তার মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওকালাতনামা ব্যবস্থা করলেন। জেল আপিলকে নিয়মিত আপিলে রুপান্তর করার জন্য দরখাস্ত দিলাম। আদালত মন্জুর করলেন। মামলাটি নিয়মিত আপিলে পরিণত হল। নতুন নম্বর পরল। এরই মধ্যে আদালত ১৫ দিনের জন্য ছুটি হয়ে গেল। সময় নিয়ে গভীরভাবে পড়ার সুযোগ পেলাম।

৬। পড়াশুনা করে আমরা মোটামুটি বুঝতে পারলাম বর্ণনা যত বীভৎসই হউক না কেন এই আসামী নির্দোষ। সাক্ষী-সাবুদ কোন কিছুই সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। সে পরিস্থিতির স্বীকার। খুঁজাখুজির এর পর্যায়ে নজির পাওয়া গেল। আমাদের দেশের ৩টি আর ভারতীয় ২/৩ টি। সেগুলো ভালভাবে পড়লাম। কাছাকাছি আলোচনা। সত্যিই লিগ্যাল রিসার্চ অনিন্দ্য সুন্দর। এই কাজ করার জন্য দরকার গভীর মনোযোগ, কৌতুহলি মন এবং অগাধ ধৈর্য।

৭। মামলার শুনানি শুরু হল। প্রথমেই রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ পেপারবুক পড়ে শুনাল।মাননীয় বিচারকগণ নানান প্রশ্ন করলেন। রাষ্ট্রপক্ষ সঠিক সন্তোষজনক জবাব দিতে পারল না। এডভোকেট নবাব আলী বসে বসে নোট নিল। দিন শেষে আমাকে ব্রিফ করত। আমরা জবাবের জন্য প্রস্তুতি নিলাম। ৫/৬ দিন পর আমার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আসল।

৮। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পূর্বে ঘটনাটি সংক্ষিপ্তভাবে বলে নেয়া ভাল। আজ থেকে ১৬ বছর আগে কমলাপুর রেলস্টেশনের ৭ নম্বর প্লাট ফর্মের কাছে শংকর দেবনাথকে একটি দ্বিখণ্ডিত মাথাসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। মাথাটি তার হাতে ব্যাগের ভিতর পাওয়া যায়। সাথে কিছু ঘাসও ছিল। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে যায়। দুইদিন পর তাকে ঢাকার মেজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে। শংকর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তার স্বীকারোক্তি মতে জাকির নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর থেকে। গ্রেফতারের পর শংকরকে নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুরের শালবনে। সেখান থেকে লাশের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মে তারা দুজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তাদের ভাষায় একজনকে ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য একটি অনাথ ছেলেকে ব্লেড দিয়ে গলা কাটে। অতঃপর লাশের মাথা ব্যাগে রেখে দেয়। এমন সময় উপস্থিত লোকজন তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলে।খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। তখন থেকেই সে জেলে আছে। আর কোনদিন জামিন পায় নাই। ৭/৮ বছর কোন সাক্ষী আসে নাই। ৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়ে ঢাকার আদালত তাদের দুইজনকে ফাঁসির আদেশ দেয়।রায়ের প্রায় ৭ বছর পর Death Reference শুনানির জন্য হাইকোর্টে কার্যতালিকায় আসে।

৯। আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল। ৬টি নজির দিয়ে একটি রিসার্চ bundle বানিয়ে ৪ কপি করলাম। এক কপি রাষ্ট্রপক্ষ। দুই কপি দুইজন বিচারক ও আরেক কপি আমার নিজের। তার আগে মামলার মূল রেকর্ড কয়েকবার পর্যালাচনা করলাম। আমি ও আমার জুনিয়র ইমরান সামি তন্ন তন্ন করে পাতায় পাতায় খুঁজলাম। বার বার দেখলাম।হঠাৎ চোখে পরল অস্বাভাবিক একটি বিষয়। সকল কিছু মিলিয়ে কৌশল ঠিক করে রেখেছিলাম। সেভাবেই শুরু করলাম। নিম্নোক্ত তিনটি point এ যুক্তি উপস্থাপন করলামঃ

ক। এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর আইনগত কোন মূল্য নেই।
খ। এই জবানবন্দী আমার নয়।
গ। বেকসুর খালাস চাই এবং আমার জীবনের মূ্ল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য ক্ষতিপূরণ/পুনর্বাসন চাই।

বুঝার সুবিধার্থে বিষয় তিনটি আলাদা করে আলোচনা করছিঃ

আইনগত মূল্য নাই

ক। একটি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী গ্রহণ করার আগে দুটি অনিবার্য বিষয় পরীক্ষা করতে হয়। যথাঃ এটি স্বেচ্ছায় করা হয়েছে কি না? এবং এটি সত্য কি না? এই দুটি শর্ত একসাথে পুরণ করতে পারলেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করা যাবে এবং এর আলোকে শাস্তি দেয়া যাবে। অন্যথায় এই জবানবন্দীর ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। বললাম,’My Lords, these two conditions are inseparable twin. Prosecution must prove that the confessional statement is voluntary and true. These two conditions are concomitant side of the same coin. I will show your Lordships that it was neither voluntary nor true.’ সিনিয়র বিচারক বললেন,’আচ্ছা দেখান। কিভাবে দেখাবেন?’ প্রথমেই বললাম,’ আইনে আছে ২৪ ঘন্টার বেশি কাউকে পুলিশ হেফাজতে রাখা যাবে না। যদি রাখে এবং তারপর স্বীকারাক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে তাহলে ঐ জবানবন্দীর আইনগত মূল্য নাই। কারণ এ সময় তাকে illegal detention এ রাখা হয়েছিল। জজ সাহেবরা মাথা নাড়ালেন।আমি রেকর্ড থেকে দেখালাম তাকে ৪৮ ঘন্টার বেশি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। গ্রেফতার করার পর তাকে গাজীপুরের শালবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে লাশের কঙ্কাল উদ্ধার করার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তারপর ঢাকায় নিয়ে আসে। তারও একদিন পর আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এই বিলম্বের কারণে আদালতের কোন অনুমতি নেয়া হয় নাই। জজ সাহেব বললেন,’কোন নজির আছে।’ সাথে সাথে উত্তর দিলাম,’Yes My Lords. I have prepared thin bundle for your kind assistance. In this bundle there are two earlier decisions from our Supreme Court (Appellate Division) and one decision from our High Court Division. In all these cases our apex Courts were pleased to acquit the condemned prisoners who were kept in police custody for more than two days.’ বিচারপতি মহোদয়গণ আমার সাথে সাথে নজিরসমূহ পড়লেন। আমি বললাম,’ My Lords, may I invite you to the page No…. and line no…..’ Both the Judges replied ‘yes.’ Then I read out those paragraphs and the Hon’ble judges also read those lines carefully and noted in their notebook. অতএব, এই জবানবন্দী voluntary নয়। এর উপর ভিত্তি করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।

জবানবন্দী আমার নয়

খ। পরবর্তী point এই জবানবন্দী আমার নয়। এই ভাষ্য সত্য নয়। জজ সাহেব বললেন, কেন বলছেন? My Lord, দুই কারণে বলছি। এক. দেখুন এই জবানবন্দীর নিচে প্রদত্ত স্বাক্ষর কার? দুই. এই মাথা আর এই কঙ্কাল কার? মাথা তরুতাজা কিন্তু শরীর পুরানো কেন? ডাক্তারের পরীক্ষা কি বলছে?

এক. এই জবানবন্দীর মূল স্বাক্ষরটি দেখেন। এই কথা বলে আমি LCR (Lower Court Record) দেখার অনুরোধ করলাম। বিচারকদের হাতে তুলে দিলাম। বললাম,’ দেখেন My Lords, এই জবানবন্দী যার হাতের লেখা এই স্বাক্ষরও তারই হাতের লেখা। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব নিজেই স্বাক্ষর দিয়েছেন এই কথা আমি বলছি না। আমি বলছি একই হাতের লেখা। তাহলে কে লিখল? মেজিস্ট্রেট? আমি? নাকি পুলিশ? যেই লিখুক এটি বেআইনী। জালিয়াতি। গভীর মনোযোগ দিয়ে দুইজন বিচারপতি বার বার দেখলেন। চিন্তায় পরে গেলেন। কি করে হয় এটা? আমাকে আবার দেখতে বললেন। আমিও দেখলাম। রাষ্ট্রপক্ষ দেখল। সবাই অবাক করে তাকিয়ে রইল। শুনশান নীরবতা। বললাম হস্তলেখা বিশারদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা দরকার। আপনারা নিজেরাও খালি চোখে দেখে বুঝতে পারছেন। আবারও নোট নিলেন। আমি বললাম,’ My Lords, fraud has been practiced upon me and fraud vitiates everything. I have been put to condemned cell based on this fraud. Golden period of my life already passed. Who will be responsible for this irreparable loss? 16 years I am in jail. I was a young man and now I am 42 years old. Who will return those days? Can it be compensated by money? Who can replace my life?’ অনুভব করলাম বিচারকরা বেশ আবেগ প্রবণ হয়ে গেলেন।

দুই. এই লাশ আর এই মাথা এক নয়। দেখেন ডাক্তারের মতামত অনুযায়ী মাথার বয়স আনুমানিক ৮ বছর আর কঙ্কালের বয়স আনুমানিক ১৬ বছর। ঘটনা ঘটেছে আগেরদিন পরেরদিন দেহ কঙ্কাল হল কেমনে? কোথায় পেল সেই কঙ্কাল? মানবদেহের মাংস কি একদিনে পঁচে যায়? কঙ্কাল হয়ে যায়!! মেডিকেল সাইন্স কি বলে? এই কথা বলে Modi’s A Textbook of Medical Jurisprudence and Toxicology বই দেখালাম। পড়ে শুনালাম। কোনভাবেই সম্ভব না। তাহলে এই হাড্ডি কার? রাষ্ট্র DNA পরীক্ষা করল না কেন? কেন নির্ধারণ করেনি? না করেই আমাকে আসামী করল কিভাবে? এটাও প্রতারণা। বিচারকরা বেশ নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। আমি শুধু বললাম,’My Lords, this is an unique case for compensation. This person needs to be rehabilitated by the state. State can not ignore responsibility. Your Lordship should look into this aspect very seriously. It is miscarriage of Justice.’

ক্ষতিপূরণসহ খালাস

গ। খালাস আর ক্ষতিপূরণ। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাকে বেখসুর খালাস দেন। একই সাথে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেন। নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেন। আমাদের আলোকিত করেন। আপনাদের মহানুভবতা প্রতিষ্ঠিত হউক। কারণ miscarriage of Justice হয়েছে। এখানে খালাসই যথেষ্ট নয়। তার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া সময় কেউ ফেরত দিতে পারবে না। তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে আমরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারি। অন্যায় করা হয়েছে। তার জীবন শেষ করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে সেই দায় নিতে হবে। দায় স্বীকার করে অনুতপ্ত হতে হবে। ভবিষ্যতে নজির হয়ে থাকবে। এই কথা বলে একটি দরখাস্ত দেখালাম। এটি ছিল ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের দরখাস্ত। জজ সাহেব বললেন,’ বাহ! শুধু খালাসই চান না, ক্ষতিপূরণও চান।’ বললাম Yes, My Lords.’

১০। যুক্তিতর্ক শেষে জজ সাহেব রায়ের দিন ঘোষণা করার জন্য ফাইল নিলেন। তখন কথা উঠল ক্ষতিপূরণের দরখাস্তের কি হবে? জজ সাহেব বললেন,’ এই ধরনের নজির কি আছে? আমি বললাম জি আছে। আমার দেয়া Bundle টি দেখেন। আবার শুনানি শুরু হল। দুটি নজির দেখালাম। একটি আমাদের দেশের অন্যটি ভারতের। আমাদের দেশের নজিরটি রিট এখতিয়ারে দেয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা আছে। আর ভারতের নজিরটি ফৌজদারি এখতিয়ারে দেয়া হয়েছিল। দুটো রায় থেকে পড়ে শুনলাম। জজ সাহবে একমত হলেন। রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বললেন,’ আছে ত নজির। এটি শুরু হওয়া দরকার। নতুন ধারণা। নতুন চিন্তা। এভাবেই Jurisprudence develop করে। এখানে miscarriage of Justice হয়েছে। তাই খালাসই যথেষ্ট নয়। ‘ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাঁড়িয়ে সময় চাইলেন। বললেন,’ My Lords, মাননীয় Attorney General বিষয়টি জেনেছেন। তিনি এই বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। তিনি ৩ সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। কারণ বিষয়টি আমাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। খালাসের পর ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন নতুন ক্ষেত্র খুলে দিবে।

১১। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হল। অন্য আসামীর জন্য আরেকজন আইনজীবী ছিলেন তিনি বললেন, My Lord, রায়ের দিন নির্ধারণ করে দেওয়াই ভাল। তাছাড়া আদালত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্ধের আগেই রায় ঘোষণা হওয়া জরুরী।জজ সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,কি করব? বলেন? আমিও রাজি হয়ে গেলাম।রায়ের দিন নির্ধারণ করে দিলেন।

১২। আগে থেকেই বুঝতে পারছিলাম খালাস পাব। ক্ষতিপূরণ নিয়ে তিনি কি বলেন সেটা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। রায়ের দিন সবাই হাজির। জজ সাহেব ঘোষণা করলেন, ‘ফাঁসির আদেশ বাতিল করা হল। দুইজনকেই বেকসুর খালাস প্রদান করা হল। এই মামলায় miscarriage of Justice হয়েছে। আসামীরা চাইলে আলাদাভাবে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন চাইতে পারে। একই সাথে ২১ জন পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দিলেন।’ বললেন,’ রায়টি আমি তাড়াতাড়ি নামিয়ে দিব।’

১৩। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করল না। প্রায় দুই মাস পর হঠাৎ নবাব আলী ভাই জানাল শংকর মুক্তি পেয়েছে। তার সাথে ফোনে কথা হয়েছে। শুনে মনটা আনন্দে নেচে উঠল। খুবই পুলকিত বোধ করলাম। এডভোকেট আলমগীরের সাথে কথা হল। বললাম, আমি তাকে দেখতে চাই। কথা বলতে চাই। একবার নিয়ে আসেন। বলল পরের দিন নিয়ে আসবে।

১৪। এনেক্স ৭ নম্বর কোর্টে বসে আছি। নবাব আলী ভাই ফোন দিয়ে বলল আলমগীর ভাই ও শংকর দেবনাথ@আনোয়ার দেখা করতে আসছে।নিজের অজান্তেই চোখের কোনে পানি এসে গেল। ভাবতে লাগলাম দেখতে কেমন সে? কোনদিন ত দেখিনি! তার চেহারা কেমন হবে? এতদিন মৃত্যুর সেলে থাকার পর তার অনুভুতি কেমন হবে? মুক্তির পরই বা কেমন অনুভূতি তার? অবচেতন মনে ভাবতে ভাবতে সে এসে গেল। আলমগীর পরিচয় করিয়ে দিল। আমি উঠে কোলাকুলি করলাম। অন্য রকম অনুভূতি। ভাষায় সব প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনেক কথোপকথনের পর জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছিল? কেন আপনাকে গ্রেফতার করল? তখন বললঃ

স্যার, আমি নতুন মুসলমান হয়েছিলাম। ঢাকায় মেসে থেকে দর্জির কাজ করতাম। কমলাপুর রেল স্টেশনের পাশে নতুন ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কৌতুহল বশতঃ বিকালে দেখতে গিয়েছিলাম। হাটাহাটি করতে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম কিছু মানুষ জড়ো হয়ে কি যেন দেখছে? আমিও দেখতে গেলাম। দেখি ট্রেনে কাটা পরা একটি মাথা সবাই ভীড় করে দেখছে। আমিও উৎসুক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। পুলিশ এসে সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করল। আমাকেও গ্রেফতার করল। অন্যদের অভিভাবক বা আত্মীয়-স্বজনরা এসে ছুটিয়ে নিয়ে গেল। আমার কেউ নাই। আমার জন্য কেউ আসল না। আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাইল। আমি দিতে পারি নাই। তাই আমার এই অবস্থা স্যার। বলতে বলতে সকলেরই চোখ ঝাপসা হয়ে গেলো।

Categories
এক্সক্লুসিভ

নেত্র নিউজের দাবি অস্বীকার র‍্যাবের

বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ১০ বছর পূর্তির সময়ে নতুন এক তথ্য হাজির করেছে নেত্র নিউজ। সুইডেন ভিত্তিক এই অনলাইন মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেয়ার সঙ্গে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবকে দায়ী করা হয়েছে। নেত্র নিউজের এই তথ্য প্রকাশের পর এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাও বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়েছিল এটা নিশ্চিত। ঘটনার পর ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এটি লোক দেখানো ছিল বলেও তিনি মনে করেন।

নেত্র নিউজের প্রতিবেদনের বিষয়ে র‌্যাব’র তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়নি। নেত্র নিউজের খবরে বলা হয়, আলোচিত এই গুমের ঘটনায় খোদ র‍্যাব’র গোয়েন্দা শাখা বা ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সম্পৃক্ততা পেয়েছিল সংস্থাটিরই আরেকটি শাখা: র‍্যাব-১। অপহরণের স্থানটি তাদের আওতাধীন হওয়ায় গুম হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঘটনাটির তদন্তে নামে র‍্যাব-১। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মানবজমিন এর পক্ষ থেকে যোগযোগ করা হলে র‌্যাব’র লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নিউজে তাদের দেয়া অধিকাংশ তথ্যই ভিত্তিহীন মনে হয়েছে।

তারা নিজেদের মতো করে তথ্য উপস্থাপন করেছেন। নিখোঁজ এই নেতার পরিবারকে র‌্যাব’র পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা শুরু থেকেই করা হয়েছে। এখনো যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে র‌্যাব।
নিউজে বলা হয়, গোপন একটি নথিতে র‍্যাব-১ কর্মকর্তারা তাদের তদন্তের বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তদন্তে এই গুমের সঙ্গে র‍্যাব-এ কর্মরত সামরিক বাহিনী থেকে ডেপুটেশনে আসা কয়েকজন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। সমপ্রতি গোপন এই নথিটি নেত্র নিউজের কাছে একজন সামরিক কর্মকর্তা ফাঁস করেছেন বলে দাবি করে নেত্র নিউজ।

এ বিষয়ে র‌্যাব’র মুখপাত্র আল মঈন বলেন, নিউজে তারা নিজেদের মতো করে তথ্য দেখিয়েছেন। যখন ইলিয়াস আলীকে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে আমরা খোঁজ করেছি।
নেত্র নিউজের খবর অনুযায়ী র‍্যাব-১ তদন্তকারীরা গোপন নথিতে লিখেছেন, ইলিয়াস আলীর অপহরণের ঘটনাটি সূক্ষভাবে পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় এটি একটি সুপরিকল্পিত অভিযান যা র‍্যাব’র গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক সংঘটিত হয়েছে। ইলিয়াস আলীকে অপহরণের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিতি ছিল এমন তিনটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে র‍্যাব-১ তদন্ত শুরু করে। এই তিনটি নম্বরের কল ডেটা রেকর্ড বা সিডিআর বিশ্লেষণ করে আরও পাঁচটি নম্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। এই আটটি নম্বরই ছিল সিটিসেল-এর। তখন সিডিএমএ মোবাইল অপারেটর হিসেবে সিটিসেল-এর নম্বরে আড়িপাতার সক্ষমতা না থাকায় তদন্তকারীরা শুরু থেকেই সিটিসেলকে মাথায় রেখেছিলেন। সিটিসেলের মোট আটটি নম্বরই ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে উত্তরার দেশ টেলিকম নামে একটি দোকান থেকে কেনা হয়েছিল।

১৭ই এপ্রিল রাত ১১ টার পর সবগুলো নম্বর চালু করা হয়। ১৮ই এপ্রিল রাত ১ টার মধ্যেই সবগুলো নম্বর বন্ধ করে ফেলা হয়। অর্থাৎ, ইলিয়াস আলীকে অপহরণের আগে-পরের মাত্র ৩ ঘণ্টা এই নম্বরগুলো সক্রিয় ছিল। আটটি নম্বরের ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যেই কথা বলেছেন।
এ বিষয়ে র‌্যাব’র এই কর্মকর্তা বলেন, প্রকাশিত নিউজে কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করা, মেসেজ দেখানো এগুলো আসলে ভিত্তিহীন। আমাদের জানা মতে এ রকম কিছু নেই।

নেত্র নিউজের খবরে বলা হয়, অপহরণের অভিযানে তিনটি দল কাজ করছিল। একটি দল ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে অপহরণের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এই দলের ব্যবহৃত চারটি নম্বর এয়ারপোর্ট ও জোয়ার সাহারা এলাকায় চালু করা হয়। আরেকটি দল হোটেল রূপসী বাংলা বা শেরাটন থেকে ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করছিল এবং অপহরণকারী টিমকে ইলিয়াস আলীর গতিবিধি সম্পর্কে অবহিত করছিল। তৃতীয় আরেকটি দল ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টার বা এনএমসি থেকে অপহরণকারী টিমকে সার্বক্ষণিক মোবাইল মনিটরিং সুবিধা প্রদান করছিল।

এসবের পরই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, এই অপহরণের সঙ্গে সরকারি কোনো সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে তখনও তারা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কারা এই অপহরণ করেছিলেন। র‌্যাব-১ নথিতে লিখে, ২০১২ সালে বাংলাদেশে একই সঙ্গে গোয়েন্দা কাজ পরিচালনা, গ্রেপ্তার ও এনএমসি’র সহায়তা পাওয়ার ক্ষমতা ছিল শুধুমাত্র র‍্যাব ও ডিবি পুলিশের। তদন্তকারীরা তিন নম্বর প্রশ্নের উত্তর হিসেবে খোঁজেন অপহরণের সময় এনএমসিতে কে বা কারা অবস্থান করছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ঘটনার সঙ্গে র‍্যাব’র ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে এ সংক্রান্ত নথিপত্রও পাওয়ার দাবি করে এই অনলাইন নিউজ পোর্টাল।

নেত্র নিউজের এই তথ্য সম্পর্কে র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, এ বিষয়ে নিখোঁজ এই বিএনপি নেতার স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর গণমাধ্যমকে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, র‌্যাব তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তার স্বামীকে খুঁজেছে। চেষ্টা করেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের মন্তব্যের প্রভাবে তিনি হয়তো বলে থাকতে পারেন। তিনি যখনই এসেছেন তাকে সবসময়ই র‌্যাব’র পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয়েছে। নেত্র নিউজের খবরে বলা হয়, ঘটনার সময় র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের দুই কর্মকর্তা এনএমসিতে ছিলেন। তাদের একজন ১৭ই এপ্রিল রাত ১০টা ৫০ মিনিটে এনএমসিতে যান এবং রাত ১১টা ১২ মিনিটে সেখান থেকে বের হয়ে যান। আরেকজন ১৮ই এপ্রিল রাত ১টা ৪০ মিনিটে এনএমসিতে যান এবং রাত ৩টা ৫ মিনিটে সেখান থেকে বের হয়ে যান।

সে সময় র‍্যাব’র ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত দুই কর্মকর্তার এনএমসিতে অবস্থান থেকে ধারণা করা যায় যে, তারা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের “অভিযানে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। যদিও তারা ইলিয়াস আলীর অপহরণের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

ইলিয়াস আলীকে অপহরণের মাত্র কয়েকদিন আগেই সিলেটের ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ দিনার ও জুনেদ আহমদকে গুম করে উত্তরায় অবস্থিত র‍্যাব’র টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন বা টিএফআই সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। টিএফআই সেলে দিনার ও জুনেদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ইলিয়াস আলীকে অপহরণের পরিকল্পনাটি সাজানো হয়। র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন বলেন, অনলাইন পোর্টালটি তাদের যে ভিডিও দেখিয়েছেন এবং এখানে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো একদম ভিত্তিহীন। তারা হয়তো যোগ-বিয়োগ করে এ ধরনের নিউজ করেছেন। এখানে ইনফরমেটিভ হিসেবে কিছু পাওয়া যায়নি। এগুলো ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টার (এনএমসি) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) সবাই জানে।

অভিযোগের বিষয়ে সে সময়কার র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংগের প্রধান বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান নেত্র নিউজকে বলেছেন, কেউ একজন ভুয়া ও বানোয়াট তথ্য দিয়েছে। গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বরং, তাদের দেয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্য ও স্ত্রীকে নিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে। তিনি আরও জানান, আমি দুনিয়ার কোথাও নিজ চোখে ইলিয়াস আলীকে দেখিনি। অতএব, বিমানে তার উপর নজরদারি করার প্রশ্নই আসে না। এ র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন মানবজমিনকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে ভিকটিম পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। যিনি হারিয়ে গেছেন তাকে খুঁজে বের করতে যা যা প্রয়োজন সেটা কিন্তু আমরা করছি। একই ভাবে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী যেভাবে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং যখন যেটা বলেছেন র‌্যাব কিন্তু তাকে সেভাবে সহযোগিতা করেছে। এখন পর্যন্ত যদি এরকম কোনো তথ্য পাওয়া যায় বা আসে এবং পরিবার থেকে বলা হয় আমরা কিন্তু সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সুইডেন-ভিত্তিক অনলাইন পোর্টালে হওয়া নিউজের বিষয়ে র‌্যাব কোনো আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব’র এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণত তথ্য, পররাষ্ট্র অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে থাকে। এগুলো তারা কানেকটেড করে নিউজ করেছেন। তারা যেভাবে যোগ-বিয়োগ করে নিউজ করেছে এভাবে করার কিছু নেই। এই পোর্টালটি নিয়মিত কিছু না কিছু প্রকাশ করে যাচ্ছে। তাদের করা এই নিউজটি যদি তারা দেশের ভেতরে থেকে প্রকাশ করতেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত। বিদেশে বসে এ ধরনের নিউজ করলে অনেক ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কিছু করার থাকে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রেক্ষাপটগুলো তুলে ধরে জবাব দেয়া হয়।

Categories
এক্সক্লুসিভ

৬০ বিঘার ওপর জমি থাকলে বাজেয়াপ্ত

ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে ৬০ বিঘার বেশি জমি অর্জন না করার বিধান রেখে ভূমি সংস্কার আইন-২০২২ প্রণয়ন করা হচ্ছে। দেশের কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এর বেশি জমির মালিক হলে অতিরিক্ত জমি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। বিশেষায়িত শিল্প, জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমসহ বিশেষ ক্ষেত্রে ৬০ বিঘার বেশি জমি অর্জনের বিধান রাখা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চূড়ান্ত অনুমোদনের সুপারিশ করে আইনের খসড়াটি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভায় খসড়াটি উপস্থাপন করা হতে পারে।
ভূমি সংস্কার আইনের খসড়ায় ছয়টি অধ্যায়ে ২৬টি ধারায় দুই থেকে আড়াইশ উপধারা রয়েছে। এর মধ্যে কৃষিজমি অর্জন সীমিতকরণ, স্থায়ী সম্পত্তির বেনামি লেনদেন/হস্তান্তর বন্ধ করা, বাস্তুভিটা, বর্গাধার, সায়রাত মহলের বিষয় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ সমকালকে বলেন, ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশকে ভূমি সংস্কার আইনে পরিণত করা হচ্ছে। এতে জমির বিতরণ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুষ্টিমেয় মানুষ দেশের সিংহভাগ জমির মালিক হওয়ার সুযোগ পাবে না। এ কারণে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে ৬০ বিঘা পর্যন্ত জমি ক্রয় বা অর্জনের সিলিং নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যারা এর বেশি জমির মালিক হবেন, তাদের অতিরিক্ত জমি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে সরকার বা সরকারপ্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ৬০ বিঘার ঊর্ধ্বে জমি অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার দাস সমকালকে বলেন, আইনটি প্রণয়নের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা-উপজেলা প্রশাসন থেকে সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়, কেউ ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমির মালিক হওয়ার বিষয়টি গোপন করলে তাকে অতিরিক্ত জমির মূল্য প্রদান না করেই অতিরিক্ত জমি বাজেয়াপ্ত করা হবে। আর যারা ৬০ বিঘার জমির মালিক হয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত জমির ঘোষণা দেবেন, সরকার তাদের অতিরিক্ত জমি ক্রয় করবে সেখানকার মৌজা রেট অনুযায়ী।

যিনি গোপনে ৬০ বিঘার বেশি জমি সংরক্ষণ ও ভোগদখল করছেন- তাদের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেলে সরকার অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তির অতিরিক্ত জমি বাজেয়াপ্ত করবে। দেশের যে কোনো নাগরিক সরকারকে অতিরিক্ত জমির তথ্য দিতে পারবেন।

কেউ ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমির তথ্য সরকারকে অবহিত করলে তার মোট জমির কোন অংশ তিনি নিজের জন্য রাখবেন আর অতিরিক্ত কোন অংশটুকু ছেড়ে দেবেন- এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাকে দেওয়া হবে। তার কাছ থেকে পাওয়া জমি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত হবে। ৩৩ শতাংশে এক বিঘা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শতভাগ রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য বা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি ক্রয় বা অর্জন করা যাবে। একইভাবে শতভাগ রপ্তানিমুখী বিশেষায়িত শিল্পের জন্য সরকারের অনুমতি নিয়ে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি অর্জন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে জমির সর্বোচ্চ পরিমাণের বিষয় আইনে উল্লেখ নেই।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্যান্য শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে ৬০ বিঘার অতিরিক্ত জমি অর্জন করতে পারবেন।

খসড়ায় আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবার ৬০ বিঘার অধিক কৃষিজমির মালিক হলে তিনি হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য যে কোনো উপায়ে নতুন কোনো কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন না। তবে কোনো সংস্থা জনকল্যাণার্থে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত জমি অর্জন করতে পারবেন। চা, কফি, রাবার বা অন্য ফলের বাগানের জন্যও অতিরিক্ত জমি অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিজস্ব কারখানায় ব্যবহূত কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে জমি, ওয়াক্‌ফ, দেবোত্তর, ধর্মীয় ট্রাস্ট, দাতব্য কাজে ৬০ বিঘার ঊর্ধ্বে জমি অর্জনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

খসড়ায় আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি তার নিজের সুবিধার্থে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন না। সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে তার বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না। সরকারের প্রয়োজনে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না। বর্গাচাষের ক্ষেত্রে জমির মালিক ও বর্গাচাষির মধ্যে নির্ধারিত ফরমে চুক্তি সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তির বৈধতা পাঁচ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কোনোভাবেই এই চুক্তি সম্পাদন ছাড়া কারও জমি বর্গাচাষ করা যাবে না। উৎপাদিত ফসলের ভাগাভাগি বিষয়ে বলা হয়, মালিকানার জন্য জমির মালিক উৎপাদিত ফসলের এক-তৃতীয়াংশ ও বর্গাচাষি তার শ্রমের জন্য এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। জমির মালিক ও বর্গাচাষি ফসল উৎপাদনে যে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করবেন, সে অনুপাতে বাকি এক-তৃতীয়াংশ পাবেন।

আরও বলা হয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড সংশ্নিষ্ট কালেক্টরের মাধ্যমে হাটবাজার, চরাঞ্চলের সরকারি জমি চিহ্নিত করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনবে। খাস পুকুর, জলাধার ও সব ধরনের সায়রাত বিদ্যমান অবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে ইজারা প্রদানের মাধ্যমে বেদখল রোধ করা হবে।

Categories
এক্সক্লুসিভ

কর্নেল তারেক সাঈদ: খুন হত্যা ধর্ষণ করে র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারকে কসাই খানাই পরিণত করেছিলেন যিনি

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ একজন প্রাক্তন বাংলাদেশী সেনা কর্মকর্তা যিনি নারায়ণগঞ্জ সাত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন । তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন -১১ এর কমান্ডিং অফিসার।

1. খুনের দোষী সাব্যস্ত হয়েও বহাল তবিয়তে
সাত জন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, প্রবীণ আইনজীবী চন্দন সরকার, তাদের দুই চালক এবং তিন সহযোগী, ২ এপ্রিল ২০১৪ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। তিন দিন পরে তাদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে । হত্যাকাণ্ডে জড়িত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের র‌্যাব নজরুলের শ্বশুর শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকার বিনিময়ে নজরুলকে অপহরণ করে হত্যা করেছে র‌্যাব কর্মীরা । তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, আওয়ামী লীগ নেতা নুর হোসেন এবং ২২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ড দেন। অন্য নয় আসামীকে ৭ থেকে ১৭ বছরের কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে ।

2. যেসব অপরাধের জন্য বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি।
তারেক সাঈদ ৩ নভেম্বর ২০১৩-তে র‌্যাব -১১ এর কমান্ডিং অফিসার হন । আরিফ হোসেন ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব -১১ এ যোগ দেন । এবং রানা ২ জুলাই ২০১৩-এ র‌্যাব -১১ এ যোগ দেন। সাঈদ ও র‌্যাব -১১-এর বিরুদ্ধে কমপক্ষে এক ডজন মামলায় অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
শাহাদাত হোসেন জাসু, জাবেদ ও সুমন – ২০১৪ সালের ৩ ও ৫ এপ্রিল র‌্যাব -১১ নোয়াখালীর উরিরচরে ক্রসফায়ারে শাহাদাত হোসেন জাসু, জাবেদ ও সুমনকে তিন ডাকাতকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে। র‌্যাব দাবি করেছে যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তারা উত্পাদন করতে অক্ষম ছিল।

তাজুল ইসলাম – র‌্যাব -১১ এর বিরুদ্ধে ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩-তে হাই-এস মাইক্রোবাসে ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামকে অপহরণ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তাজুলের লাশ ১৩ দিনের পরে মেঘনা নদীতে পাওয়া গেছে।
সাইফুল ইসলাম হিরু ও কবির পারভেজ – ২৭ শে নভেম্বর ২০১৩, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপি প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ লাকসাম থেকে কুমিল্লা যাওয়ার সময় অপহরণ করেছিলেন। তাদের খুঁজে পাওয়া যায় নি।

হাসান শাওন – কুমিল্লা যুবলীগ নেতা রকিবুল হাসান শাওনকে ২৯ শে মার্চ ২০১৪ এ তার বাসা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছে। শাওন একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে; তার মা ১৫ জন র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।.
ডাঃ ফয়েজ আহমেদ – তারেক সাঈদের নির্দেশে র‌্যাব -১১ এর বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা ফয়েজ আহমেদকে ২ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ করা হয়েছিল।
ইসমাইল হোসেন – র‌্যাব-১১ এবং তারেক সাঈদ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সাল থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত।

ইকবাল মাহমুদ জুয়েল – তারেক সাঈদের নির্দেশে র‌্যাব -১১ এর বিরুদ্ধে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন সাবুর সামনে ইকবাল মাহমুদ জুয়েলকে দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠল।
মোসলেম উদ্দিন – চাটখিল থানা নোয়াখালী যুবলীগ নেতা মোসলেম উদ্দিনকে ৯ ই এপ্রিল ২০১৪ তারিখে র‌্যাব সদস্যরা তার স্ত্রীর সামনে জনাকীর্ণ বাস থেকে অপহরণ করে এবং নিখোঁজ রয়েছে।

কালাম সিকদার – র‌্যাব -১১ এর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ত্বকি হত্যা মামলার সাথে কালাম সিকদারকে অপহরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল; তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সরকারের এক প্রভাবশালী নেতার জামাতা হওয়ায় ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ কাউকে পরোয়া করতেন না। তখন নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের তৎকালীন হেডকোয়ার্টারটি রীতিমতো কসাইখানায় পরিণত হয়।

তাই আলোচিত এ সাত খুন নয়, এর আগেও তারা কমপক্ষে ১১ ব্যক্তিকে প্রথমে গুম, পরে নৃশংসভাবে প্রায় একই কায়দায় খুন করে লাশ গায়েব করে দেয়। এমন লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে এসেছে খোদ র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

তার ক্ষমতায় বলীয়ান হয়ে অন্যতম দুই সহযোগী মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এমএম রানাও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাদের কাছে মানুষ খুন করা ছিল অনেকটা পাখি শিকারের মতো। আজ বুধবার জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, র‌্যাব-১১ এর আওতাধীন এলাকা ছিল নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলা। সে কারণে ওই সময় এসব জেলায় গুম-খুনের যেসব ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে র‌্যাবের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে অনেকে আশংকা করেন।

র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তারেক সাঈদের নেতৃত্বে এ ব্যাটালিয়নে কর্মরত র‌্যাবের বেশিরভাগ কর্মকর্তা অস্ত্র, যানবাহন ও ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করতেন। ব্যক্তিস্বার্থে তারা অনেক সময় নিরপরাধ লোকজনকেও ধরে আনতেন। তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন ছাড়াও গুম-খুনের মতো পথ বেছে নিতেন। কাউকে দিনের পর দিন ব্যাটলিয়নের গোপন কক্ষে বন্দি রাখা হতো। সাধারণ মানুষের কাছে ওই ব্যাটালিয়ন ছিল একটি টর্চার সেল। অনেক সময় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হতো।

শুধু সরকারবিরোধী লোকজন নয়, তাদের হাত থেকে বাদ যাননি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারাও। মেজর আরিফ ও এমএম রানা যে দুটি ক্রাইম প্রিভেনশন ক্যাম্পের (সিপিসি) অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেখানেও গোপন টর্চার সেল তৈরি করা হয়। র‌্যাব-১১তে স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারও টাকার লোভে অভিযুক্ত র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুম-খুনে জড়িয়ে পড়েন।

এদিকে সাত খুনের পর অভিযুক্ত র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিষয়ে র‌্যাব সদরদফতর থেকে তাদের বিষয়ে ব্যাপক গোয়েন্দা অনুসন্ধান চালানো হয়। নিজস্ব গোয়েন্দা অনুসন্ধানে (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স) বেরিয়ে আসে নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও আওতাধীন অন্যান্য জেলার অন্তত ১১ জন গুম-খুনের শিকার হওয়ার তথ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোয় সে সময় যারা নিখোঁজ হয়েছেন এবং আজও সন্ধান মেলেনি তাদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালালে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

ওদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করলেও তদন্ত বেশি দূর এগোয়নি। কারণ প্রতিটি মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিল পুলিশ। প্রভাবশালী রাজনীতিকের জামাতা হওয়ার সুবাদে তারেক সাঈদ পুলিশের তদন্তকে প্রভাবিত করেন। ফলে পুলিশ এসব মামলার তদন্তে র‌্যাবকে অব্যাহতি দিয়ে দায়সারা প্রতিবেদন দেয়। র‌্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদের নেতৃত্বে যেসব ব্যক্তিকে গুম-খুন করা হয় তাদের প্রোফাইল নিচে তুলে ধরা হল।

হাসান শাওন : তারেক সাঈদ র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত থাকার সময় নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি একের পর এক নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে যেমন জামায়াত-বিএনপি রয়েছে, তেমনি আওয়ামী লীগ বা যুবলীগ নেতাকর্মীও বাদ যাননি। এর জ্বলন্ত উদাহরণ কুমিল্লার যুবলীগের জনপ্রিয় নেতা রকিবুল হাসান শাওন। ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ তাকে অপহরণ করে র‌্যাব। শাওন এ সময় তার বাড়িতেই ছিলেন। র‌্যাবের হাতে অপহরণের আগে তার পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ঘটনার কথা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি। কারণ শাওনের বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। ঘটনার পর শাওনের পরিবারের সদস্যরাও অন্য নিখোঁজ পরিবারগুলোর মতো র‌্যাব ১১’র কার্যালয়ের সামনে দিনভর অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু শাওনের খোঁজ মেলেনি। একপর্যায়ে শাওনের মা আনোয়ারা বেগম আদালতে মামলা করেন। মামলায় সরাসরি ১৫ জন র‌্যাব সদস্যের নাম উল্লেখ করেন তিনি। মামলাটির তদন্ত শুরু করে কুমিল্লা জেলা ডিবি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মামলায় র‌্যাবের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে শাওনের পরিবার। তার মা আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন।

মোসলেম উদ্দিন : ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল নোয়াখালীর চাটখিল থানার যুবলীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন নিখোঁজ হন। ঘটনার দিন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় আসছিলেন। রাত ৩টায় মেঘনা গোমতী ব্রিজের ওপর হঠাৎ যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি করে র‌্যাব। কয়েকজন র‌্যাব সদস্য মোসলেম উদ্দিনকে টেনে-হিঁচড়ে বাস থেকে নামিয়ে আনে।এ সময় তার স্ত্রী স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাস থেকে নামানোর পর মোসলেমের চোখ বাঁধা হয়। এরপরের ঘটনা আর কেউ জানে না। মোসলেম আজও ফিরে আসেননি। স্বামীকে ফিরে পেতে তার স্ত্রী সংবাদ সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি, মানববন্ধন কোনো কিছুই বাদ রাখেননি। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, তার স্বামীকে র‌্যাব ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি।

ইসমাইল হোসেন : ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা বালু ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন হঠাৎ করে নিখোঁজ হন। তার পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হন ইসমাইলকে র‌্যাব-১১’র কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা র‌্যাবের কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। কিন্তু তাদের এ অসহায় অবস্থা তারেক সাঈদ বা অন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের মন গলাতে পারেনি।সূত্র জানায়, দীর্ঘ দেন-দরবার করেও ইসমাইলকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয় তার পরিবার। একপর্যায়ে তার ছোটভাই আবদুল মান্নান ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে র‌্যাবকে দিয়ে ইসমাইলকে অপহরণ করায় তার প্রতিপক্ষ। এ কাজে সহায়তা করে সাত খুনের মামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন। নিখোঁজ ইসমাইলের মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।

সূত্র জানায়, ভারত থেকে ফিরে এলে নূর হোসেনকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায় ইসমাইলের পরিবার। ডিবির তদন্তে বেরিয়ে আসে নূর হোসেনের সহায়তায় তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও এমএম রানা একজোট হয়ে ইসমাইলকে অপহরণ করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর অভিযোগ দাখিল করে ডিবি। অভিযোগপত্রে র‌্যাবের এ তিন কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

কালাম সিকদার : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়েও স্থানীয় র‌্যাব কম জল ঘোলা করেনি। বৈধ আইনি পন্থাকে পাশ কাটিয়ে ত্বকী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে একের পর এক বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়। এদেরই একজন কালাম সিকদার। তিনি ত্বকী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। শহরে ঘুরতে বের হলে র‌্যাবের টহল টিম কালাম সিকদারকে আটক করে।এরপর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। বেশ কয়েক দিন নির্যাতনের পর ত্বকী হত্যায় জড়িত মর্মে বলে তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বলে র‌্যাব। কিন্তু শত নির্যাতনেও মিথ্যা জবানবন্দি দিতে রাজি হয়নি কালাম সিকদার। জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় কালাম সিকদারকে আর দিনের আলোয় দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন থেকে নিখোঁজ এই ব্যক্তি কখনও ফিরে আসবেন কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তার পরিবার।

তাজুল ইসলাম : সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা ক্লিনিক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম এলাকায় নিপাট ভদ্রলোক বলে পরিচিত ছিলেন। কথাবার্তায় সদালাপী এ মানুষটি হঠাৎ হারিয়ে যেতে পারেন- এমন কথা ভাবেনি কেউই। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চরম বিভীষিকায় পড়ে তাজুলের পরিবার। এদিন হঠাৎ করে খবর আসে তাজুলকে ধরে নিয়ে গেছে র‌্যাব। খবর পেয়ে স্থানীয় র‌্যাব ক্যাম্পে ছুটে যান তাজুলের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু র‌্যাব তাদের সাফ জানিয়ে দেয়, তাজুল নামে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার একপর্যায়ে তাজুলের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাজুলের মালিকানাধীন ক্লিনিকটি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী জনৈক ডা. কামরুজ্জামান। তিনি তাজুলকে অপহরণের নীলনকশা চূড়ান্ত করেন। যেই কথা সেই কাজ। তাজুলকে অবৈধ গুমের নাট্যমঞ্চে নেমে পড়ে র‌্যাব। ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাজুলের পরিবার সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় ডা. কামরুজ্জামানকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলার তদন্তও বেশি দূর এগোয়নি। এখন মামলাটি রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি) নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের কাছে।

ডা. ফয়েজ আহমেদ : ২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‌্যাব-১১’র হাতে নির্মমভাবে খুন হন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. ফয়েজ আহমেদ। তারেক সাঈদের নেতৃত্বে পোশাক পরিহিত র‌্যাব সদস্যরা ডা. ফয়েজ আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে অভিযান চালায়। তাকে বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে আটক করে র‌্যাব। কিন্তু কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে ডা. ফয়েজ আহমেদকে তারই বাড়ির ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তারেক সাঈদের নির্দেশে তার ওপর (ডা. ফয়েজ) কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। এরপর বাড়ির ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ডা. ফয়েজ আহমেদ।এ ঘটনায় এলাকায় আতংক নেমে আসে। স্থানীয় জনতা র‌্যাবের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। কিন্তু ক্ষান্ত হননি তারেক সাঈদ। তিনি ফয়েজ আহমেদের ছেলে বেলালকেও ধরে আনার নির্দেশ দেন। এমনকি তাকেও দেখামাত্র গুলি করার হুমকি দেন।

সাইফুল ইসলাম হিরু ও কবির পারভেজ : লাকসাম থেকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে র‌্যাবের হাতে অপহরণের শিকার হন বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু। ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর লাকসাম থেকে তিনি কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ ও পৌর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন। পথে র‌্যাবের লোকজন তাদের তিনজনকে তুলে নেয়। কিন্তু সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে আটকে রেখে জসিম উদ্দিনকে ছেড়ে দেয় র‌্যাব।রাজনৈতিক গ্রেফতার ভেবে হিরু ও পারভেজের পরিবার আদালতের দিকে চেয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও তাদের খোঁজ মেলেনি। ২০১৪ সালের ১৮ মে আদালতের শরণাপন্ন হয় পরিবারের সদস্যরা। তারা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামি করা হয় সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর শাহেদ, ডিএডি শাজহান আলী, এসআই কাজী সুলতান আহমেদ ও এসআই অসিত কুমার রায়কে। এজাহারে সাক্ষী করা হয় এক র‌্যাব সদস্যকে। কারণ জসিম উদ্দিনকে ওই র‌্যাব সদস্য থানায় সোপর্দ করেন।স্পর্শকাতর এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় লাকসাম থানা পুলিশ। কিন্তু যথারীতি র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতা নেই মর্মে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেয়া হয়। এই প্রতিবেদন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন হুমায়ুন কবির পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রানু। তিনিও আদালতে নারাজি পিটিশন দেন।

ডাকাত নাটক : ২০১৪ সালের ৩ ও ৫ এপ্রিল নোয়াখালীর দুর্গম উরিরচরবাসীর জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। কারণ এই দু’দিন র‌্যাব-১১ ডাকাত নির্মূলের নামে উরির চরে কমান্ডো অভিযান চালায়। মুহুর্মূহু গুলিতে প্রকম্পিত হয় নির্জন চরাঞ্চল। অভিযান শেষে শাহদাত হোসেন জাসু, জাবেদ ও সুমন নামের তিন যুবকের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। র‌্যাব দাবি করে এরা সবাই ডাকাত। র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া র‌্যাব-১১’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ক্রসফায়ারে তিন ডাকাত নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের গল্প শোনায় র‌্যাব। কিন্তু সিজার লিস্টে এসব গোলাবারুদ, ট্রলার বা অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি।’

এখানেই শেষ নয়, র‌্যাব সদর দফতরের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ওঠে আসে তারেক সাঈদের চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়ের ভয়ংকর চিত্র। কিন্তু ক্ষমতাধর হওয়ায় তার ওপর র‌্যাব সদর দফতরের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
তারেক সাঈদ র‌্যাব-১১’র ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে বসে স্বেচ্ছারিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের এপ্রিলে ঘটে যায় আলোচিত সাত খুন। এ খুনের ঘটনাও তারা ধাপাচাপা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু লাশ ভেসে ওঠায় তাদের শেষ রক্ষা হয়নি।

চূড়ান্ত আপিল শুনানিতে আর কত অপেক্ষা

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট
হাইকোর্টের রায়ে যা আছে২০১৭ সালের ২২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত নয়জনের দণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের হাতে নিহত হন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন
বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন ও সৈনিক তাজুল ইসলাম।

উচ্চ আদালত বলেন, ‘আসামিরা যে ধরনের অপরাধ করেছে, যদি তারা ছাড়া পেয়ে যায় তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণ আস্থাহীনতায় ভুগবে’

Categories
এক্সক্লুসিভ

জেনারেল আজিজের ক্ষমতাবলে হারিস জনপ্রতি ৫-৭ লক্ষ টাকা চাঁদা নিত: সাবেক সেনা কর্মকর্তা

জেনারেল আজিজ (General Aziz), বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধানের নাম এটি।নিজের দায়িত্ব শেষে তিনি নিয়েছেন অবসর। আর সেই থেকেই তার নামে উঠে আসছে নানা ধরনের সব আলোচনা সমালোচনা। বিশেষ করে তার নানা ধরনের সব বিতর্কিত কর্ম কান্ড এখন উঠে আসছে এক এক করে। তাকে নিয়ে এখন চলছে অনেক লেখালেখি। গেল বেশ কিছু দিন ধরেই জেনারেল আজিজ আহমেদকে নিয়ে পর্ব আকারে নিজের অনেক অভিজ্ঞতার কথা বলে যাচ্ছেন। আর সেই ধারাবাহিকতায় আজ তিনি জেনারেল আজিজ(General Aziz) পর্বের ৬ষ্ঠ ভাগ প্রকাশ করেছেন।পাঠকদের উদ্দেশে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-

জেনারেল আজিজ (General Aziz) পর্ব-৬

জেনারেল আজিজ ডিজি বিজিবি থাকাকালীন এর রিক্রুটিং পদ্ধতিটা পুরোপুরি নিজের/বিজিবি সদরদপ্তরের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেন। আমি অধিনায়ক ৭ বিজিবি, রংপুর সেক্টর থাকাকালীন প্রথম সৈনিকদের রিক্রুটিং পরিচালনা করি। আমি সেনাবাহিনীতে রিক্রুটিং পদ্ধতির সাথে পরিচিত ছিলাম। সেখানে গোয়েন্দা সংস্হায় চাকুরীকালে বেশ কিছু অনিয়মের বিস্তারিত তদন্তের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। তাই বিজিবির নিয়মকানুন আমার কাছে সঠিক মনে হয়নি।

আমি রিক্রুটিং এর আগের দিন জানলাম প্রায় পাঁচ শত প্রার্থী আসবে। আমাদের কেন্দ্রের কোটা ২২ জন আর আমাকে সম্ভাবত ২৪ জনের ইন্ডেক্স নং দিয়ে বলা হল এই ২৪ জনের ফলাফল তারা মেডিকেলে আনফিট বা লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার যে কান পর্যায়ে ফেল করলেও তাদের ফলাফল বিজিবি সদরদপ্তরে পাঠাতে হবে! তার মানে সকল প্রার্থীর মধ্যে যারা মেডিকেল বা অন্যান্য বিষয়ে ফেল করবে তাদের আমি ফাইনাল রেজাল্ট দিয়ে দেব এবং বলব তুমি ফেল করেছ বাড়ী চলে যাও কিন্তু সেই ২৪ জন ফেল করলেও তাদের ফেইল রেজাল্ট সহ সদরদপ্তরে পাঠাতে হবে। এই নির্দেশিকা পাওয়ার পর যে কারো মনে প্রশ্ন জাগবে এই ২৪ জন কারা? কেন তারা ফেইল করলেও তাদের ফলাফল পাঠাতে হবে? আমি তখন আমার সেক্টর কমান্ডারের সাথে কথা বললাম, তিনি আমাকে বিরক্তি সহকারে বললেন “এত প্রশ্ন করার কিছুনাই! তোমাকেতো কেউ ফেল করলে তাকে পাস করিয়ে দিতে বলছেনা? তুমি ফলাফল সদরদপ্তরে পাঠালে তারা ডিসিশন নিবে।” কথা সত্য তবে আমি তারপরও পরিচিত কয়েকজন অধিনায়ক আর বিজিবি সদরদপ্তরে সংশ্লিষ্ট অফিসারের সাথে কথা বলে বুঝলাম এখানে আমার উচ্চবাচ্য করার কিছু নেই! কেউতো আমাকে ফেইল কে পাস করাতে বলছেনা। তবে অধিনায়কদের একজন এবং সেক্টরের এক অফিসারের সাথে কথা বলে অনিয়মের গন্ধ পেলাম।

যাহোক পরদিন আমি রিক্রুটিং পরিচালনার আগে মেডিকেল অফিসার এবং আমার উপঅধিনায়ককে সর্ব্বোচ্য সততার সাথে পরীক্ষা পরিচালনা করার জন্য অনুপ্রানীত করে নিজে কঠোরভাবে প্রতিটি পর্ব পর্যবেক্ষণ করলাম। সেই ২৪ জনের মধ্যে ৩ জন মেডিকেলে আনফিট আর দুই জন লিখিত পরীক্ষায় ফেইল এবং ১ জন উভয় পরীক্ষায় ফেইল। আমরা সবার ফলাফল বিজিবি সদরদপ্তরে পাঠিয়ে আমার দায়ীত্ব শেষ করলাম। দায়ীত্ব শেষ করলাম কিন্তু অতৃপ্তি রয়ে গেল, স্পস্ট বুঝতে পারছি বিজিবি সদরদপ্তরে কোন অনিয়ম হচ্ছে! বিজিবির গোয়েন্দা সংস্হার কয়েকজন অফিসারের সাথে কথা বলে বুঝলাম বা তারা আমাকে বোঝাল এটাই স্বাভাবিক পদ্ধতি।

আমি সবার বোঝার সুবিধার্থে আমার জেনারেল আজিজ পর্ব-১ এর একটি প্যারা কপি পেস্ট করছি:

“এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝার জন্য একটি ঘটনার উল্লেখ করি। জেনারেল ইকবাল করিম সেনাপ্রধাণ থাকাকালীন সময়ে একটি অসাধু চক্র ধরা পড়ে, যারা সেনাবাহিনী এবং বিজিবিতে অর্থের বিনিময়ে রিক্রুটিংয়ের সাথে জড়িত। তখন আমি গোয়েন্দা সংস্হায় চাকুরীর সুবাদে বিস্তারিত জানলাম । এই চক্রের একজন ছিল বিজিবিতে কর্মরত লে: কর্ণেল শাহজাহান সিরাজ। আমি সিরাজ স্যারকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি, তাই এ বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতা আছে জেনে বেদনাহত হই। তখন সিরাজ স্যারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিজিবি থেকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করার জন্য আদেশজারী করলেও তৎকালীন ডিজি বিজিবি জেনারেল আজিজ এক প্রায় এক বছর তাকে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠাননি। শুধু তাই নয়, তিনি সেনাপ্রধান (Chief of Army Staff) হয়ে তাকে শাস্তি দূরে থাক তাকে কর্ণেল পদে পদোন্নতি দেন।”

আলজাজিরার “অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস্ ম্যান”(All the Prime Minister’s Man) এ হারিসের সামির(Sami) সাথে কথোপকথন আর আমার তৎকালীন নিজস্ব তদন্তে আমি নিশ্চিত হই লে: কর্নেল শাহজাহান সিরাজ(Lt. Col. Shahjahan Siraj) ছিল হারিসের বিজিবি কন্টাক্ট। একারনেই লে: কর্নেল সিরাজ সেনাবাহিনীর তদন্তে দোষী সাবস্ত্য হলেও জেনারেল আজিজ তাকে সেনাবিহিনীতে তার প্রত্যাবর্তন আদেশ দেয়া হলেও তাকে ফেরত পাঠায়নি। পরবর্তিতে তাকে কর্নেল পদে পদন্নতি দেন।

জেনারেল আজিজ(General Aziz) এর ভাই হরিস বিজিবিতে লোক ভর্তির জন্য ৫-৭ লক্ষ টাকা নিত যা তৎকালীন সেনাবাহিনীর তদন্তেও উঠে আসে। তবে এই লোক ভর্তির সবাই টাকার বিনিময়ে নয়, একটি অংশ ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের সুপারিসে ভর্তি। তবে তদন্তে আরেকটি বিষয়ও উঠে আসে যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সুপারিশে আসে তাদের ৬০% এর মত তারপরও বিভিন্ন অংকের ঘুষ দিয়ে থাকে।

জেনারেল আজিজ ডিজি বিজিবি(BGB ) থাকাকালীন সীমান্ত ব্যাংক উদ্ভোধন করেছেন। নতুন ব্যাংকের জনবল নিয়োগের সময় নজীরবিহীন দুর্নীতি করেছেন। আমি তখন আমার ব্যাটালিয়ানের দুই জেসিওর সন্তানদের এই ব্যাংকে চাকুরীর সুপারিশ করতে গিয়ে এর ভয়াবহতা জানতে পারি। এই ব্যংকের শেয়ার বিজিবির সকল পদবীর কাছে এটা ১/২ বছরে দ্বীগুন হবে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অংকের শেয়ার ক্রয় করতে বাধ্য করে। কিছুদিন আগে আমেরিকায় পারি জমানো এক অফিসারের কাছে শুনলাম চার বছর পর ৪ লক্ষ টাকার শেয়ার বিক্রি করে সে পেয়েছে ৪লক্ষ ৪ হাজার টাকা।

জেনারেল আজিজ বিজিবি আর সেনাবাহিনীর রিক্রটিং(Army recruiting) সিস্টেমকে ধ্বংস করেছে। তিনি সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যেন কোন বিরোধীদল মনোভাবপন্ন কোন পরিবারের সদস্য ঢুকতে না পারে সেই ব্যাবস্হা নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি আর সেনাবাহিনীতে দুর্নীতিকে একটি স্বাভাবিক বিষয়ে রুপদান করেছেন। নির্বাচনের ডিউটিতে থাকাকালীন সেনা সদস্যদের অতিরিক্ত টাকা/ঘুষ প্রতি অফিসারকে গাড়ী কেনার জন্য ৩০লক্ষ টাকা করে দেয়া মূলত তার পরিকল্পনা। তার পরিকল্পনাতেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের সংগঠন রাওয়া তার স্বাধীনতা হারিয়েছে। একদল অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের বিভিন্ন ব্যাবসায়িক সুবিধা দিয়ে তিনি পোষেন আওয়ামীলীগ বিরোধী মতামতের বিরুদ্ধে অবস্হান নেবার জন্য।

তবে আমি এই জেনারেল আজিজ পর্ব লেখার প্রথম কয়েকটি পর্বে সরকার নিয়ন্ত্রিত বট কমেন্টের মুখামুখি হলেও গত দুই পর্বে তাদের দেখছিনা। এর ব্যাখ্যা একটাই হতে পারে; জেনারেল আজিজ ছিল আওয়ামীলীগের(Awami League) টিস্যু পেপার। ব্যাবহার শেষে তার অবস্হান এখন ডাস্টবিনে। তবে তারা দ্বারা সেনাবাহিনীর যে ক্ষতি হয়েছে তা কখোনো পূরন হব?

প্রসঙ্গত, আল জাজিরার প্রতিবেদনটি প্রকাশ হবার পর থেকেই মুলত জেনারেল আজিজের নামে সারা দেশে সৃষ্টি হয় ব্যাপক সমালোচনা। আর সেই থেকেই তাকে নিয়ে দেশ বিদেশে শুরু হয়েছে নানা ধরনের লেখালেখি।এরপর আন্তর্জাতিক আরেকটি গণমাধ্যমে তিনি সাক্ষাতকার দিলে সেখানেও তার বেশ কিছু বক্তব্যে হয় বেশ বিতর্কিত। বর্তমানে তিনি রয়েছেন দেশের বাইরে।

Categories
এক্সক্লুসিভ

শত চেষ্টা করেও কেন জেনারেল মইন প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি? জানালেন আমিনুল জেনারেল করিম

ওয়ান-ইলেভেনের নায়ক জেনারেল মইন ইউ আহমেদ প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম। সহকর্মীরা আপত্তি তুললেন। এক পর্যায়ে জেনারেল মইন গেলেন ভোটে। ২০০৭ এর আগস্টে তিনি ৩০ জন জেনারেলকে নিয়ে মিটিং করলেন। জেনারেলদের নিয়ে ভোটাভুটিতে গেলেন। ২৮ জন না বললেন। মাত্র দুইজন উনার পক্ষে থাকলেন।
সেদিনই স্পষ্ট হয়ে গেল তার আর প্রেসিডেন্ট হওয়া সম্ভব না। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব লে. জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম চৌধুরী। অতি সম্প্রতি আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক কনক সারোয়ারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল করিম ১/১১ কীভাবে আসলো তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

১/১১-এর প্রাক্কালে তিন বাহিনীর প্রধানকে বঙ্গভবনে ঢোকার জন্য রাস্তা করে দিয়েছিলেন এই মর্মে যে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে তা তিনি খোলাসা করেছেন। বলেছেন, ১/১১-এর দিন ল’ অ্যান্ড অর্ডার কমিটির মিটিং চলছিল। এবং সেদিন বিকালে আমাদের ক্যাবিনেট মিটিং হওয়ার কথা ছিল। মিটিং চলা অবস্থায় প্রেসিডেন্টের এডিসি আমাকে বললেন, আর্মি চিফ আপনাকে খুঁজছেন। আমি অফিসে এসে রেড ফোনে জেনারেল মইনের সাথে কথা বলি।

তিনি বললেন, জাতিসংঘ থেকে একটা চিঠি এসেছে। তুমি প্রেসিডেন্টকে বলো। অন্য দুই বাহিনীর প্রধানসহ আমরা আসছি। প্রেসিডেন্টের কাছে গেলাম। কেবিনেট অ্যাডভাইজার রুহুল আলম চৌধুরীও ওখানে ছিলেন। তিনিও একই কথা বলছেন। আসতে বললেন সবাইকে। এয়ারফোর্স ও নেভাল চিফকেও বললাম আসতে। উনারা আসলেন। গেটে মিলিটারি সেক্রেটারি কোনোদিন যায় না। মিনিস্টার, জাস্টিসদের, বাহিনীর গাড়ি এলে রিসিভ করে- এটাই প্রটোকল। কিন্তু আমি কোনোদিন যাইনি। প্রেসিডেন্টের পারমিশনেই তারা বঙ্গভবনে যান। আর সেনাবাহিনীর প্রধান প্রায়শই আসতেন। আমি ইয়াজউদ্দিন সাহেবকে বলেছিলাম, ওদের এতো ডাকবেন না। সেনাবাহিনী একটা টাইগারের মতো। আমার ফিলোসোফি হচ্ছে, আর্মিদের রাজনীতিতে কখনোই ইন্টারফেয়ার করা উচিত নয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিনি আসতেন। আমি ভেবেছিলাম নরমাল কেস।

তিনি আরও বলেন, ৭ তারিখে সেনাবাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে এসেছিলেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি এক্সক্লুসিভ মিটিং করেন সেদিন। আমাকে সেই মিটিংয়ে ডাকা হয়নি। মিটিং শেষে তিনি খুশি ছিলেন বেশ। আমার সাথে দেখা হওয়ার পর তিনি বললেন, আমিন প্রেসিডেন্ট তো আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতা নিতে বললেন। বলেই তিনি চলে গেলেন। আমি সে কথাটা সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছিলাম, দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে।
সে সময় ডিজিএফআই-এর রিপোর্টেও বলা হতো, দেশে একটা ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার করা উচিত। ক্যান্টনমেন্ট থেকেও ইন্ডিকেশন পাচ্ছিলাম।

তখন উপ-নির্বাচন হয়ে গেছে। বিএনপির ১৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। আমি বললাম, আপনারা সমঝোতা করেন, নির্বাচন বাতিল করেন, না হলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। নির্বাচন স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন পাঠানোর কথা ছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট রাজি না থাকায় তা আর পাঠানো হলো না।

জেনারেল করিম বলেন, প্রেসিডেন্ট যখন চিফ অ্যাডভাইজার হলেন তার কয়েকদিন পর দুই পার্টিকে ডাকা হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এসেছিল। তাদের বলা হলো, পলিটিকাল প্রসেস এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। সেদিন রাত ১২ টা, ১টার দিকে এডিসি ফোন করে বললেন, স্যার আপনাকে প্রেসিডেন্ট ডাকছেন।

দ্রুততার সাথে যাওয়ার পর তিনি বললেন, কাল থেকে আর্মি মোতায়েন হবে। আমি বললাম, কিছুক্ষণ হলো খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা দলবল নিয়ে চলে গেছেন। তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। আমি রেফারেন্স দিয়ে বললাম, এটা মনে হয় ঠিক হবে না। আপনি ক্যাবিনেট মিটিং ডাকেন। প্রেসিডেন্ট বললেন, দ্যাটস ফাইনাল ফর মি।

তিনি বলেন, আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, এটা পলিটিক্যালি সমাধান হোক। এখানে কোনোভাবে আর্মি জড়িয়ে না পড়ুক। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসছে না, কীভাবে তাদের আনা যায় এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। এরই মাঝে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ফোন দিলেন, বললেন, আমিন তুমি এসব কাজে বেশি বাড়াবাড়ি করো না। আমি বললাম, প্রেসিডেন্টের সাথে তো আমাকে থাকতেই হবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাথে বৈঠক চলছে। দেড়টার সময় আমরা ঐক্যে পৌঁছালাম। আওয়ামী লীগ রাজি হলো যে- তারা নির্বাচনে আসবে। বিএনপি বললো, আমরা আওয়ামী লীগের কথা বিশ্বাস করি না। রাতের মধ্যে বলতে হবে, তারা নির্বাচনে আসবে। এরপর রাতেই জলিল সাহেব ভিডিওতে বললেন, নির্বাচনে যাবেন। পরদিন সকালে সব টিভিতে স্ক্রল করা হলো। আমরা সকলে খুশি হলাম।

জেনারেল মইনের চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা একটা ভুয়া চিঠি ছিল। পরে আমি অরজিনাল কপি দেখেছি । পার্থক্য ছিল শুধু- সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এটা লেখা ছিল না। এই এক্সকিউজ দিয়েই ইমার্জেন্সি দেয়া হয়।

১/১১ কেন সফল হলো না?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেনারেল মইন আসলে বুঝতে পারছিলেন না কি করতে হবে। আপনার কোনো লক্ষ্য না থাকলে, কোনো ভিশন না থাকলে, ডিরেকশন না থাকলে আপনি একটা স্টেট চালাতে পারেন? কয়েক দিনের মাথায় একজন আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, প্রফেসর জিল্লুর রহমান খান, উনি আমার বাসায় দাওয়াতে আসছিলেন। তখন আমি জিল্লুর রহমান খানকে বললাম, স্যার জেনারেল মইন তো ফেইল। খান সাহেব বললেন -কি বলো? আমি বললাম, স্যার দেশ চালানোর মতো ক্ষমতা উনার নাই। একটা মডার্ন দেশকে চালানোর মতো ওই এবিলিটি নাই, ভিশন নাই। ওনার কোনো প্রজ্ঞা নাই, শিক্ষা নাই। পরে কথা শুনে বুঝলাম, জিল্লুর রহমান খান সবই জানেন। সবকিছুর খবর রাখেন। আর উনি তো নামকরা প্রফেসর।

তাহলে আমরা এক কথায় বলতে পারি, জেনারেল মইন ইউ আহমেদের অদক্ষতা,অযোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা, উচ্চাভিলাষের কারণে তার টোটাল ওয়ান-ইলেভেনের বিষয়টি ফেইল করে?

হ্যাঁ, বলতে পারেন। উনার স্টাফরা ভালো ছিল না। তিনি আগে জেনারেলদের এটা ব্রিফিং করেননি।

সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনারেল আমিনুল করিম চৌধুরী বলেন, ২০০৬ এর ২৮শে অক্টোবর বায়তুল মোকাররমের সামনে লাশের ওপর লাফালাফির ঘটনার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ও বিএনপির মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়াকে বঙ্গভবনে ডাকা হয়।

আলোচনার এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট বলে দিলেন, আমি চিফ অ্যাডভাইজার হয়ে যাই। জলিল সাহেব বললেন, আলহামদুলিল্লাহ। ধরে নেন আমারা মেনে নিয়েছি, কিন্তু আমাদের একটু নেত্রীর সাথে কথা বলতে হবে। এক ঘণ্টা পর জানানলেন আমরা মেনে নেব। কিন্তু আপনাদের ৫টা অপশন মেনে নিতে হবে।

ওয়ান-ইলেভেনে পার্শ্ববর্তী দেশের কোনো প্রভাব ছিল কি-না, এর জবাবে জেনারেল করিম বলেন,
১/১১-এর পর দেখলাম ইন্ডিয়ান হাইকমিশনার খুব শক্তিশালী হয়ে গেলেন। প্রভাব তো ছিলই।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রভাবশালী এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, তিন বছর চার মাস আগেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সময়টা এমন, জেনারেল মইনকে কেউ মানছিল না। উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিল সবাই। মইন টোটালি ব্যর্থ। তার স্টার খুলে ফেলা হচ্ছিল। অনেক কষ্টে তা আটকিয়েছি। কথাবার্তা হয়তো বেশিই বলেছি। সেনাপ্রধান আমাকে বানানো হবে না, এসব কারণে হয়তো আমাকে আগেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

Categories
এক্সক্লুসিভ

এগুলো সবকিছু শিখিয়েছে আমেরিকা, আরেকজন নামকরা লোক মিসিং হলো : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গত বছর থেকে দেশের এলিট বাহিনী র‍্যাব কে নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদের র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে এই আলোচনা শুরু। এদিকে, র‍্যাবের বিষয়ে প্রায় সময় এক একটি সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে। এমনকি গত কয়েকদিন আগে ১২ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা র‍্যাবকে শান্তি মিশন থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে। আর এবার র‍্যাবের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের র‌্যাব তাদের কাজে অনেক দক্ষ। তারা খুব কার্যকর, খুব দক্ষ এবং তারা দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। এ কারণে তারা জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। র‌্যাবের কারণে আমাদের দেশে স’ন্ত্রা’সী কর্মকাণ্ড কমেছে। হলি আর্টিসানের পর গত কয়েক বছরে দেশে কোনো স’ন্ত্রা’সী কর্মকাণ্ড ঘটেনি। এটা সম্ভব হয়েছে র‌্যাবের কারণে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও তা স্বীকার করেছে।মন্ত্রী বলেন, দুটি ক্ষেত্রে র‍্যাব অন্যায় করেছিল।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার হয়েছে। তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, র‌্যাব আমেরিকান ও ব্রিটিশরা তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হ্যাব বিন ট্রেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিয়ম শিখিয়েছে। কিভাবে মানুষের সাথে আচরণ করতে হয়, কিভাবে যোগাযোগ করতে হয়। আমেরিকা এসব শিখিয়েছে। তাদের নিয়মে যদি কোনো দুর্বলতা থাকে, যদি এসব এনগেজমেন্টের নিয়মে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, তাহলে অবশ্যই নতুন প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কিন্তু কোনো বিশেষ বিশেষের উপর হঠাৎ করে এই যে স্যাংশনগুলো দেয়া হয়েছে সেটা খুব একটা যুক্তিযুক্ত নয়। তারা আমাদের জানিয়েছে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ৬শ মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। আমেরিকায় প্রতি বছর একলক্ষ নিখোঁজ হয়। কে নেবে দায়িত্ব?

আমাদের দেশে যারা নিখোঁজ হয় তাদের পরে দেখা যায় এবং আবার বেরিয়ে আসে। এক এলাকার একটি ঘটনা বলি। হারিছ চৌধুরী। আজ আমরা বহু বছর ধরে জানি যে তিনি নিখোঁজ। এখন দেখুন, তিনি দেশে ছিলেন। মৌলভী সাজে। প্রচার করতেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই দিনই তিনি মা’রা যান। এরকম অনেক গল্প আমরা শুনি। হঠাৎই বেরিয়ে আসে। আর একজন নামকরা লোক মিসিং হলো। আরেকজন মিলন সাহেব নাকি কি যেন নাম। আসামে তাকে নিখোঁজ পাওয়া গেছে। এটা খুবই দুঃখের। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই না করে যেসব বড় বড় বিদেশি লোক অভিযোগ করেছেন, তাদের আমরা বাংলাদেশে আসতে বলি, দেখেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করেন এর ব্যবস্থা নেন।

র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফা তথ্য পেয়েছে এবং আমরা তাদের বিষয়টি জানাবো।
যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেমন আমাদের দেশে কাজের জন্য তদবির করতে হয়। যেমন এমপি আছেন, জনপ্রতিনিধিরা আছেন। তারা সবসময় তদবির করে। আপনার এইখানে যদি বাঁধ নির্মাণ করতে হয়। তাহলে তদবির করতে হবে। তদবিরের নাম তারা বলে লবিস্ট। যারা সরকারের সাথে আলোচনা করে তাদের বলা হয় লবিস্ট। একাধিক ধরনের লবিস্ট রয়েছে। যদি কেউ লবিস্ট নিয়োগ করে, তাহলে সেটা বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হল, আপনি কি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন? টাকা কোথায় দিবে? তার যাদি একটা হিসাব ঠিকমতো দেন। তাইলে সব ঠিক।

জেডআই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিল্লুর হোসেনের আমন্ত্রণে গতকাল বিকেলে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে ছাইহারা নগদীপুর ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা, সৈয়দ মনোহর আলী আটগ্রাম কলেজ, শিরিলাব চৌধুরী শি’শু কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন এ মন্ত্রী।
সফরকালে বাণিজ্য, পর্যটন ও বন্দর মন্ত্রী বিজয় দারিয়ানি, ব্রিটিশ এমপি পল ব্রিস্ট্রো, সামান্থা কোহেন, টম হান্ট, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, দিরাইয়ে প্রমুখ। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান, ওসি আজিজুর রহমান, জগদল ইউপি চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাভলু উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, দেশের এলিট বাহিনী র‍্যাবের সাতজন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারো বাংলাদেশের র‍্যাব ও পুলিশের বেশ প্রসংশা করেছে। দেশটি বাংলাদেশের র‍্যাব ও পুলিশের প্রসংসা করে জানিয়েছে তারা দেশে অনেক অপরাধ দমন করেছে। দেশে গত কয়েক বছর র‍্যাব ও পুলিশ বাহিনী অনেক সুনামের কাজ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে এরপরও র‍্যাবকে নিয়ে প্রায় সময় বেশ আলোচনা শুরু হচ্ছে।

Categories
এক্সক্লুসিভ

ইভিএমে এক ভোট দিলে যেভাবে তিন ভোট কাউন্ট হয়

মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী এলেক্স হাল্ডারম্যান দেখিয়েছেন যে ট্রেস করার কোন উপায় না রেখেই কত সহজে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করে ভোটের ফলাফল কিভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব।
গত মাসে বোস্টনের এক প্রযুক্তি সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

তিনি একটি ছদ্ম নির্বাচনের আয়োজন করেন যেখানে সম্মেলনে অংশ গ্রহণকারী তিন জন জর্জ ওয়াশিংটনের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু হ্যাকিংয়ের শিকার মেমোরি কার্ডে ফলাফল আসে জর্জ ওয়াশিংটন পেয়েছেন ১ ভোট আর বেনেডিক্ট আরনর্ল্ড পেয়েছেন ২ ভোট। সামরিক কর্মকর্তা বেনেডিক্ট রেভোল্যুশনারি ওয়ারের সময় গোপন তথ্য বিক্রি করেন। হাল্ডারম্যান যে ভোটিং মেশিনকে সহজেই হ্যাকিং করা যায় বলে দেখালেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে ব্যবহৃত হয়। এই মেশিনের কোন ব্যালট পেপার নেই। আর তাই ভোটের ফলাফল পাল্টে দিলে তা ধরার বা চ্যালেঞ্জ করার কোন উপায় থাকে না।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, ভোটিং মেশিন ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুগুলো হ্যাকিং হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দুই বছর পর মধ্যবর্তী নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রুশ এজেন্টরা যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে অন্তত ২০টি রাজ্যে ভোটার রেজিস্ট্রেশন নেটওয়ার্কে হ্যাকিংয়ের চেষ্ট করেছে এবং অন্তত একটিতে তারা সফল হয়েছে।
এলেক্স বলেন, রুশদের ভোটিং রেকর্ড নষ্ট বা পরিবর্তন করার সক্ষমতা রয়েছে, যা নির্বাচনের দিন বিশঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এমনকি সিনেট ইন্টিলিজেন্স কমিটির তদন্তেও ‘তারা রুশদের ওই সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেননি।’
সম্মেলনে অন্যান্য গবেষকরা দেখিয়েছেন, ভোটিং মেশিং অথবা নেটওয়ার্কে হ্যাকিং সম্ভব। এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটার ভোটিং মেশিনের সাহায্যেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

সম্মেলনে গবেষকরা যেসব নির্বাচনী ব্যবস্থায় পেপার ব্যাকআপ নেই, সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করতে বলেছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের বিধান যুক্ত করতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনার মাহবুব তালুকদার প্রস্তাবটি অনুমোদনের আগেই আপত্তি জানিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে কমিশন সভা বর্জন করেন। এই কমিশনার সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবে আপত্তির কারণ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তিনি তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। কারণগুলো হলো—প্রথমত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সংলাপের সময় ইভিএমের বিরোধী করেছিল, দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় ইসির হাতে নেই ও তৃতীয়ত ভোটাররা এখনও ইভিএমে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি।

আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সংবাদ সম্মেলনের পরপরই মাহবুব তালুকদার তার দফতরে সাংবাদিকদের ডেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি তিনটি কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। প্রথম বিষয় হচ্ছে অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে, দ্বিতীয়ত, ইভিএম ব্যবহারের জন্য কমিশন যাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তা অপর্যাপ্ত, জাতীয় নির্বাচনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে যে সময়ের দরকার হবে তা আমাদের হাতে নেই। আর তৃতীয়ত, ইভিএম ব্যবহারে ভোটারদের মধ্যে অনীহা রয়েছে। তাদের মধ্যে অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। এজন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করাটা ঠিক হবে না।’

এ প্রসঙ্গে এই কমিশনার উল্লেখ করেন, ‘কমিশনের অবস্থান ছিল সব রাজনৈতিক দল না চাইলে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। এক্ষেত্রে আমাদের আগের কথাও তো রাখতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিশন যদি মনে করতো যে, তারা ইভিএম ব্যবহার করবে, তাহলে প্রথম থেকেই ভোটারদের মধ্যে একটি অভ্যাস গড়ে তুলে পারতাম। দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে বৃহৎ একটি অংশকে এতদিনে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হতো।’

ইসির রোডম্যাপে ইভিএমের বিষয়টি নেই উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমরা যে কর্মপরিকল্পনা দিয়েছিলাম, তার কোথাও ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কিছু নেই। এখন হঠাৎ করে নির্বাচনের আগে আগে কেন ইভিএম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে গেল?’ জার্মানিতে ইভিএমকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে তিনি পত্রিকার উদ্বৃতি দিয়ে দাবি করেন। ইভিএম ব্যবহারে সংবিধানে কোনও সংশোধনী আনার প্রয়োজন পড়বে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ভোটারদের অভ্যস্ত না করলে ইভিএম কখনোই সফল হবে না মন্তব্য করে মাহবুব তালকুদার বলেন, ‘যন্ত্রের অগ্রগতির সময়ে আমি মোটেও ইভিএম ব্যহারের বিপক্ষে নই। কিন্তু আমি মনে করি, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে যে প্রস্তুতি দরকার, তা আমাদের নেই। স্থানীয় সরকারগুলোয় যেভাবে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে, তা বাড়ানো গেলে আশা করি, আগামী ৫/৭ বছরের মধ্যে ইভিএম ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে উঠবে। ফলে আগামী ৫ বা ১০ বছর পরে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম অনিবার্য হয়ে উঠবে।’ তিনি তার বিশ্বাস থেকে এই কথাগুলো বলেছেন বলে জানান।

ইভিএম ক্রয় বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্পে এই কমিশনারের সম্মতি ছিল না বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে সিইসির বক্তব্য তুলে ধরনে এই কমিশনার বলেন, ‘সিইসির বক্তব্যের বিপরীতে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।’ কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা চান না। তবে, কমিশনের কোনও সভার কার্যবিবরণীতে এই প্রকল্পের বিষয়টি রয়েছে বলে তার নজরে পড়েনি।

বৈঠক শেষ না করে বেরিয়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে এই কমিশনার বলেন, ‘আমি আরপিও সংশোধনের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছি। আমি মোটেও চাই না, আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য আরপিও সংশোধন হোক। এখন তারা বসে বসে আরপিও সংশোধন করতে থাকবেন আর আমি নো অব ডিসেন্ট দিয়ে মূর্তির মতো সেখানে বসে থাকবো। তা আমার কাছে যথোপযুক্ত মনে হয়নি।’

নোট অব ডিসেন্ট প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে এই নোট অব ডিসেন্ট দেইনি। একটা মতের বিরুদ্ধে আমার ভিন্নমত। আমি দ্বিমত বা ভিন্নমত পোষণ করতে পারি। তবে, কোনও সহকর্মী কারও সঙ্গে আমার মতবিরোধ নেই। কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে আমাদের দ্বিমত হতেই পারে। কিন্তু তা মতবিরোধ হিসাবে গণ্য করা ঠিক হবে না।’

একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পথে এগিয়ে চলার ইসির অন্যতম সদস্য মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বের সংবাদ গণমাধমে প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম ছবক দিচ্ছে কমিশনকে। পত্রপত্রিকায় এমন সংবাদও বেরিয়ে যে, সিইসি ও আমার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা ওই সময় নির্ধারণ করবেন বলে জানান এই কমিশনার। তখনকার অবস্থা কী হবে তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না।’

এ সময়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কমিশনের অবস্থানও তুলে ধরে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘পাঁচ নির্বাচন কমিশনার মিলে একক সত্তা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমরা সব কমিশনার দেশবাসীকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। সাংবিধানিকভাবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেতন রয়েছি।’

কী আছে নোট অব ডিসেন্টে

মাহবুব তালুকদার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদাসহ চার কমিশনারের উদ্দেশে নোট অব ডিসেন্টটি লিখেছেন। তিনি এটি কমিশনের পত্রবিতরণ ও গ্রহণ শাখা থেকেও এন্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১১টায় বৈঠক শুরুর পরপরই তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারের কাছে তার নোট অব ডিসেন্টের কপি সরবরাহ করেন। তিনি পুরোটাই পড়ে শোনান। এরপর কমিশনার কবিতা খানম আরপিও সংশোধনীর বিষয়ে কমিটির প্রস্তাবনাগুলো ‍উত্থাপন করার পরপরই মাহবুব তালুকদার বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। সকাল ১১টায় বৈঠক শুরু করে একঘণ্টার বিরতিসহ বিকাল ৫টায় বৈঠক শেষ হলেও এর মধ্যে তিনি আর বৈঠকে ঢোকেননি।

বিগত ২৬ আগস্টের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব তালুকদার নোট অব ডিসেন্টে লিখেছেন, ওই বৈঠকে আরপিও সংশোধনের বিষয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব পেশ করা হয়। কিন্তু কমিশন দুটি প্রস্তাবকে বাদ দিয়ে কেবল সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি লিখেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে তা নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার শুরু থেকেই বলে এসেছেন রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হলেই কেবল আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইভিএম ব্যবহারে স্বাগত জানানো হলেও প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দলগতভাবে সংলাপে ইভিএম সম্পর্কে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান ছিল পরস্পরবিরোধী। এ অবস্থায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার মাধ্যমে ইভিএম ব্যবহারের কোনও সম্ভাবনা নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পূর্বে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অধিকতর আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন ছিল।

ইভিএম ইস্যুতে কমিশনের আগেরকার অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বর্তমান কমিশন ইভিএম ব্যবহারের শুরুতে বলা হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই পরীক্ষামূলক ব্যবহারে ২ হাজার ৫৩৫টি কেনার জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার ইভিএম কেনায় আমি ভিন্নমত পোষণ করেছিলাম। সম্প্রতি ৩৮২১ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। কোনও কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ইভিএম কেনা কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্ন মনে জাগে।’

তালুকদার বলছেন, ‘পরিকল্পনা কমিশন এখনপর্যন্ত প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করেনি। যে ইভিএম বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে বিনা টেন্ডারে কেনা হচ্ছে, তার কারিগরি বিষয় বুয়েট বা অনুরূপ কোনও সংস্থা থেকে যাচাই করা হয়নি। কারিগরি দিক থেকে এ যন্ত্র সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়নি।’

আরপিওতে শুধু ইভিএম ব্যবহারের যে সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে, তা ইতোমধ্যে কমিশন সভায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ধারণা করি, জনমত বা সর্বসম্মত রাজনৈতিক মতের বিরুদ্ধে ইভিএম ব্যবহৃত হলে তা নিয়ে আদালতে অসংখ্য মামলার সূত্রপাত হবে। অন্য কারণ ছাড়া কেবল ইভিএম ব্যবহারের কারণেই সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বর্তমান ইসির পক্ষে এ ঝুঁকি নেওয়া সঙ্গত হবে না।’

যন্ত্রের অগ্রগতির এ যুগে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধী নন উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, ‘স্বল্প সময়ে এত বিশাল জনবলের প্রশিক্ষণের অপর্যাপ্ততা এবং ভোটারদের অজ্ঞতাপ্রসূত কারণে ইভিএম নিয়ে অনীহাও থাকবে।’

সাম্প্রিতিক সিটি নির্বাচনে কিছু বিশঙ্খলা এবং ইভিএম কেন্দ্র দখলের অভিযোগের কথাও নোট অব ডিসেন্টে তুলে ধরেছেন এই কমিশনার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, স্থানীয় নির্বাচনে ধীরে ধীরে ইভিএমের ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ সমর্থন করি না। ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে ভিন্নমত পোষণ করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।’

Categories
এক্সক্লুসিভ

আমার বউ যখন ‘কবুল’ বলেছিল, সেরকম আনন্দ পেলাম: শামীম ওসমান

ভোট গ্রহণের শেষের দিকে ব্যটারিচালিত অটোরিকশায় এসে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে তিনি ভোট দিতে যান।
সময় শেষ হওয়ার মাত্র ২০ মিনিট আগে ইভিএমে ভোট দিয়ে এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি জানান শামীম ওসমান। জানালেন, প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিয়ে তার কতটা ভালো লেগেছে।

একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিলাম, খুব ভালো অনুভূতি। প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিয়ে কতটা আনন্দ পেলাম? আমার বউ যখন ‘কবুল’ বলেছিল, সেরকম আনন্দ হল ইভিএমে ভোট দিয়ে।

নাসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ রোববার সকাল ৮টা থেকে ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে নাসিকের ভোটগ্রহণ শুরু হয়; একটানা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সকালে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। ভোটের মাঠে মেয়র পদে ছয়, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জনসহ মোট ১৮৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের মধ্যে।