জি কে শামীমের দেহরক্ষীরা অস্ত্রের লাইসেন্স পাই কীভাবে: হাইকোর্ট

জি কে শামীমের দেহরক্ষীরা অস্ত্রের লাইসেন্স পাই কীভাবে: হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার: অস্ত্র ও অর্থপাচারের দুই মামলায় গ্রেফতার আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের চার দেহরক্ষীর অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন হাইকোর্ট। আদালত চার দেহরক্ষী কীভাবে, কোন যোগ্যতায় অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন, কেন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন।

সেই সঙ্গে দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন ও মো. সামশাদ হোসেনের আয়কর রিটার্নের তথ্যও আগামী ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) হলফনামা আকারে দাখিল করতে আসামিপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।অস্ত্র ও অর্থপাচারের মামলায় এই চার আসামির জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।দুদকের পক্ষে এ দিন শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শামীম সরদার।আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, জি কে শামীমের দেহরক্ষীদের অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কিনা, থাকলে লাইসেন্সের অনুলিপি, লাইসেন্স কখন পেল, অস্ত্রের যদি লাইসেন্স থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা কেন হল, তারা আয়কর দেন কিনা, দিয়ে থাকলে তাদের আয়কর রিটার্ন সার্টিফিকেট- এ সবকিছুর হলফনামা করে তাদের আইনজীবীকে জমা দিতে বলেছেন আদালত।

তিনি বলেন, আমরা শুনানিতে বলেছি, যে সব অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সে সব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সম্মিলিতভাবে। অর্থাৎ এটি একটি অর্গানাইজড ক্রাইম। তাছাড়া তাদের অস্ত্রের যদি লাইসেন্সই থাকবে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা হবে কেন? তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ পর্যায়ে তাদের জামিন হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

পরে আদালত তথ্য জানতে চেয়েছেন।ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর জি কে শামীমের চার দেহরক্ষীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তারা ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এসে জামিন আবেদন করেন। তখন আদালত তাদের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।

কেন তাদের জামিন দেয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানের নিকেতন থেকে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওই অভিযানে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পাওয়ার কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে।পরদিন তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করে র‌্যাব।

এর মধ্যে অস্ত্র ও মুদ্রাপাচার মামলায় সবাইকে আসামি করা হলেও মাদ’ক আইনের মামলায় শুধু শামীমকে আসামি দেখানো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net