‘আমাগোর কষ্টের কথা বইল্যা কী অইবো’

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

মে দিবস বা শ্রমিক দিবস কী তা বোঝে না ওরা। তাই এটি তাদের কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিনও নয়। এই দিনেও কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। লক্ষ্য হাড়ভাঙা খাটুনির পর একমুঠো চাল নিয়ে বাড়ি ফেরা। তাদের পথের পানে চেয়ে থাকেন অসুস্থ স্বামী অথবা সন্তানেরা। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও ঢাকার ধামরাইয়ের আমতায় ইটভাটায় সংগ্রাম করছেন জাহানারা, গুলনাহার, মর্জিনা ও ময়নাসহ বহু নারী শ্রমিক। ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ কথাটি জাহানারাদের ঘাম ঝরানো জীবিকার ক্ষেত্রে বে-মানান। কারণ পুরুষের সমান খাটুনি খেটেও বেতন বৈষম্যের শিকার তারা। মহাজনরা পুরুষ শ্রমিকের সমান পারিশ্রমিক নারীকে দেয় না। সাটুরিয়া ও ধামরাইয়ের আমতায় অন্তত ১৫টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটায় প্রতিদিন কাজ করেন শতাধিক নারী শ্রমিক। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরাম কাজ করেন তারা। নারী বলে ন্যায্য মজুরি কপালে না জুটলেও মালিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতেও সাহস পান না তারা। আমতায় আরবিসি, এমবিসি, শাপলা ও সুরমাসহ বেশ কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে কথা হয় নারী শ্রমিক জমিলা বেগম, মরিয়ম, আয়েশা খাতুন, রূপজান বেওয়াসহ অন্তত ১৫ জনের সঙ্গে। এদেরই একজন ভাবন হাটি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেওয়া। বয়স ৪৫-এর কাছাকাছি। স্বামী অসুস্থ। তাই পেটের দায়ে ইটভাটায় কাজ নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে ইটভাটায় কাজ নেন চম্পা। ভোর ৭টায় বেরিয়ে পড়েন কাজে। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরেন। ইটভাটায় কয়লা ভাঙার কাজ, মাটি কাটার কাজ, কখনো আবার রাজমিস্ত্রির জোগান দেন। চম্পার চেহারা রোদ আর কয়লার কালিতে বিবর্ণ হয়ে গেলেও বিশ্রামের সুযোগ জোটে না কপালে। কথা বলার ফাঁকে দু’চোখের কোণে পানি টলমল করছিল তার। এমন কপাল যেন আর কারও না হয় বলেই কেঁদে ওঠেন চম্পা। বলেন, ‘আমাগোর মতো মানুষের কষ্টের কথা আপনেগো বইল্যা কি অইবো।’ বালিয়াপাড়া জালসা গ্রামের নুরজাহান বেগম বলেন, ইটভাটায় কাজ করা অনেক কষ্টের। লম্পট স্বামী তিন পোলাপান আমার ঘাড়ে দিয়া আরেকটা বিয়া করেছে। সন্তানদের মুখে খাবার তুইলা দিতে আগুনে পুইড়া কাজ করি। মে দিবস কী জানি না। ইটভাটার আরেক নারী শ্রমিক স্বামী হারা রোকেয়া বেগম বলেন, দিনে ৩০০ টাকায় কাজ করে পেটের ভাতই জোটে না। আর জমা থাকব কিভাবে। অথচ পুরুষরা পায় ৫০০-৭০০ টাকা। শাপলা ইটভাটার ম্যানেজার আরিফ হোসেন বলেন, অসহায় নারীদের দুঃখ বুঝেই আমরা তাদের কাজের ব্যবস্থা করেছি। নারী আর পুরুষ শ্রমিকের কাজের পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে। তবে নারী শ্রমিকরা পুরুষদের মতো কাজে ফাঁকি দেয় না। এদের কেউ কেউ প্রচুর কাজ করে বলে বোনাস দিয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়। Great)

Check Also

রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে জি৭, লক্ষ্য জ্বালানি ও বাণিজ্য

রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ধনী দেশগুলোর জোট জি৭, তবে দেশটি নানাভাবে তা …