মিস্ত্রির ধর্ষ’ণ থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে লাফ দিলেন তরুণী

মিস্ত্রির ধর্ষ’ণ থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে লাফ দিলেন তরুণী

স্টাফ রিপোর্টার:প্রকাশ:  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৫০ দীর্ঘদিন ধরেই এক তরুণী সঙ্গে পরিচয় রয়েছে মার্বেল মিস্ত্রি সানির। দু’জনে একসঙ্গে কাজও করেছেন। কাজের কথা বলে ওই তরুণীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় তিনি। এরপর ওই তরুণীকে বাড়িতে হাত-পা বেঁধে ধর্ষ’ণের চেষ্টা করা হয়। কোনো মতে তার হাত থেকে পালিয়ে ঘরের গ্রিলহীন জানালা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে বাঁচান ওই তরুণী।

গত সোমবার দুপুরে ভারতের বেলুড়ের চাঁদমারি এলাকার ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সানি মাইতিকে এরই মধ্যে আটক করেছে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ এবং আটক করা হয়েছে আরেক সঙ্গী কিশোরকে।
তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষ’ণ ও হ’ত্যাচেষ্টা, মারধরের মামলা করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, হুগলির আদি সপ্তগ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণী রং মিস্ত্রি।

ওই তরুণী তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সানি তাকে নেতাজিনগরে একটি বাড়িতে রঙের কাজ আছে বলে জানান। এক হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়ার কথা বলে সোমবার এসে দেখা করতে বলেন। সে অনুসারে ওই তরুণীকে নিজের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন সানি।

নেতাজিনগরের বাসিন্দা আরতি সরকার নামের এক বৃদ্ধার বাড়ির দোতলায় সপরিবারে থাকেন ওই যুবক। তবে দিন কয়েক আগে স্ত্রী ও ছেলেকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন তিনি।
তরুণীর দাবি, ওই যুবক তাকে জানিয়েছিল, সে একতলায় থাকে। দোতলায় থাকেন আরতিদেবী। তার ঘরই রং করতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, ঘর দেখানোর পর আচমকা সানি ও এক কিশোর ওই তরুণীকে জোর করে একটা ঘরে ঢুকিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। সেই ঘরের দরজা বন্ধ করে ভিতরে বসে ছিল ওই দু’জনও।
ওই তরুণী বলেন, কিছু ক্ষণ পরে আমি বাথরুমে যাব বলায় ওরা পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। বাথরুমের দরজা বন্ধ করে গ্রিলহীন জানলা থেকে ঝাঁপ দিই।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালা দিয়ে সানি এবং ওই নাবালক পালায়। পরে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে তরুণীর ব্যাগ উদ্ধার করে। তবে হাত-পা বেঁধে রাখার কোনো নমুনা ওই ঘরে মেলেনি বলে দাবি তদন্তকারীদের। বাঁধার সময়ে ওই তরুণী চেঁচামেচি করেছিলেন কি না সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয়রা বলছেন, বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ চাঁদমারির নেতাজিনগরে একটি গলিতে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। এর পর কয়েক জন বাসিন্দা দেখেন এক তরুণী কোনো মতে হামাগুড়ি দিয়ে গলি থেকে বড় রাস্তার দিকে বেরিয়ে আসছেন। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকারও করছেন তিনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সবিতা সরকার বলেন, দোকান থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীকে জিজ্ঞাসা করায় ঘটনাটি জানতে পারি। তার কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে আত্মীয়দের খবর দিই।
এর পর স্থানীয়রাই একটি টোটোতে করে তরুণীকে বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে স্বজনরা তাকে নিয়ে গিয়ে চুঁচুড়া-ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানান, তার কোমরে এবং পায়ে চোট লেগেছে।

হাওড়া সিটি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) অংশুমান সাহা বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। দু’জনকে ধরা হয়েছে। ওই তরুণীর সঙ্গেও কথা বলে এবং সানিকে পুলিশি হেফাজতে এনে বিস্তারিত জানার চেষ্টা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net