Breaking News

হাবিপ্রবির ৫ শিক্ষককে কুপিয়ে জখম, অফিস সহায়ক গ্রেফতার

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগে তাজুল ইসলাম নামে এক অফিস সহায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অফিস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তাজুলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আহত শিক্ষকরা হলেন—সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান মো. রোকনুজ্জামান, প্রভাষক নির্মল চন্দ্র রায়, প্রভাষক হারুন আর রশিদ ও নবনিযুক্ত প্রভাষক মো. মাহবুবুর রহমান। তাদের দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, আহত শিক্ষকদের হাতে ও মাথায় ব্যান্ডেজ। তাদের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শরীরে জখম ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহত শিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, ‌‘তাজুল প্রায়ই শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। কিন্তু আমরা আমলে নিতাম না। আজ সকালে আমিসহ ৫ শিক্ষক আমার চেম্বারে ছিলাম। তাজুল অফিসে দেরি করে আসায় কারণ জানতে চাই। এ সময় সে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলে এবং চিৎকার করতে থাকে। এর আগেও তাজুল নানা সময়ে এমন আচরণ করেছে। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র প্রশাসন বরাবর লিখতে যাচ্ছিলাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে অফিস থেকে মগ নিয়ে এসে আজকেই যোগদান করা নতুন প্রভাষক মাহবুবুর রহমানের মাথায় আঘাত করে। প্রভাষক নির্মল বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করে। এরপর প্রভাষক হারুন এবং আমাকে আঘাত করে। সবশেষে সহকারী অধ্যাপক রনিকে আঘাত করে তাজুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাজুল আমাদের মেরে ফেলবে বলে ধারালো অস্ত্র ও কাঁচ নিয়ে ধাওয়া করতে থাকে। আমরা অফিস থেকে আতঙ্কিত হয়ে বেরিয়ে আসি। পরে অনুষদের অন্যান্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভাগের শিক্ষকদের ওপর এমন হামলার ঘটনাটি ন্যাকারজনক। আমরা তার দৃষ্টান্তর্মলক শাস্তি চাই।’

এদিকে শিক্ষকদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থীরা। তাজুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে গাড়ি ঘেরাও করে এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে উপাচার্যের বাড়ির সামনেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অ্যাকাডেমিক ভবনেও তালা মেরে দেন। অবস্থান চলাকালীন তাজুলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে নিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। তাদের তোপের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমঝোতার মাধ্যমে অভিযুক্ত তাজুলকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় তাক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তাজুলকে চাকরি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন। ঘটনা তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাজ্জাত হোসাইন সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা তাজুলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবো। ইতোমধ্যে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

এ বিষয়ে হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘পাঁচ শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা নিয়েছি।’

দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, অভিযুক্ত তাজুল ‍পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Check Also

চাচাকে পাগল বলায় ভাতিজাকে কুপিয়ে খুন

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পাগল বলায় দা দিয়ে কুপিয়ে ভাতিজাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে এক চাচা। শনিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.