Categories
জাতীয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক, যেসব শর্তে কারাবন্দী আলেমদের মুক্তি চায় হেফাজত

সরকার ‘বিব্রত’ হয়, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কারাবন্দী নেতাদের (আলেম) মুক্তি চেয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।মঙ্গলবার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া সংগঠনের এক চিঠিতে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, জামিন-পরবর্তী তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না, যাতে রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ও ফোরকান উল্লাহ খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, ঢাকা মহানগর সভাপতি আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ আজহারী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাজিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা কারাবন্দী আলেমদের মুক্তিসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, এক বছরের বেশি সময় আলেম-ওলামারা বন্দী থাকার কারণে তাঁদের পরিবার এবং নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদ-মাদ্রাসা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বন্দী আলেমদের অনেকে মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছেন। কাউকে কাউকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২০১৩ ও ২০১৬ সালে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তা প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং গত বছর যেসব আলেমদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাঁদের প্রায় সবাইকে ২০১৩, ২০১৬ সালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উপরন্তু ২০২১ সালের কোনো কোনো মামলার অভিযোগপত্রও তৈরি হয়ে গেছে। বৈঠকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান হেফাজতের নেতারা।
গত বছর মার্চের শেষ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা ঘিরে দেশজুড়ে পুলিশের সঙ্গে হেফাজত নেতা–কর্মীদের ব্যাপক সহিংসতা হয়। এরপর ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় হেফাজতের নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের অনেকে এখনো কারাবন্দী আছেন।

এসব নেতা-কর্মীর অনেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাতে সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হেফাজতের নেতারা। চিঠির শুরুতেই এর উল্লেখ করে বলা হয়, ‘মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনার অনুগ্রহে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে আলেম-ওলামা ও হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের অনেকেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ জন্য আমরা আপনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাজিদুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, আমার কাছে যদি জামিনের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে ব্যবস্থা নিতাম। কিন্তু কারাবন্দীদের জামিনের বিষয়ে সরকারের অন্যান্য সংস্থাও জড়িত। তাদের সঙ্গে কথা বলে কারাবন্দী নেতা–কর্মীদের মুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ছাড়া দেশের ১১৬ জন আলেম ও ১ হাজার মাদ্রাসার নামে গণকমিশনের কথিত শ্বেতপত্র বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা আইন-২০২২-এর কমিটিতে কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার মহানবী (সা.)–কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোর দাবি করেছেন হেফাজত নেতারা।
গণকমিশনের কথিত শ্বেতপত্রের বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলে দেওয়ার জন্য যাতে শ্বেতপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এই কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। শ্বেতপত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে।

বৈঠকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিতে গেলে তাঁর একান্ত সচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন না।
পরে সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের নেতারা বেশ কিছু দাবি নিয়ে এসেছেন। আমি বলেছি, তাঁদের দাবিগুলো আমরা দেখব। আগেও তাঁদের বলেছি, দাবি পর্যালোচনা করা হবে।’

Categories
জাতীয়

হিলারি ক্লিনটন ও শেরি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি নিক্সনের

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী শেরি ব্লেয়ারের ওপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।একই অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা পরিচালনার দাবি তোলেন তিনি।মঙ্গলবার (২৮ জুন) প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি এই দাবি জানান।নিক্সন বলেন, ইতোমধ্যে কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে এখানে কোনো দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্র হয়নি।

পদ্মা সেতু যাতে বাস্তবায়ন না হয় এজন্য দেশি-বিদেশি যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দাবি জানাই ড. ইউনূস, হিলারি ক্লিনটন, টনি ব্লেয়ারের স্ত্রীর ওপর স্যাংশন দেওয়া হোক।

যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এসে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। এছাড়া বাংলাদেশের যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ড. ইউনূস, খালেদা জিয়া এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমান।তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করে ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন তার আমলে কেউ অপরাধ করে রেহাই পাবে না। যারা দুর্নীতি করে গরিবের টাকা বিদেশের ব্যাংকে রেখেছেন, যাদের নাম পানামা পেপারস এবং পেরাডাইস পেপারসে এসেছে তাদের প্রতি শিগগিরই দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।

Categories
জাতীয়

আগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করলে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব রয়েছে। তবে, অনেকে এই প্রভাব নিয়ে অতিরঞ্জিত কথাও বলছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব কর্তৃক আগে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি দেখতে চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন কিছু না হয় সেজন্য বাহিনীটির সংস্কার চায়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত পিটার হাস  দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যু, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন আনিস আহমেদ।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি নিয়ে। রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের, বন্ধুত্বের ৫০তম বর্ষপূর্তির এই সময়ের চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে! গত ৫১ বছরে বাংলাদেশ অসাধারণ সব উন্নতি করেছে।

একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে কেবল স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে পথচলা দেশটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চমৎকার উন্নতি করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় দেশটি এশিয়ার মধ্যে অন্যতম। উন্নতি করেছে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণেও। আমার কাছে যেটা বিস্ময়কর সেটা হলো, ৯৬% টিকাদানের হার, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

বিগত ৫০ বছরের এসব সাফল্যের পর এখন সময় সামনের ৫০ বছরটা কেমন যাবে সেটা ঠিক করা। কারণ, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করতে চলেছে এবং দেশটিকে গত ৫০ বছরের তুলনায় ভিন্নধর্মী, নতুন নতুন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের পথে আরও বেশি অগ্রসর হওয়া, আরও অর্থনৈতিক উদারীকরণসহ যেসব চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে; সেগুলো ইতিমধ্যেই অতিক্রম করে আসা চ্যালেঞ্জগুলোর তুলনায় কিছুই না।
গত বছর ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। র‍্যাব কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ছিল এমন: এটা একদম পরিষ্কার- আমাদের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রয়েছে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার। এই ইস্যুটি (র‍্যাব) নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই কথা বলে আসছি।

বিচারবহির্ভূত হত্যা একটা ইস্যু। মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনগুলোতে র‍্যাব দ্বারা বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টি অনেক বছর ধরেই উঠে এসেছে। এসব নিয়ে উদ্বেগের কারণে আমরা ২০১৮ সালে র‍্যাবকে প্রশিক্ষণ প্রদানও বন্ধ করে দিয়েছি। সুতরাং, অবশ্যই র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার একটা প্রভাব তো রয়েছেই। এগুলো অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি, অনেকে এর প্রভাব নিয়ে অতিরঞ্জিত কথা বলছে। আমাদের সম্পর্ক অনেক বিস্তৃত, আমরা অনেক কিছু নিয়ে কাজ করি। সেটা একটা মাত্র ইস্যু। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যেমন আমরা নিরাপত্তা বাহিনীকে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশে ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি দেখতে চাই এবং ভবিষ্যতে র‍্যাব যেন এমন কিছু না করে সেজন্য বাহিনীটির সংস্কার চাই।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি ক্ষেত্র কী এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর জায়গাগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, গত তিন মাসের দিকে তাকালে চমৎকার সব কার্যক্রম দেখতে পাবেন। এই তিন মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে যাতে অংশ নিতে আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বাংলাদেশে এসেছিলেন, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সংলাপ হয়েছে, হনুলুলুতে মিলিটারি পার্টনারশিপ ডায়ালগ হয়েছে এবং অতি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ হয় যাতে অংশ নিতে (প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা) সালমান এফ রহমান যুক্তরাষ্ট্র এসেছিলেন। সুতরাং, ওই চার ক্ষেত্রে আমরা কতোটা নিবিড়ভাবে, কতোটা একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করছি বুঝাই যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, রোহিঙ্গারা যখন বার্মাতে (মিয়ানমারে) গণহত্যার শিকার হচ্ছিল, তখন অন্য কোনো দেশ নয়, বাংলাদেশই তাদের আশ্রয় দিয়েছিল। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ বা বিশ্বের কেউই তখন প্রত্যাশা করেনি যে, তারা ৫ বছর ধরে (এখন পর্যন্ত) এখানেই থাকবে। প্রথমত, তারা যেন নিরাপদে, আত্মমর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে (যেমনটি তারা চায়) সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যতক্ষণ তারা নিজ দেশের বাইরে অবস্থান করছে ততক্ষণ তাদের জীবিকা, শিক্ষা এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে টিকে থাকতে পারে, বেঁচে থাকতে পারে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এটা কেবল যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। আসিয়ানও এক্ষেত্রে চাপ প্র‍য়োগ করতে পারে। গণহত্যার সঙ্গে জড়িত অনেকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও এক্ষেত্রে সকলের দায়িত্ব রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ মুক্ত গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। উপস্থাপকের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন দূত বলেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হলো মুক্ত গণমাধ্যম। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের কারণে এটা বাংলাদেশে চাপের মধ্যে রয়েছে। এই আইনের কিছু প্রস্তাবিত ‘রেগুলেশন’ বরং সাংবাদিকদের জন্য কাজ করাটাকে আরও কঠিন ও ভয়ঙ্কর করে তুলবে। সমাজ স্বাধীন ও মুক্ত হয় না যদি গণমাধ্যমকে তার প্রশ্ন করতে দেয়া না হয়, সে তার মত প্রকাশ করতে না পারে, সরকারের সমালোচনা না করতে পারে (বলছি না যে দায়মুক্তি দিয়ে)। সরকারের কোনো ভুল দেখলে তার সমালোচনা করার যেন তাদের সম্পূর্ণ অধিকার থাকে। আমি মনে করি, নির্বাচনের সময় এ বিষয়টি অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সক্রিয় গণমাধ্যম ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রে আপনার দীর্ঘ অবস্থানের কারণে আপনি অবগত যে, এখানকারও অনেক মানুষ, অনেক রাজনীতিবিদ গণমাধ্যমকে পছন্দ করেন না কারণ গণমাধ্যম তাদের ঘাম ছুটিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ চমৎকার একটা জায়গা। এ দেশের মানুষ খুব বেশি আন্তরিক। আমি যেহেতু অল্প কিছুদিন হলো এখানে এসেছি, তাই চাইলেও বেশি জায়গায় যেতে পারিনি। শুধু কক্সবাজারেই গিয়েছিলাম। জুলাইতে রাজশাহী ভ্রমণের মাধ্যমে শুরু করবো। আম খেতে যাবো। আগস্টে ইকো টুরিজম প্রজেক্টে সুন্দরবন যাবো। তারপর সেপ্টেম্বরে আবারো কক্সবাজার। নভেম্বরে যাবো চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে। আমি অবশ্যই মিষ্টি দই চেখে দেখবো, (হেসে) প্রত্যেক জায়গার কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়ে দেখবো যে আসলেই কোনটা সুস্বাদু।

পিটার হাস মনে করেন, সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আসলে তেমন কিছুই নয়। তারচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবসায়িক সম্পর্ক, শিক্ষার সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক। তিনি বলেন, এ বছর ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলকে বাংলাদেশে আসতে দেখে খুবই ভালো লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দ্রুততম হারে বাড়ছে দেখে আমি উদ্বেলিত হই। যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাংলাদেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি আমেরিকানদের সাফল্য আমাকে আনন্দিত করে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে যেভাবে এগিয়ে নিতে চায় আমরাও ঠিক সেভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।

Categories
জাতীয়

চলছে না মোটরসাইকেল, বদলে গেছে সেতুর চিত্র

আজ ভোর ছয়টা থেকে পদ্মা সেতুতে চলতে দেওয়া হচ্ছে না কোনো মোটরসাইকেল। এমনকি কাউকে পায়ে হেঁটেও পার হতে দেয়া হচ্ছে না সেতু। শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এদিকে মোটরসাইকেল না চলায় বদলে গেছে সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার চিত্র৷ কোনো জ্যাম নেই সেখানে।

গতকাল রাতে সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করে এক নির্দেশনা দিয়েছে সেতু বিভাগ। জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার প্রথম দিনেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সেতুতে দুইজন মারা যাওয়ার পরই এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত সেতুতে কোনো মোটরসাইকেল চলতে দেয়া হবে না।

এদিকে গতকাল সেতু চালুর প্রথম দিনে দর্শনার্থী ও যাত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে নিয়ম ভাঙার হিড়িক। সেতু কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেককেই মাঝ সেতুতে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে। দেখা গেছে সোশ্যালমিডিয়ার জন্য ভিডিও বানাতেও।

Categories
জাতীয়

আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণদের তৈরি হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী|

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা লব্দ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে আগামীতে নেতৃত্ব দানে প্রস্তুত হওয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েরা তোমরা তৈরি হও আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে। সর্বক্ষেত্রেই তোমরা তোমাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেেব। যেন বাংলাদেশ আর পিছিয়ে না থাকে, বাংলাদেশ এগিয়ে যায় এবং উদ্ভাবনী শক্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরো উন্নত হয়। রবিবার (২৬ জুন) সকালে ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা -২০২২’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।রাজধানীর সেগুন বাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।শেখ হাসিনা বলেন, আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে এদেশের কর্ণধার হবে। তারাই তো আমার মত প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী, হবে শিক্ষক, বড় বড় কর্মকর্তা হবে এবং প্রশাসন, সংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে দেশের উন্নতি করবে।

কাজেই, সেইভাবে তারা তৈরি হোক।তিনি বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তোমাদের চলতে হবে এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যে বিকাশ ঘটছে তারসঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।সরকারপ্রধান এ সময় কৃষি, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য খাত সহ বিভিন্ন খাতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গবেষণাই পারে এক্ষেত্রে পথ দেখাতে। আর আগামীর বাংলাদেশকে আজকের মোধাবীরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।এ সময় তিনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদেরকেও এই মেধা অন্বেষণে যুক্ত করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কেননা, এদের মধ্যেও বিশেষ প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে এবং এরাও আমাদের সন্তান এবং আপনজন সেই বিবেচনায় এদেরকেও মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে।

কাজেই, নতুন প্রজন্মকে আমি বলব, সকলকে নিয়ে চল। তবেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবে, বলেন তিনি।পুরস্কার বিজয়ী সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমাদের যে সুপ্ত মেধা সেটাই আমাদের ভবিষ্যত।’বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ নীতিমালা-২০১২ প্রণয়ণের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিযোগিতাটির নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’।

দেশে সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি গ্রুপে (ষষ্ঠ-অষ্টম, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ) বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।অনুষ্ঠানে ভাষা-সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ (শুধুমাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য)সহ মোট পাঁচটি বিষয়ে তিনটি গ্রুপে দেশের ১৫ জন মেধাবীকে বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ পুরস্কার দেওয়া হয়।এ বছর এপ্রিল-মে মাসে প্রতিষ্ঠান, উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা মোট ১৩২ জন থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে ১৫ জন এবছরের সেরা মেধাবী নির্বাচন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যককে ২ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট,মেডেল ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।শিক্ষামন্ত্রী ডা.দিপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিথি হিসেবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন বক্তৃতা করেন। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক।পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মিফতাহুল জান্নাত এবং রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র জুলকারনাইন নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। এ অনুষ্ঠানে এই প্রতিযোগিতার ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়।

Categories
জাতীয়

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঐক্য এবং পূজা পরিষদ

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের    পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১ ওপর নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর এবং পূজামণ্ডপে হামলা নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা হয় বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ এবং পূজা পরিষদ। এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় পরিষদের নেতারা ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। ঐক্যপরিষদের দপ্তর সম্পাদক মিহির রঞ্জন হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, পত্রিকান্তরে খবরে প্রকাশ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে নিজেই বিষয়টির অবতারণা করেছেন। তিনি সেখানে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন ও পূজামণ্ডপে হামলা এবং ভাঙচুর নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা হয়।

তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের সভাপতিত্রয় ঊষাতন তালুকদার, অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, মি. নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দারের ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এরমধ্য দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেশুনে প্রকৃত সত্যের অপলাপ করেছেন।  বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালীন পূর্বাপর সময়ে দেশে ২৬টি জেলায় সংঘটিত পূজামণ্ডপে হামলার কথা অস্বীকার করায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সারা দেশে ‘ধিক্কার মিছিল’ হয়েছিল। এরপরও তার এ মিথ্যাচারে দেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিদারুণভাবে ক্ষুব্ধ। একইসঙ্গে পররাষ্টমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ বছর ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে’ এটিও সত্যের অপলাপ। নেতারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও পূজার সার্বিক আয়োজন উদ্যোক্তারা নিজস্ব অর্থায়নে করে থাকেন।

এ অবস্থায় ঐক্যপরিষদ ও পূজা পরিষদ এহেন নির্জলা মিথ্যাচারের দায় মেনে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর এবং পূজামণ্ডপে  হামলা নিয়ে প্রপাগান্ডা হয় বলে দিল্লিকে জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে ২০শে জুন এক বৈঠকে মন্ত্রী মোমেন বলেন, সেই প্রপাগান্ডা নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। বৈঠকে মন্ত্রী অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম ও বিশ্বাসের চর্চায় প্রতিবন্ধকতা নেই  সেটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। সেই বৈঠকে মন্ত্রী মোমেন রাজধানীসহ সারা দেশে ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপ তৈরি হয় জানিয়ে বলেন, এরমধ্যে একটি বা দু’টিতে সমস্যা হতেই পারে। এ ছাড়া ছোট একটি দেশের মধ্যে এত লোক বাস করে এবং সে কারণে অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এটাও স্বার্থান্বেষী মহলের কাজ, এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে কাউকে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না বলেও বৈঠকে জানান মন্ত্রী। বলেন, এ বিষয়েও অনেকে মিথ্যা প্রচারণা করে এবং বিষয়টি নিয়ে যেন ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে।

Categories
জাতীয়

৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নেপালে বৌদ্ধ বিহার করবে সরকার: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জানিয়েছেন, ৬০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার ব্যয়ে নেপালের লুম্বিনীতে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করবে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে সরকার একটি ডিপিপি প্রস্তুত করেছে।

রোববার (১৫ মে) মেরুল বাড্ডায় বুদ্ধ পূর্ণিমা ২০২২ উপলক্ষে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমার আলোকে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা এ কথা জানান তিনি। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আরও ২ কোটি টাকা দেশের বৌদ্ধ বিহারে দেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধদের জন্য ঢাকার পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের বৌদ্ধ বিহার এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন কমপ্লেক্স বানানোর জন্য ২১ কাঠা জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থায়নে নেপালের লুম্বিনীতে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের লক্ষ্যে ৬০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকার একটি ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। নেপাল সরকার বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আশ্রম-প্যাভিলিয়ন নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের অনুকূলে একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের মহান প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ শুধু ভারত উপমহাদেশের নয়, তিনি ছিলেন সারা বিশ্বের আলোকবর্তিকা। তার প্রচারিত ধর্মীয় মতবাদ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য এক শান্তির পথ। আদর্শের পথ, কুশলের পথ। কল্যাণের পথ।

ফরিদুল হক খান বলেন, লোভ, মোহ, হিংসা-দ্বেষ, লালসাকে অতিক্রম করে গৌতম বুদ্ধ সারা জীবন মানুষের কল্যাণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করেছেন। শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আদর্শ ও সুশীল সমাজ গঠন ছিল তার পরম লক্ষ্য। বিশ্ব মানবতার কল্যাণ সাধন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও হিংসায় উন্মত্ত পাশবিক শক্তিকে দমন করার জন্য আজকের পৃথিবীতে বুদ্ধের শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন।

Categories
জাতীয়

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এবার স্মার্ট বাংলাদেশ’

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, এই স্লোগান শুনে লোকে এক সময় হাসাহাসি করেছে, কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা। এই সফলতার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আসছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’।

আজ রোববার (১৫ মে) ঢাকার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের পঞ্চম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দেন, সেটা বাস্তবায়ন করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্লোগান নয়, বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি সবসময় মিথ্যা কথা বলে বেড়ায়। কিন্তু আমাদের মিথ্যা কথা বলার দরকার নেই। দেশজুড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, আমরা যদি শুধু সেগুলো বলি, তাহলেই যথেষ্ট। নতুন কমিটিতে দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটি করতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলতে হবে।

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। এর জন্য প্রাইমারি স্কুল থেকেই কাজ শুরু হবে।

Categories
জাতীয়

এবার আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল ব্যয়ের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।সোমবার (১৬ মে) এ বিষয়ে এক পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।ঢাকা মহানগরীকে রক্ষায় ৫ দফা প্রস্তাব মেয়র তাপসের
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মে) অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৬ অধিশাখা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশ সফরে নিষিদ্ধ করে পরিপত্র জারি করে। করোনার সময়েও কিছুদিন সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা হয়।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব প্রকার এক্সপোজার ভিজিট, স্টাডি ট্যুর ও ইনোভেশনের আওতাভুক্ত ভ্রমণ এবং ওয়ার্কশপ, সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব প্রকার বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। এ আদেশ উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং কার্যকর হবে।

এর আগে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকার অহেতুক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ সফর বেড়ে গেছে। এ জন্য এখন থেকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বিদেশ সফরে যেতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীও পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যদি কোনো প্রয়োজন না থাকে তাহলে বিদেশ সফর নয়।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধ ও কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Categories
জাতীয়

দেশে ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে ৩৯০ কোটি টাকা: টিআইবি

দেশে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে ৩শ’ ৯০ কোটি টাকা। গবেষণা প্রতিবেদনে এমন দাবি করে টিআইবি বলছে, বিশাল এ দূর্নীতি হয়েছে দুটি কয়লাভিত্তিক আর একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে। বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূমি ক্রয় ও অধিগ্রহণসহ নির্মাণের নানা পর্যায়ে দুর্নীতির খুঁজে পেয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১১ মে) সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, বরিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আরও একটি এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ী ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর গবেষণা চালিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিবেদন।

অঙ্গীকার অনুযায়ী ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চায় সরকার। ফলে, সামগ্রিক উৎপাদন বাড়াতে জোর দেয়া হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে। এমনই দুটি আর এলএনজি ভিত্তিক একটি বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে ১৪ মাস গবেষণা করে টিআইবি। সংস্থাটির দাবি, তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্নীতি হয়েছে অন্তত ৩শ’ ৯০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, জমি অধিগ্রহ থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। জমি কেনা-বেচাতেও আত্নসাৎ হয়েছে প্রচুর অর্থ, যার ভাগ পেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আরও অনেকে।

টিআইবির রিসার্চ ফেলো মাহফুজুল হক বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির ভেতরে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা সম্পাদন ও পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান, ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ নিরূপণ ও বিতরণ এবং বিভিন্ন অংশীজনের স্বার্থ দেখা হয়েছে।

টিআইবির দাবি, পার্শ্ববর্তী অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গবেষণা করে ইউনিট প্রতি দাম পর্যালোচনা করে এসব কথা বলছে টিআইবি। সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন ২০১০ বাতিলসহ সাত দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।