Categories
রাজনীতি

একদিন তারাও ছিলেন দাপুটে নেতা

শুরু ২০২০ সালের মার্চে। এরপর থেকে চলছেই। ২০২১ সালেরও প্রায় অর্ধেক চলে গেছে। তবু পুরো বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি বিদায় নেয়ার লক্ষণ নেই। এর ফলে প্রায় দুটো বছরই কেটে যাচ্ছে এই ভাইরাসের আতঙ্কে।
সারাবিশ্বের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে বাংলাদেশেও। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত। দলটির ছয় শতাধিক নেতা মারা গেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে। মহামারির মধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, কোথাও সাংগঠনিক কোনো কর্মসূচি নেই। এতে ঝিমিয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ দূরত্ব। এই দূরত্ব কোথাও কোথাও দ্বন্দ্ব-সংঘাত, এমনকি খুনের ঘটনায়ও গড়িয়েছে।

মূল লক্ষ্য ছিল, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করবে। আমি মনে করি, এটা সফলভাবে করা গেছে’
আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে এ দুই বছর শাখা সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। সভা-সমাবেশ-সেমিনার এমনকি নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগ স্থাপনও করা যায়নি। সব কিছুতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দল।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, করোনাকাল কেটে গেলেই এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুন উদ্যমে কাজ করবেন তারা।
গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর হাজারীবাগে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপকমিটির সহযোগিতায় ঢাকাবাসীর উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ করা হয়

দলের দফতর সূত্র জানিয়েছে,করোনাকালে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাত নেতাসহ ছয় শতাধিক নেতা মারা গেছেন। এদের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, মোহাম্মদ নাসিম ও সাহারা খাতুন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, ঢাকার এমপি আসলামুল হক প্রমুখ ছিলেন।

রাজনীতির মূলমন্ত্র মানবসেবা। করোনাকালে মানবসেবার উত্তম কর্মে অংশগ্রহণ করার অপার সুযোগ হয়েছে আমাদের। ফলে রাজনীতির শুদ্ধতম কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য পরম সৌভাগ্য

তবে করোনাকালেও ঘটেছে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে মৃত্যুর ঘটনা। বিভিন্ন ধরনের সংঘর্ষে দলটির ডজনেরও বেশি নেতাকর্মীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এ সময়ে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে আমিনুল ইসলাম নিক্সন (৪৫), গাইবন্ধার সাঘাটায় বজলুর রশিদ বুলু (৫৮), বান্দরবান সদরে চাইন ছাহ্লা (৩৮), চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আব্দুল হক, কক্সবাজারের মহেশখালীতে আবু বক্কর (৩০), ঝিনাইদহের শৈলকুপায় লিয়াকত হোসেন বল্টু (৫০)-সহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বলি হয়েছেন।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে সব ধরনের কর্মকাণ্ড স্থবির, মানুষের জীবনই বিপন্ন। অফিস আদালতসহ সব কিছুই বন্ধ। এমনকি পৃথিবীতে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছেন। ১৭ কোটিরও বেশি মানুষ আক্রান্ত। এমন একটা দুর্যোগের সময় আওয়ামী লীগের প্রধান দায়িত্ব ছিল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো; করোনায় যেন আক্রান্ত না হয় সেজন্য মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া। পাশাপাশি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোসহ যেখানে যেটা প্রয়োজন, এই দুর্যোগে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করবে। আমি মনে করি, এটা সফলভাবে করা গেছে। আমরা প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ পরিবারকে দলীয়ভাবে ত্রাণ দিতে পেরেছি। পাশাপাশি সব ধরনের সহায়তা দিয়েছি।’

হানিফ দাবি করেন, ‘এর মধ্যেও সাংগঠনিক তৎপরতা সীমিত আকারে ছিল। অনেক ইউনিয়ন ও উপজেলার কাউন্সিল হয়েছে। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগেরও কাউন্সিল হয়েছে। আমাদের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগেরও সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল। তারাও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এই দুর্যোগ মোকাবিলায়। পাশাপাশি সাংগঠনিক কাজও করেছে। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন ও সাংগঠনিক কাজ, দুটোই সমান্তরালভাবে করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন করোনার প্রকোপ কমলে আগামী কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজানোর যে প্রক্রিয়া, সেটা নবোদ্যমে শুরু করবো। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কাউন্সিল শেষ করে জাতীয় কাউন্সিল করবো।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনায় প্রকাশ্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করা সম্ভব হয়নি। তবে রাজনীতির মূলমন্ত্র মানবসেবা। করোনাকালে মানবসেবার উত্তম কর্মে অংশগ্রহণ করার অপার সুযোগ হয়েছে আমাদের। ফলে রাজনীতির শুদ্ধতম কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য পরম সৌভাগ্য।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনাকালে অবশ্যই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও সাংগঠনিক কর্মসূচি সঠিকভাবে করতে পারেনি। আমাদের নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগের বাধা হচ্ছে করোনা। আমরা যে মাত্রায় করতে চেয়েছি, পারিনি। আমরাও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি না, কথা বলতে পারি না। আমরাও তাদের অভাববোধ করি। আওয়ামী লীগ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত অবশ্যই হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যখন করোনা স্বাভাবিক হতে যাচ্ছিল, সে সময় কিন্তু আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জেলায় সম্মেলন শুরু করেছিল। এখন তো সরকারিভাবে বিধিনিষেধ দেয়া, এখন এই করোনায় যদি আমরা এক জায়গায় জমায়েত হই, সেক্ষেত্রে করোনা প্রতিরোধ তো দূরের কথা, বাড়ার ঝুঁকি থাকে। একদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, আরেকদিকে নিজেদের সতর্কতা, দুটোর কারণেই সাংগঠনিক কাজগুলো ঠিক মতো করা যায়নি। স্বাভাবিক সময় এলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হবে।’

করোনাকালে যাদের হারাল আওয়ামী লীগ
করোনা পরিস্থিতিতে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু করোনায় মারা গেছেন। সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরীও মারা গেছেন এ বছরই। ঢাকার এমপি আসলামুল হক করোনাকালেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ এমরান আলী, বগুড়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ফাঁপোর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান-প্রভাষক আবদুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন, যশোর চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান নিপু এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রমেশ চন্দ্র সাহা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এ বছর।

২০২০ সালে করোনা সংক্রমণ ও নানা অসুখে কেন্দ্রীয় ছয় নেতাসহ ছয় শতাধিক নেতা হারিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেটে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

jagonews24আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়

একইসঙ্গে ভাষাসৈনিক ও সাবেক এমএলএ আহমেদ আলী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী, ঢাকা-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও নওগাঁ-৬ আসনের এমপি ইসরাফিল আলম, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি শামসুদ্দিন আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের এমপি ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, মৌলভীবাজার-১ আসনের সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি মমতাজ বেগম, টাঙ্গাইল-২ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান ও বগুড়া-১ আসনের এমপি আবদুল মান্নান ২০২০ সালেই মারা গেছেন।

এছাড়া ২০২০ সালে মারা গেছেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আক্রামুজ্জামান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ রওশন আলী, টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকুল, বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম দেলোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মো. আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা অহিদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহীন চৌধুরী, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের অন্তর্গত ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন, পাবনা জেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগরের অন্তর্গত চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহমান, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকুল সিদ্দিকী।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক আব্দুল মাহি লাল্টু, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা শহিদুজ্জামান সোনা মিয়া, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়া জেলার ধুনট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আশিকুর রশিদ হেলাল, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরুল হক, যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আমির হোসেনও এই করোনাকালে প্রয়াত হয়েছেন।

Categories
রাজনীতি

সরকারের ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না, এই সরকার বন্যার কারণ অনুসন্ধান করেনি: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। যে  কারণে বন্যা হয় সেই কারণ বা সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। বরঞ্চ এটাকে বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুক্রবার(২৪ জুন) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ‘গুম’ হওয়া কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, দেশে একটা ভয়াবহ বন্যা চলছে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে। আমি নিজে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সিলেটে গিয়েছিলাম। নিজের চোখে না দেখলে এর ভয়াবহতা সস্পর্কে কোনো ধারণা করা যায় না। মানুষ যে কষ্টে আছে এবং তাদের কাছে যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, তাদের বাঁচার ব্যবস্থা করে দেওয়া, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া- তার কোনো ব্যবস্থা সরকার করে নাই।

অথচ এই তথাকথিত অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তিনি হেলিকপ্টারে গিয়ে ওপর দিয়ে ঘুরলেন উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ঘুরে তিনি সার্কিট হাউসের হেলিপ্যাডে নেমেছেন। সেখানে ১০জন লোককে টোকেন ত্রাণ দিয়েছেন এবং তারপরে তিনি বলেছেন, সব হয়ে যাবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত আমি যা খবর পেয়েছি এগুলো একেবারে কিছুই হয়নি।

সেনাবাহিনীর কাজ নিয়ে কিছুটা আশাবাদ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেনাবাহিনী নামার পরে তারা সিস্টেমেটিক্যালি কিছু ত্রাণ রিমোট অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়া কিছু কাজ করছে বেসরকারি এনজিওগুলো।’

বিএনপি নেতাকর্মী ত্রাণ নিয়ে জনগণের পাশে আছে এমনই প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। তারা নিজেদের পয়সা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে ত্রাণ নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ব্যাপক হারে কাজ করছে তারা।আমি আপনাদের মাধ্যমে সিলেটের নেতাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।একইসঙ্গে আমি অবিলম্বে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

বন্যার কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, হাওড়ে যে বড় রাস্তা হয়েছে, যেটা কিশোরগঞ্জের ইটনায় গিয়েছে। আমরা শুনেছি সেটা আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের একটা প্রাইজ প্রজেক্ট। ৩৩ কিলোমিটার এই রাস্তা। এই রাস্তায় সম্পূর্ণ পানির যে স্বাভাবিক প্রবাহ যেটাকে বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে যে পানি উজান থেকে নেমে আসে সেই পানি আপনার সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওড় দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনার হাওড় দিয়ে মেঘনাতে গিয়ে পড়ে। অথচ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা গতিকে আজকে বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলে এভাবে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৪ জুন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের (সাবেক ৫৬নং ওয়ার্ড) সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার এই দিনটিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকাল সাড়ে ১০টায় খিলগাওয়ে চৌধুরী আলমের বাসায় যান এবং তার সহধর্মিনী হাসিনা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে খবরাখবর জেনে নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌধুরীর আলমের দুই ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী, আবু সাদাত চৌধুরী, দুই মেয়ে মাহমুদা আখতার, মাহফুজা আখতার ও চৌধুরী আলমের ছোটভাই খুরশীদ আলম।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, মহানগর নেতা আবদুল  হান্নান, ফারুক আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নজরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

Categories
রাজনীতি

‘আমাদেরও সময় আসবে, ওয়েট অ্যান্ড সি’, বাহার প্রসঙ্গে ইসি রাশেদা

‘আইনের কিছু ফাঁক-ফোকরকে ব্যবহার করে’ সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বাধা সত্ত্বেও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা।

এলাকা ছাড়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে অমান্য করা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সোমবার কুমিল্লায় নির্বাচন কমিশনার বলেন, “তিনি (এমপি বাহার) আইন অমান্য করে নির্বাচনী এলাকায় আছেন। তবে আইনের কিছু ফাঁক-ফোঁকরকে তিনি ব্যবহার করছেন।“

“আমাদেরও সময় আসবে। ওয়েট অ্যান্ড সি।”কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বাহার আইন ভেঙে দলীয় প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠলে তাকে সতর্ক করে নির্বাচন কমিশন। তাতে কাজ না হওয়ায় গত বুধবার তাকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেয় ইসি।

কিন্তু প্রথম দফা সতর্কবার্তা পেয়েই হাই কোর্টে গিয়েছিলেন বাহার। তাকে নির্বাচনের প্রচারে সুযোগ না দেওয়া কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত থেকে রুলও পান তিনি।

নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে এলাকা ছাড়তে বললেও ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা তাতে কান না দেওয়ায় রোববার দৃশ্যত অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। বলেন, সংসদ সদস্যের জন্য ইসির অনুরোধই ‘যথেষ্ট’। না মানলে কিছুই করার নেই।

একদিন বাদে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা নগরীর বাদুড়তলায় নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা আরও বলেন, “যদি ভোটের পরিস্থিতি ভালো না থাকে তাহলে নির্বাচন স্থগিত করা হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রয়েছে।”

নির্বাচনের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় ও ব্রিফিংয়ের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় সেখানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকরা এই নির্বাচন কমিশনারের কাছেও সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। উনারা আইন প্রণয়ন করেন। যদি উনারাই আইন না মানেন, তাহলে আর কী বলব! উনাকে তো আর আমরা টেনে-হিঁচড়ে নামাতে পারি না। এখানে ইজ্জত গেল কার আপনারাই বুঝুন।”

নির্বাচনে কোনো ধরনের খারাপ পরিস্থিতি এখনও ঘটেনি এবং ভোটের পরিস্থিতি ভালোই আছে উল্লেখ করে আহসান হাবিব খান বলেন, “নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের হাঙ্গামা বরদাশত করা হবে না।”

Categories
রাজনীতি

সংসদ সদস্য বাহার এলাকা না ছাড়লে ইসির কিছু করার নেই: সিইসি

চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এলাকা না ছাড়লে নির্বাচন কমিশনের আর তেমন কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন সিইসি। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সাবেক সচিব-অতিরিক্ত সচিবদের সঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় আগারগাঁওয়ে।

সিইসি বলেন, আমাদের আচরণবিধিতে বলা আছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এলাকায় থাকবেন না, থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বা প্রচার চালাবেন না। কুমিল্লার সংসদ সদস্য তেমনটা করছিলেন বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা কিন্তু আমাদের এখান থেকে তাকে চিঠি দিয়ে বলেছি, এলাকা ত্যাগ করার জন্য। তিনি ত্যাগ করেননি। শুনেছি, তিনি আদালতে মামলা করেছেন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমাদের আচরণ বিধিমালাতে এটা আছে, যদি সরে থাকেন তাহলে নির্বাচনটা ভালো হয়। সেই চিঠি আমরা প্রকাশ্যে দিয়েছি। এটাই ইনাফ (যথেষ্ট) একজন সংসদ সদস্যের জন্য, সেটা সম্মান করা। যদি তিনি সম্মান না করেন, তাহলে সেখানে আমাদের তেমন কিছু করার নেই।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে ৮ জুন এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় কমিশন। কিন্তু এখনও এলাকাতেই অবস্থান করছেন এ সংসদ সদস্য। উল্টো ইসির নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ইসির প্রতি রুল জারি করেছেন।

Categories
রাজনীতি

আমরা সব সময় ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি, আমরা ভয় পাবো কেন : প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে প্রহসন ও ভোট কারচুপির সংস্কৃতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটের পার্সেন্টেজ সব সময় বেশি ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে ভোটে আওয়ামী লীগকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সব ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে আজ আমরা এগিয়ে এসেছি। ‘

আজ শনিবার (৭ মে) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। আমরা সব সময় ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। কখনো পেছনের দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কখনো পিছিয়ে ছিল না। ‘জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা বারবার ভোট দিয়েছে, টানা তিনবার ক্ষমতায় রেখেছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। ‘

এবার ঈদে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হচ্ছে। তৃণমূল থেকে উন্নয়ন করছি। মানুষ গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঈদ করেছে। উৎসব করেছে। এতে গ্রামে অর্থ সরবরাহ বাড়ে। বিশ্বে অনেক দেশে এটা কমে গেছে। ‘

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত দলের সম্মেলন করি। সময় কাছে এগিয়ে এসেছে। এর আগে কিছু কাজ আমরা করি। ঘোষণাপত্রের অনেক কিছু বাস্তবায়ন করেছি। উন্নয়নের ধারা আরো অব্যাহত রাখতে হবে। ‘

এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা শুরু হয়।

Categories
রাজনীতি

শ্রীলঙ্কা নদীতে পড়েছে, আ. লীগ পড়বে বঙ্গোপসাগরে

অর্থনৈতিক সংকট আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় টালমাটাল শ্রীলঙ্কা। দেশটির এই পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শ্রীলঙ্কার রাজাপাকশে সরকার নদীতে পড়েছে আর আমাদের দেশের আওয়ামী লীগ সরকার পড়বে বঙ্গোপসাগরে। কারণ এরা ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি, নেবেও না।

আজ মঙ্গলবার (১০ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে এসব মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা থেকে এই সরকারের শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে। কিন্তু তারা শিক্ষা নেবে না। যদি নিতো, তাহলে গত ১০ বছরে অনেক কিছু শিখতো।

‘বিএনপি নির্বাচনে যাবে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপির দায়িত্ব নিতে বলেন। নইলে বারবার আমাদের দলের বক্তব্য তিনি দেন কীভাবে?

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই অবৈধ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এই কথার মধ্যে কোনো যদি-কিন্তু নেই।’

Categories
রাজনীতি

তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা বিএনপি জামায়াত

‘মির্জা ফখরুল সাহেব খুঁজলে পাবেন, তাদের মন মানসিকতা সম্পন্ন শীর্ষ পর্যায়ের যে ব্যবসায়ী, তারাই তেলে আমদানি করেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সমপর্ক নেই।…মির্জা ফখরুল সাহেবের যে কোনো ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, এই জন্য তারা খুঁজে খুঁজে বের করেন।’

বিএনপি মনোভাবাপন্ন ব্যবসায়ীরাই ভোজ্য তেল আমদানিতে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। বলেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।সোমবার কুষ্টিয়ার সাদ্দামবাজারে নব নির্মিত জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি অফিস ভবন উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতার কাছে জানতে চান সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়ে।
ফখরুল অভিযোগ করেন, সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আঁতাতের কারণে।
জবাবে হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব খুঁজলে পাবেন, তাদের মন মানসিকতা সম্পন্ন শীর্ষ পর্যায়ের যে ব্যবসায়ী, তারাই তেলে আমদানি করেন। এর সঙ্গে সরকারের কোনো সমপর্ক নেই।’

তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের যে কোনো ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, এই জন্য তারা খুঁজে খুঁজে বের করেন।
‘মির্জা ফখরুল সাহেব দেখেননি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি আজকে একটা অস্থিতিশীল অবস্থায় চলে গেছে? কেবল তেলের দাম নয়, গ্যাস থেকে শুরু করে, সার প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়েছে।

‘গ্লোবালি যে জিনিসপত্রের দাম, বাজার যে অস্থিতিশীল, সেটার ইফেক্টটা তো বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা বিশ্বই অস্বস্তির মধ্যে আছে। এটা তো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে খবরে আসছে।

‘মির্জা ফখরুল সাহেব যদি অন্ধের মতো বসে থাকেন, বহির্বিশ্বের খোঁজ খবর না রাখেন, তাহলে তার কাছ থেকে এই ধরনের উক্তি আসাটাই স্বাভাবিক।’সয়াবিন তেলের ইস্যু এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি। আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতির পর গত এক বছরে দর বেড়ে দেড় গুণের বেশি হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, বাজার থেকে তেল অনেকটাই উধাও হয়ে গেছে।

গত মার্চে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকার ফিরিয়ে দেয়ার পর বাজারে সয়াবিন তেল সরবরাহ কমে গিয়েছিল অনেকটা। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় ঈদের আগে আগে।

তেল আমদানিতে বিএনপি মনমানসিকতার ব্যবসায়ীরা: হানিফ
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি: নিউজবাংলা
এবার তেল একেবারে উধাও হয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বোতলজাত তেল লিটারে ৩৮ টাকা আর খোলা তেল ৪৪ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা আসে। এর পরেও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

বিভিন্ন জেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে গুদাম থেকে এমনকি বাসা থেকে মজুত করা বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদের আগে না ছাড়লেও দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর বাড়তি দামে তেল ছাড়া হয়। সেই বোতলের গায়ের দাম লিটারে ১৬০ টাকাই লেখা। তবে দোকানভেদে ২২০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে আসবে

বিএনপি মুখে যাই বলুক না কেন, তারা নির্বাচনে আসবেই বলে মনে করেন হানিফ। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় বলে এসেছে, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক করার জন্য যা যা করার দরকার সরকারের পক্ষ থেকে সবটুকু করা হবে।’

বিএনপির ভোটে অংশ না নেয়ার কারণ নেই বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। বলেন, ‘২০১৮ সালেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। যে নির্বাচনে অংশ নেয় নাই ২০১৪ সালে, সেখানে মূল যেটা কারণ ছিল, সেটা হলো, তাদের সহযোগী যে দল জামায়াতে ইসলামী, তাদের শীর্ষ নেতারা যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়ে… অনেকের রায় কার্যকর ছিল. অেনেকে পলাতক ছিল। সে সময় জামায়াত নির্বাচনে যায় নাই বলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই। এর বাইরে তো আর কোনো কারণ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন রাজনৈতিক কারণে যে কথাই বলুক না কেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক হবে।’
তারা তো বলেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না- এমন প্রশ্নে হানিফ বলেন, ‘তারা অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে।‘

অন্য এক প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘যে দলের শীর্ষ নেতা নেত্রী এতিমের টাকা আত্মসাত করে কারাগারে এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মামলায় বিদেশে পলাতক, সে দেশের নেতারা অন্য দলের সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাটা দেখার দরকার।
‘আওয়ামী লীগ দেশের একমাত্র দল যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং স্বাধীনতাউত্তর একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে।’

‘আওয়ামী লীগ কোনো ফন্দি ফিকির করে না। নির্বাচন নিয়ে ফন্দিফিকির করার অভ্যাস বিএনপির আছে, সেটা জনগণ দেখেছে। ক্ষমতায় আকড়ে থাকার জন্য তারা ১৯৯৬ সালে কী করেছিল, সেটাও দেশবাসী দেখেছে এবং ২০০৬ সালের শেষভাগে এসে তাদের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তারা যে নাটক করেছিল, সেটাও দেশবাসী দেখেছে।’

Categories
রাজনীতি

দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে কুষ্টিয়ায় হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কারণে দেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে। আওয়ামী লীগ এবারও সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হবে। গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, এই দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আন্দোলনের নামে কোনো নাশকতা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা নয়, এটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিরও অংশ নয়। এটা আনতে হয়েছিল শুধুমাত্র বিএনপির মতো অগণতান্ত্রিক দল ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা প্রকাশের কারণে। তবে এর রূপরেখায় উল্লেখ ছিল পরপর তিনবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সেটা হয়েছে। তাই চুক্তি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে। উচ্চ আদালতও এই সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ বলেছে। এটা নিয়ে কথা বলা যুক্তিযুক্ত নয়।
ঈদসামগ্রী বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষকে ঈদসামগ্রী দেয়া হয়।

Categories
রাজনীতি

‘বিদেশিদের কাছে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই’

বিদেশিরাও বিশ্বাস করে রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে ধানমন্ডির এক হোটেলে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, এটি আজ বিশ্বের কাছে প্রমাণিত। অন্যান্য রাজনৈতিক দলে শেখ হাসিনার মতো দক্ষ কোনো নেতা নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার এক দশমাংশ সক্ষমতা দেখাবেন এমন কোনো নেতাও এ দেশে নেই। বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ও ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনা। বিদেশিরাও বিশ্বাস করে রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরও সামনে এগিয়ে যাবে।এ সময় জাতীয় সরকার গঠনের নামে প্রলোভন বিএনপির ভাওতাবাজি বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপির এমন ভাওতাবাজি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে, কিন্তু এতে করে দেশের কল্যাণ আসবে না।

Categories
রাজনীতি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন তাহেরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিলেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মুফতী মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী। এছাড়া, বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তার দেয়া বক্তব্যকে খন্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপনকারী ইউটিউবারদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে যমুনা নিউজকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তাহেরী।দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতী তাহেরী জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশ নেবেন। বিগত একাদশ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করেছিলেন। সেবার তাহেরীর প্রতীক ছিল ডাব। এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়বেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাহেরী বলেন, সময় হলেই সবকিছু বোঝা যাবে। যেসব ইউটিউবাররা ওয়াজ মাহফিলে তার বক্তব্য খন্ডিত আকারে উপস্থাপন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হয়েছেন কাজী মো. মহিউদ্দিন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মুফতি মাওলানা গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের ভাদুঘর এলাকায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।