Categories
স্বাধীন

নায়ক শাকিবের জন্ম আমার ড্রয়িংরুমে: ওমর সানী | সংবাদ

চিত্রনায়ক ওমরসানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্যের কারণে এর মাঝেই বেশ কয়েকবার তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হন। এদিকে ওমরসানী আবারও আলোচনায় এলেন শাকিব খানকে নিয়ে মন্তব্য করে। একটি গণমাধ্যমে তিনি বলেন, শাকিব খানের জন্ম আমার ড্রয়িংরুমে হয়েছে। ওমরসানী শাকিব খানের প্রথম সিনেমার গল্প শোনান। যে সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন ওমরসানীর শ্যালিকা ইরিন জামান।

সানী বলেন, ‘চলচ্চিত্রের শাকিবের জন্ম হয়েছে আমার ড্রয়িংরুম থেকে। সেই দৃশ্য এখনো খুব মনে পড়ে। তখন মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন চলচ্চিত্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান আমার উত্তরার বাসায় রানা নামে একটি ছেলেকে নিয়ে হাজির। ড্রয়িংরুমে ছিলাম আমি, মৌসুমী, ইরিন। সোহান ভাই মৌসুমীকে বললেন, তুমি যদি রাজি থাকো, তাহলে এই ছেলেকে ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবিতে ইরিনের বিপরীতে নায়ক বানাব। তা না হলে রিয়াজকে নিয়ে নেব। অনেক আলাপ-আলোচনার পর মৌসুমী ছেলেটির মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিল। এই সেই ছেলে, আজকের শাকিব খান। তারপর থেকে সে আমাকে ভাইয়া আর মৌসুমীকে ভাবি বলে ডাকে। এর আগে নিজেও এক অনুষ্ঠানে সেদিনের সেই ড্রয়িংরুমের গল্প বলেছিল শাকিব।

Categories
স্বাধীন

লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর চোখে সফল অ স্ত্রোপচার

ছবি ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাম চেখে সোমবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে সফল অ স্ত্রোপচার করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম লন্ডন থেকে জানান, সোমবার বিকেলে লন্ডনের একটি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর বাম চোখে অ স্ত্রোপচার হয়েছে। তিনি বলেন, অ স্ত্রোপচারের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ আছেন।
প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিজিটাইলি স্বাক্ষর করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ১৯ জুলাই লন্ডনে পৌঁছার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রনিক ফাইল স্বাক্ষর করেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশি দূতদের সম্মেলনে এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দিতে গত ১৯ জুলাই লন্ডনে যান। প্রধানমন্ত্রী আগামী ৫ আগস্ট দেশে ফিরবেন।
সূত্র: বাসস

Categories
স্বাধীন

ভিক্ষুকদের ৫ লাখ টাকায় ১০ টি ভ্যানগাড়ি দিলেন ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার অদূরে ধামরাইকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে এক অভিন্ব পদক্ষেপ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। ভিক্ষুকদের মাঝে ১০টি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি বিতরণ করেছেন তিনি। প্রতিটি ভ্যানগাড়ির মূল্য ৫০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০জন ভিক্ষুককে এ ভ্যানগাড়ি দেন ঢাকার ডিসি।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে ভিক্ষুকমুক্ত ধামরাই উপজেলা গঠনের অংশ হিসেবে ভিক্ষুকদের মাঝে ভ্যানগাড়ি বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয় বলে জানান ডিসি আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস।

এর আগে তিনি ধামরাই থানা কম্পাউন্ড পরিদর্শন করে পুলিশি কর্মকাণ্ডের প্রতি সন্তোষ ও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এরপর ধামরাই হার্ডিঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে বিরোধী শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিসি।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিসি বলেন, তোমাদের নিয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়েমুক্ত ধামরাই উপজেলা গড়তে চাই, একটি সুন্দর সমাজ গড়তে চাই। তোমাদের নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পৌরমেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ গোলাম কবির মোল্লা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেন, ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন এবং ধামরাই হার্ডিঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী।

Categories
স্বাধীন

অনেকেই তারেকের নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছে : জাফরুল্লাহ চৌধুরী

তারেক রহমানকে কেন আপাতত নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে বলেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তার দাবি, তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে অনেকে খাচ্ছে। এই মুহূর্তে তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলেও সব ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। তাই আপাতত দূরে সরে থাকাই ভালো হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এর আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐক্যফ্রন্টের নেতা দুই বছরের জন্য তারেককে দল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন।গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। আর গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, মনোনয়নসহ নানা বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।তবে সাড়ে ১৩ শতাংশ ভোট এবং আটটি আসন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট হেরে যাওয়ার পর বিএনপিতে নানামুখী মূল্যায়ন হচ্ছে। জাফরুল্লাহর পরামর্শ, ঢেলে সাজানো হোক বিএনপিকে।

তারেক রহমানের কেন রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত? তারেকের নাম ভাঙিয়ে এখানে অনেকে খাচ্ছে। ফোনেও কিছু করা যাচ্ছে না, সব ফাঁস হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তারেক জিয়া হয়তো ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য তার চুপ করে থাকাটাই ভালো। উনি ওখানে (যুক্তরাজ্য) বসে একটা মাস্টার্স ডিগ্রি করুন। পরে এলে উনি দায়িত্ব নিতে পারবেন।’যেহেতু তিনি দেশে আসতে পারছেন না। তার নাম ভাঙিয়ে অনেকে খাচ্ছে, এ সুযোগ না দিয়ে, ওখানে একটা ডিগ্রিও করল। আবার সার্বিক বিষয় অবজার্ভও করল। তাতে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করি।

বিএনপি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে জরুরি কাউন্সিল করা দরকার। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক, চেয়ারম্যান হিসেবে খালেদা জিয়াই থাকুক। ওনার পরামর্শ নিয়ে বিএনপি সামনে এগিয়ে যাবে। নতুন লিডারশিপ আসুক, তাতে মঙ্গল হবে। এই মুহূর্তে তারেক রহমানের চুপ করে থাকাটাই উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।আপনার এই পরামর্শ কি বিএনপি নেবে? এটা আমার ব্যক্তিগত মত, তারা মেনে নিতেও পারে। আবার নাও পারে। তবে এভাবে এগিয়ে গেলে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আমি মনে করি। ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে কী ভাবছেন আপনারা? আমরা এই মুহূর্তে অন্য কোনো কর্মসূচি নিয়ে ভাবছি না। আগামী ৬ তারিখের সংলাপ নিয়ে আমরা ভাবছি। এই প্রোগ্রামটা কীভাবে সাফল্যম-িত করা যায়, সেটাই ভাবছি। ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের ফলাফলের বিরুদ্ধে আসনওয়ারি মামলা করার যে পরিকল্পনা ছিল, তার অগ্রগতি কী?

সারা দেশেই মামলার জন্য বলা হয়েছে। আমি তো মনে করি, ২৯৮টি মামলাই হওয়া উচিত। তবে এ বিষয়ে বাদ সেধেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসাররা। তারা কাগজপত্র দিচ্ছেন না। মামলা করার সময়ই চলে যাচ্ছে। আর মাত্র তিন দিন মনে হয় সময় আছে। এখনো অধিকাংশ কাগজপত্র দিচ্ছে না, আর মামলা করব কখন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কতটি মামলা করা যায়।

Categories
স্বাধীন

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। এতে ভারত এবং চীন উভয়ই বেশ খুশি। নির্বাচনের পর প্রথম অভিনন্দন জানিয়ে নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি নিজের অত্যন্ত উৎফুল্লতার প্রমাণ দিয়েছেন। একই সময়ে আনন্দবাজারসহ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোও আওয়ামী লীগের ভূমিধস জয়ে বেশ ফলাও করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।

কিন্তু এর রেশ কাটতে শুরু করে দু’একদিন যেতে না যেতেই। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরই ভারতীয় গণমাধ্যম, থিংকট্যাংকসহ রাজনীতিক মহলের সুর অনেকটা পাল্টে যায়। ভারত বুঝতে পারে, বাংলাদেশের রাজনীতির নাটাই অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন চীনমুখী। নতুন যে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে তাতে পুরোপুরিই চীনা প্রভাব বিদ্যমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদ গঠনসহ এখন সার্বিকভাবে সরকার পরিচালনা করছেন অনেকটাই চীনা স্টাইলে এবং চীনের পরামর্শে। চীনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এখন আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে গেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর এ কারণে ভারত শুধু চিন্তিতই নয়, ভেতরে ভেতরে অনেকটা আতংকিতও হয়ে পড়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ক্ষমতায় থাকাকালে চীন ও ভারত উভয়ের সঙ্গেই বিএনপির সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেয়া নিয়ে ওই সময় চীনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল সেটি দীর্ঘ এতোদিনেও মিটমাট হয়নি। অন্যদিকে তেল-গ্যাস রফতানি করতে না দেয়ায় ভারতের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি হয় তৎকালীন বিএনপি সরকারের। পরবর্র্তীতে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা গেরিলাদের সহায়তার অভিযোগও আনা হয় বিএনপির বিরুদ্ধে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সুযোগগুলোই কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছে এবং এখন পর্যন্ত বহাল-তবিয়তে আছে

ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের যে অবনতি হয় সেটির চূড়ান্ত রূপলাভ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এরপর অবশ্য ২০১৬ থেকে উভয় পক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি অনেকটাই ভারতের কমিটমেন্টের উপর ভরসা করে এগিয়ে ছিল। অবশেষে ভারত সেই কমিটমেন্ট রক্ষা করেনি। আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যক্তিগত আলোচনায় নিজেরা বলে থাকেন এবং বিশ্বাসও করেন, ভারত কখনো বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেবে না। অবশেষে সেটিই প্রমাণ হলো গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে।

কয়েক বছর আগেও চীন অন্য দেশের রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতো না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ভারতের চতুর্পার্শ্বের প্রায় সবগুলো দেশই এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে। চীনের আগ্রাসী মনোভাব বুঝতে পেরে ভারত ইতিপূর্বে সম্পর্ক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রস্তাব দিয়েছিল চীনকে। চীনও তেমনটিতে সায় দিয়েছিল। এই দু’টি চির বৈরি দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টায় রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অবশেষে সেই সহাবস্থান আর ঠিক থাকছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের রাজনীতি বরাবরই বহিঃশক্তিগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বলা যায়, স্বাধীনতা থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল ভারতের হাতের মুঠোয়। এখানকার রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানান কায়দায় খেলেছে ভারত। মর্কিনীরাও বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক প্রভাব খাটাতো। অবশ্য, মার্কিনীরা যা কিছু করেছে বরাবর ভারতের সঙ্গে ভাব রেখেই। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনটিতেও ভারত একচেটিয়া খেলতে চেয়েছিল। ভারত প্রকাশ্যে বলেছে, নির্বাচনে কোনো রকমের প্রভাব খাটাবে না। তারা বাংলাদেশের জনমতকে সমর্থন দেবে।

অর্থাৎ ভারত প্রকাশ্যে এটা বোঝাতে চেয়েছে যে, আওয়ামী লীগ-বিএনপি তাদের জন্য বর্তমানে সমান পছন্দের। আদতে তা ছিল না। ভারত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে যে কাজ করেছে সেটি আর গোপন রাখা যায়নি। তবে নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের আচরণে ভারত অনেকটাই আশাহত হয়েছে। তারা বুঝতে পারছে, আওয়ামী লীগ এখন আর তাদের হাতের মুঠোয় নেই। অনেকটাই চীনা ফর্মূলায় চলবে এবারকার আওয়ামী লীগ সরকার। আর এ কারণেই ভারত বেশ চিন্তিত এবং উল্টো সূরে কথা বলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে যে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে সেটি এখন তারা বেশ ফলাও করে বলছে। যদিও এ নির্বাচনটি প্রথম বৈধতা পেয়েছে ভারতের কাছ থেকেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীই টেলিফোনে অভিনন্দন জানানোর মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে প্রথম বৈধতা দেন।

ভারতীয় থিংকট্যাংকগুলো যা বলছে- বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন যে ‘সুষ্ঠু ও অবাধ হয়নি’ এবং তার ফলাফলও যে ‘অবিশ্বাস্য’ – তা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই, বলছেন ভারতের রাজধানী দিল্লির কিছু গবেষক ও বিশ্লেষক।দিল্লিতে এলেই বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা যে থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোতে নিয়মিত যান, এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা বিবিসিকে বলছেন এ কথাই – যার সাথে এ ব্যাপারে ভারতের সরকারি অবস্থান পুরোপুরি মেলে না।দিল্লির অন্যতম প্রধান দুটি থিঙ্কট্যাঙ্ক বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ও অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন- বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদরা ভারত সফরে এলেও তাদের প্রায়শই এই দুটি গবেষণাকেন্দ্রে আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়।
উভয় প্রতিষ্ঠানই সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলে- তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে তাদের মূল্যায়ন কিন্তু রীতিমতো সমালোচনামূলক। বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা দত্ত যেমন পরিষ্কার বলছেন, বাংলাদেশে বিরোধী জোট হয়তো এমনিতেও ক্ষমতায় আসতে পারত না- কিন্তু নির্বাচনী কারচুপির কারণেই তাদের আসন সংখ্যা এতটা কম হয়েছে।তার কথায়, ‘রিগিং তো হয়েছে একশোবার- ভোটে রিগিং না-হলেও অবশ্য বিরোধীরা কম আসনই পেতেন, কিন্তু এরকম হাস্যকর সাতটা আসনে এসে তারা ঠেকতেন না।’
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক বলে যাদের ধরা হয়, সেই আরএসএসের মুখপত্র ‘দ্য অর্গানাইজারে’ও এই বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন ড: দত্ত।সেখানেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, এই ধরনের একতরফা নির্বাচন স্বল্পমেয়াদে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করলেও দীর্ঘমেয়াদে কিন্তু বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে অনেক প্রশ্ন থাকলেও ভারত যেভাবে আগ বাড়িয়ে এবং তড়িঘড়ি চীনেরও আগে সেটাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, শ্রীরাধা দত্ত সেটাকে সমর্থন করতে পারছেন না।

“আমি তো বলব এটা একটা অদ্ভুত সিদ্ধান্ত – আমরা সবাই জানি এটা একটা একতরফা নির্বাচন- তারপরও যেভাবে চীনকে টেক্কা দিতে আমরা আগেভাগে তাকে বৈধতা দিতে গেলাম সেটা আমি তো বলব বেশ বাড়াবাড়িই হয়েছে।”‘২০১৪ সালের নির্বাচনের পরও আমরা শেখ হাসিনার সঙ্গে ঠিক একই জিনিসই করেছিলাম’, বলছিলেন ড: দত্ত।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন যে বিতর্কমুক্ত নয়, সে কথা স্বীকার করেছে দিল্লির আর একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসও। তাদের মন্তব্য প্রতিবেদেনও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র আসলে আজ অবধি এমন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনই গড়ে তুলতে পারেনি যাকে কোনও বিরোধী দল ভরসা করতে পারে।
শেয়ার করুন-

Categories
স্বাধীন

কাজের লোক ছাড়া স্ত্রী-আত্মীয় স্বজন কেউই নেই অসুস্থ এরশাদের পাশে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানী মডেল টাউনের ই ব্লকের ১৭ নম্বর সড়কের ৭৫ নম্বর বাড়ি ‘রজনীগন্ধা’। বাড়িটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়। মাত্র সাত মাস আগেও নিয়মিত এখানে বসেই দলের কর্মকা- পরিচালনা করতেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এই কার্যালয়ে আর আসা হয় না এরশাদের।

তবে ৫ জুন ঈদের দিন ছিল একটু ব্যতিক্রম। বেলা ১১টায় জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ি করে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসলেন এক সময়ের প্রতাপশালী রাষ্ট্রনায়ক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে নয়, গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে করে তিনি প্রবেশ করেন রজনীগন্ধার ড্রয়িং রুমে। গাড়ি থেকে মাত্র কয়েকগজের দূরত্ব রজনীগন্ধার ড্রয়িং রুম। এই কয়েকগজ রাস্তা হেঁটে পাড়ি দেওয়ার মতো অবস্থা নেই এরশাদের।

তাই দীর্ঘ দিনের কর্মচারী আব্দুস সাত্তার হুইল চেয়ারে করেই এরশাদকে রজনীগন্ধার ড্রয়িং রুমে আনার পর পরই দলের নেতারা সবাই ধরাধরি করে নির্ধারিত চেয়ারে এরশাদকে বসান। এভাবে গত কয়েক মাস ধরে হুইল চেয়ারে চলাচল করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। গত সাত মাস ধরে অসুস্থ তিনি। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। হুইল চেয়ারই তার একমাত্র চলাফেরার সারথি। অনেক সময় দু-একজন ধরে হুইল চেয়ার থেকে নামাতে হয়, উঠাতে হয়। বেশিরভাগ সময় কাটে বিছানায়। অনেক সময় দীর্ঘ দিনের পরিচিত মানুষকেও চিনতে কষ্ট হয়।

শুধু তাই নয় বছরের প্রতাপশালী রাষ্ট্রনায়ক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এখন অনেকটা নিঃসঙ্গ। পরিজন বলতে পাশে থাকার মতো কেউই নেই। পরিচর্চা করেন স্টাফরা। অধিকাংশ সময় কাটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। দলের নেতা-কর্মীরা এখন আর ভিড় করেন না বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে। দলের কোনো কর্মসূচিতে তিনি আর অংশ নেন না। নব্বই বছরের শরীর আর সায় দেয় না। সাবেক এই সেনাপ্রধান এরশাদের দীর্ঘদিনের কর্মচারী আব্দুল ওহাব, আব্দুস সাত্তার, বাদশা, নিপা ও রুবির তত্ত্বাবধানে কাটছে তার দিনকাল। ছোট ভাই জিএম কাদের নিয়মিত বড় ভাই এরশাদের খোঁজখবর রাখেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের প্রায় সারা দিনই বাসায় কাটে। শরীরটা খারাপ বোধ করলে ডাক্তারের কাছে যান। শারীরিক পরিচর্চা কারা করেন জানতে চাইলে বলেন, কাজের লোক আছে। তারাই পরিচর্চা করেন। আমরা প্রায়ই দেখা করতে যাই। স্ত্রীসহ নিকটাত্মীয় কেউই এইচ এম এরশাদের সঙ্গে থাকেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। মনোনয়নপত্র জমাদানের পরপরই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে তখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন না। সিঙ্গাপুর থেকে এসেই পুনরায় তিনি ঢাকার সিএমএইচএ ভর্তি হন। নির্বাচনের পর তিনি আবারও সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিৎসা নেন। ঈদের দিন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ শুভেচ্ছা বিনিময়ের ফাঁকে এরশাদ কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। এই সময় এরশাদ বলেন, এক জীবনে অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, গণমানুষের ভালোবাসায় আমার জীবন ধন্য। এরশাদ বলেন, ঈদের এ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে বারবার ফিরে আসুক।

তবে আগামী ঈদ আমার জীবনে ফিরে নাও আসতে পারে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে আবারো হুইল চেয়ারে করে ড্রয়িং রুম থেকে নিজের গাড়িতে গিয়ে উঠেন এরশাদ। এই সময় কর্মচারী আব্দুস সাত্তারের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, আলমগীর শিকদার লোটন, দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দেসহ দলের অন্য নেতারা হুইল চেয়ারে বসা দলের অভিভাবকের পেছনে পেছনে গিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে তুলে দিয়ে বিদায় জানান।

স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। টানা নয় বছর দেশ পরিচালনা করেছেন শক্ত হাতে। এই নয় বছরের প্রায় পুরোটা সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সিপিবিসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল তাকে স্বৈরাচার আখ্যায়িত করে রাজপথে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন করেছে। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যেও তিনি দেশের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সূত্র – বিডি প্রতিদিন
শেয়ার করুন-

Categories
স্বাধীন

কানাডায় হিজাব নিষিদ্ধের আইন বাতিল করলেন বাংলাদেশী ফাতিমা

স্টাফ রিপোর্টার:ফাতিমা কানাডার সংসদের বিরুদ্ধে প্রায় একাই লড়ে বিজয়ী হওয়া ঈমানোদ্দীপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক কিশোরীর নাম।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন একে একে হিজাব ও নিকাব নিষিদ্ধ হচ্ছিল, তারই ধারাবাহিকতায় কানাডাতেও কয়েকমাস আগে প্রকাশ্যে নিকাব নিষিদ্ধ করে একটা আইন পাস হয়। যার নাম বিল-৬২। এর আইন অনুযায়ী কানাডায় প্রকাশ্যে কেউ নিকাব পড়তে পারবে না। ইউরোপবার্তা

ফাতিমার জন্ম ও বেড়ে উঠা কানাডাতে হলেও অন্য আর দশটা মেয়ের মতো সে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতিকে বরণ করে নেয় নি। বরং সে ইসলামী অনুশাসনকে আরও গভীরভাবে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে থাকে। নিকাব পরেই সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করা সহ কানাডিয়ান মানুষের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে থাকে।

তার স্বপ্ন, সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে স্কুলে শিক্ষকতা করবে, ছোট ছেলে-মেয়েদের দ্বীনের শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। কিন্তু তার স্বপ্নের পৃথিবীতে কালো মেঘ হিসেবে আবির্ভূত হয় নিকাব নিষিদ্ধ করা সেই কালো আইন, বিল-৬২। এই বিল পাসের পর কানাডার বিপুল সংখ্যক হিজাবি নারী যখন অন্ধকার দেখছিল, তখনই আলোর ঝাণ্ডা হাতে লড়াইয়ে নেমে পরে কিশোরী ফাতিমা।

সে তার এক শুভাকাঙ্ক্ষীকে সাথে নিয়ে কানাডার আদালতে রিট করে। আইনি লড়াইয়ের সাথে চলতে থাকে বিল-৬২ এর বিপক্ষে জনমত গঠন। লক্ষ্য পূরণের জন্য ফাতিমা তার কয়েকজন মুসলিম বান্ধবীকে নিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক বাঁধা ও উসকানি সহ্য করেও নিকাব পরেই তার সব কার্যক্রম চালাতে থাকে। কানাডার প্রথম সারির টিভি চ্যানেলগুলিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে।

তার হিজাবি জীবন নিয়ে একটা ডকুমেন্টারিও প্রচার হয় একটা চ্যানেলে। দীর্ঘ এক অসম লড়াই শেষে গতকাল সেই ঐতিহাসিক দিনটির সূর্য যেন নতুন আলোর বারতা নিয়ে উদিত হয়েছে। কানাডার আদালত নিকাব নিষিদ্ধ করা সেই কালো আইন বিল-৬২ বাতিল করে দিয়েছে।

ফাতিমা আজ বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয় শুধু তার নয়, এই বিজয় পুরা মুসলিম উম্মাহর, এই বিজয়ের গর্ব ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের একজন মুসলিম হিসেবে আমাদেরও স্পর্শ করেছে।

ফাতিমার এই সংগ্রাম আমাদের শিক্ষা দেয় শত প্রতিকূলতার মাঝেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার। তার বিজয় তো আমাদের সেই বাণীর কথাই মনে করিয়ে দেয়- “তোমরা হতাশ হয়ো না, মনমরা হয়ো না। তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হও।।

Categories
স্বাধীন

খুবই লজ্জার বিষয় নেত্রী জেলে আর আমরা বাইরে: তৈমুর

স্টাফ রিপোর্টার:বিএনপির যেসব ভুলত্রুটি রয়েছে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে হেরে যাওয়াটা ভুল। একটা রাজনীতি দলের উত্থান-পতন থাকতে পারে, ব্রেকডাউন হতে পারে। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ভুল সংশোধন করতে পারলে আশা করি, বিএনপি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

শুক্রবার (৭ জুন) রাতে একাত্তর টিভির টক শো ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ঈদের পর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন জোরদার করার কথা থাকলেও এখনও কোনও কর্মসূচির কথা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমাদের এখন মূল টার্গেট হচ্ছে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করা। বিএনপির অস্তিত্বের প্রশ্নে আমাদের নেত্রী পাশে থাকবে এটাই আমাদের কামনা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপিতে ত্যাগী নেতাদের প্রয়োজন। বিএনপির উচিত, যারা রাজপথে পুলিশকে ও সরকারি দলকে মোকাবিলা করে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা।

যাদের এ ধরনের রেকর্ড রয়েছে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। এখন যেসব নেতারা দায়িত্বে আছেন তারা কি যোগ্য নেতা নয়, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বলেন, ‘ ঠিক তা নয়। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তবে আমি দলের ভবিষ্যতের কথা বলছি। কারণ এটি খুবই লজ্জার বিষয় যে নেত্রী জেলে আর আমরা বাইরে।

আমাদের এমন নেতাদের দরকার যারা আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে পারবে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের আলোচিত কিছু সংবাদ নিয়ে একাত্তর টিভির নিয়মিত আলোচনার আয়োজন ‘একাত্তর জার্নাল’।

অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেছেন কাওসার মাহমুদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিবিস নিউজের সম্পাদক প্রনব সাহা এবং বাংলাভিশনের সিনিয়ার নিউজ এডিটর মাসুদ কামাল।

Categories
স্বাধীন

তারেকের নির্দেশে সরগরম হয়ে উঠেছে বিএনপি অফিস

স্টাফ রিপোর্টার:তিন সপ্তাহ ধরে তালাবদ্ধ বগুড়া জেলা বিএনপি অফিসের তালা খোলা হয়েছে। ঈদের পরদিন বৃহষ্পতিবার বগুড়া জেলা বিএনপির নব গঠিত আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে যে তরুণ নেতারা অফিস তালাবদ্ধ করে রেখেছিল তারা নিজেরাই অফিসের তালা খুলে দিয়ে কোলাকুলির মাধ্যমে নিজেরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এতে আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে জেলা বিএনপি অফিস।

সেই সাথে আসন্ন বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী এবং বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিএম সিরাজের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ মে বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বগুড়া বিএনপির তরুণ কিছু নেতাকর্মী কমিটি বাতিলের দাবীতে জেলা বিএনপি অফিস তালাবদ্ধ করে অফিসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করতে থাকেন।

এ কারণে জেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি বাতিল, কয়েকজন বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকে বহিস্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় সংগঠন। এসব খবর জানার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে জেলা আহ্বায়ক জিএম সিরাজ ও বিদ্রোহী নেতাদের কাছে সব কিছু মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিলে বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

সে নিদের্শে গত বৃহস্পতিবার তালা খোলেন বিদ্রোহীরা। অফিসের তালা খোলার পর সদ্য বিলুপ্ত জেলা যুবদলের সভাপতি শিপার আল বখতিয়ার , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি শাহ মেহেদী হাসান হিমু, বিএনপি নেতা পরিমল চন্দ্র দাস, দেলওয়ার হোসেন পশারী হিরু , তৌহিদুল ইসলাম বিটু প্রমুখ দল ও দলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেন। এতে দলের সর্বস্তরে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

ইসরাইল থেকে আরো ‘বালাকোট বোমা’ কিনছেভারত
ইসরাইলের কাছ থেকে আরো ১০০টি ‘বালাকোট বোমা’ কিনছে ভারত। এ নিয়ে ইসরাইলের সাথে ৩০০ কোটি রুপির চুক্তি করেছে ভারতের বিমানবাহিনী। বৃহস্পতিবার দুই দেশের পক্ষ থেকে এ চুক্তি সই করা হয়। চুক্তি অনুসারে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বোমা ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেবে ইসরাইল। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলার সময় এ বোমা ব্যবহার করেছিল ভারত।

দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোট ১০০টি স্পাইস ২০০০ বোমার চুক্তি করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেম বোমা তৈরির কাজটি পেয়েছে। দ্বিতীয়বার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রথম চুক্তি। ভারতের বিমানবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, জরুরি অবস্থায় বোমাগুলো কেনা হচ্ছে। যেকোনোভাবেই এই বছরের মধ্যে এই কেনাবেচা সেরে ফেলতে চায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্পাইস বোমা সাধারণত ৬০ কিলোমিটার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। হিসাব করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিস্ফোরণ ঘটানোর ক্ষেত্রে এ বোমার জুড়ি নেই। এর পাশাপাশি ইলেকট্রো অপটিক্যাল ইমেজ ধরা পড়ে ক্যামেরায়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় সিআরপিএফ গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ানের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এ নাশকতা চালানোর জন্য জইশ-ই-মুহম্মদ নামের একটি সংগঠনকে দায়ী করে ভারত। এর জবাব দেয়ার নামে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত।

পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) ভারতের বিমানবাহিনীর হামলায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। ভারতীয় বিমানবাহিনী দাবি করে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাত সাড়ে তিনটা নাগাদ আজাদ কাশ্মিরে ঢুকে পড়ে বিমানসেনার মিরাজ ২০০০ ফাইটার বিমান।

তাদের ১২টি মিরেজ ২০০০ জেট বিমান এ হামলায় অংশ নেয় এবং ১ হাজার কেজি বোমা (স্পাইস ২০০০ বোমা) বর্ষণ করে অনেক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
শেয়ার করুন-

Categories
স্বাধীন

'কঠোর আন্দোলন করতে গাড়ি-ঘোড়া ভাঙব নাকি?' প্রশ্ন জাফরুল্লাহর

স্টাফ রিপোর্টার: সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নামতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান বিবেকের দ্বারা পরিচালিত হোন, ন্যায়নীতি মানেন; তা না হলে গণতন্ত্রের নামে মুখে বড় বড় বুলি দিয়ে দেশের সমস্যার সমাধান হবে না। কথাগুলো বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধিকার আন্দোলন, সামাজিক আন্দোলনের নানাপর্যায়ে তিনি অবদান রেখে চলেছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে সোমবার তিনি নয়া দিগন্তের সাথে একান্তে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
নয়া দিগন্ত : সরকার খালেদা জিয়াকে জামিন না দিলে বিএনপির করণীয় কী? জাফরুল্লাহ চৌধুরী : জামিন না দিলে সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন জানাতে হবে। রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙচুর করলে তো কোনো লাভ হবে না। এটাকে হয়তো আমরা আরো ভালোভাবে বলতে পারি। সরকার যে বুঝে না তা নয়, সরকারের সাথে আলোচনা করতে হবে। আমাদের বিচার বিভাগ স্থবির হয়ে গেছে। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের উচিত খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত করা।
নয়া দিগন্ত : এই মুহূর্তে সব বিরোধী দলকে একটি ইস্যুতে এক হতে হলে সেই ইস্যুটি কী হতে পারে?জাফরুল্লাহ চৌধুরী : দেশে আজকে যৌন নিপীড়ন হচ্ছে, হত্যাকাণ্ড ঘটছে, সড়কে নিরাপত্তাহীন অবস্থা বিরাজ করছে, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে, এখনো প্রায় ৫০ হাজার রাজনৈতিক কর্মী জেলখানায় আছে। বিরোধী দলগুলোকে সামগ্রিকভাবে এই সব ইস্যু নিয়ে নামা উচিত বলে আমি মনে করি।
নয়া দিগন্ত : ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আব্দুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না বিভিন্ন সময় তাদের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে কঠোর আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। আপনি কি তাই মনে করেন? জাফরুল্লাহ চৌধুরী : কঠোর আন্দোলন বলতে গাড়ি-ঘোড়া ভাঙব নাকি? আমি মনে করি সরকারকে তার বিবেকের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে। আমাদের এই
সরকারের যাতে বিবেক কাজ করে সে জন্য দোয়া করতে হবে।
নয়া দিগন্ত : এই সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে বলে মনে করেন? জাফরুল্লাহ চৌধুরী : সরকারের গায়ে জোর আছে, তার পুলিশ বাহিনী আছে, সেনাবাহিনী আছে। তবে সেটা করতে পারলেও সরকারের সেটা করা উচিত হবে না। তাদেরকে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ যদি চায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে তবে সবাইকে নিয়ে আনন্দের সাথে করা উচিত। একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার স্বাধীনতা একমাত্র বঙ্গবন্ধু আনেননি। তার যে সহযোগী ছিলেন, তাজউদ্দীন সাহেব, নজরুল ইসলাম সাহেব, এম এ জি ওসমানীরা যুদ্ধ করেছেন, জিয়াউর রহমান, খালেদ মোশারফ, শফিউল্লাহ স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের সবার অবদান আছে। আমার মতে সঠিক ইতিহাসটি প্রকাশ করেই মুজিব ভাইয়ের জন্মশতবার্ষিকী পালনটা অধিক কার্যকর হবে।
নয়া দিগন্ত : খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য ঐক্যফ্রন্টের করণীয় কী? জাফরুল্লাহ চৌধুরী : আমার মতে শুধু ঐক্যফ্রন্ট না, বিএনপি ও ২০ দলের যা করা উচিত সেটা হলো, রমজানে প্রতিটি জেলায় যেসব নেতাকর্মী কারাগারে আছেন তাদের পরিবারকে নিয়ে ইফতার মাহফিল করা; যাতে তাদের বিবেক জাগ্রত হয়। এই যে ৫০ হাজার লোক জেলে আছে আমরা যে তাদের অনূভব করি সেটার প্রমাণ দেয়া প্রয়োজন।
নয়া দিগন্ত : দেশের জনগণের প্রতি কোনো বার্তা? জাফরুল্লাহ চৌধুরী : সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নামতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান বিবেকের দ্বারা পরিচালিত হোন, ন্যায়নীতি মানেন; তা না হলে গণতন্ত্রের নামে মুখে বড় বড় বুলি দিয়ে দেশের সমস্যার সমাধান হবে না।
শেয়ার করুন-