“ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুত্ববাদের নামে কলুষিত করা হচ্ছে”

“ধর্মনিরপেক্ষ ভারতকে হিন্দুত্ববাদের নামে কলুষিত করা হচ্ছে”

স্টাফ রিপোর্টার: নাথুরাম গডসের প্রেতাত্মারা আজকে ভারতের রাজনীতিতে। ভারতের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ যে বাতাবরণ, সেটাকে হিন্দুত্ববাদের নামে ‘রাষ্ট্রধর্ম হিন্দু’ করার দাবি নিয়ে তারা আজকে ভারতকে কলুষিত করতে চাইছে।

এরই ফলশ্রুতিতে দিল্লিতে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা’র ব্যানারে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছরের মধ্যেও আজকে আমরা দেখছি, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতির ক্রমাগত বিচ্যুতি ঘটেছে।

সেখান থেকে আমরাও কিন্তু মুক্ত হতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। উনি বলেছিলেন, ‘ধর্মীয় রাজনীতিকে বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক ও প্রকৃত ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।’ কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সংবিধান পাকিস্তানের আদলেই শুধু ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি, ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধের যে ধারাটি ছিল, সেটি পর্যন্ত বিলোপ করা হয়েছিল।

আজও  তা আমরা সংবিধানে সংযোজন করতে পারিনি। এমন পরিস্থিতিতে আজকে যখন আমার ভারতের দিল্লির দিকে তাকাই, একদিকে মহাত্মা গান্ধী, আরেকদিকে নাথুরাম গডসের প্রেতাত্মারা আজকে ভারতের রাজনীতিতে। ভারতের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ যে বাতাবরণ, সেটাকে হিন্দুত্ববাদের নামে ‘রাষ্ট্রধর্ম হিন্দু’ করার দাবি নিয়ে তারা আজকে ভারতকে কলুষিত করতে চাইছে।

যার ফলশ্রুতিতে দিল্লিতে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।’’মানববন্ধনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘ভারতের দিল্লিতে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, তাকে আমরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসেবে আখ্যায়িত করছি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানবতা ভূ-লুণ্ঠিত হোক না কেন, আমরা তার বিরুদ্ধে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সোমবার (২ মার্চ) বলেছেন, দিল্লির ঘটনা ভারতের অসাম্প্রদায়িকতার ওপর আঘাত। দিল্লিতে যা ঘটছে তা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দিল্লিতে যখন সহিংসতা ঘটলো তখন সেখানকার পুলিশ নির্বিকার ছিল।

যে রাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের কাছ থেকে এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।’মোর্চার আহ্বায়ক ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘ধর্ম বর্ণের ভিত্তিতে মানুষ মানুষকে হ’ত্যা করবে, এটা মেনে নেবো না। আমরা রাজনীতি বুঝি না। শুধু বুঝি মানুষ মানুষের জন্য। সবার ওপর মানুষ সত্য।’মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন— অপরাজেয় বাংলার আহ্বায়ক এইচ রহমান মিলু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সদস্য চন্দন শীল প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net