দোষী হলে গ্রেপ্তার করে জেলে দিন, না হলে দায়মুক্তি দিন – গোলাম রাব্বানী

দোষী হলে গ্রেপ্তার করে জেলে দিন, না হলে দায়মুক্তি দিন – গোলাম রাব্বানী

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারণের বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন গোলাম রাব্বানী। একইসঙ্গে গত ১১ সেপ্টম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লেখা একটি চিঠিও স্ট্যাটাসে সংযু’ক্ত করেছেন তিনি।
চিঠিতে অ’পসারিত কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও রাব্বানীর স্বাক্ষর রয়েছে।

বুধবার নিজের ভেরিফাইড আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি লিখেছেন, স’ঙ্গত কারণেই বিষয়গুলো পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সন্ধ্যায় আমাদের (আমি ও শোভন) ডাকা হলো। ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন অ’গ্রজ উপস্থিত ছিলেন। (বাহাউদ্দিন নাসিম ভাই ছিলেন না)। বিভিন্ন অ’ভিযোগের প্রেক্ষিতে নেত্রী অ’সন্তুষ্ট, আমাদের প’দত্যাগপত্র লিখতে বলা হলো।

আমি বললাম, শুধু পদ নয়, আপার জন্য জান হাজির! নেত্রী চাইলে আমরা এই মুহুর্তে প’দত্যাগ করবো। তবে আমরা নেত্রীর সাথে দেখা করে ২ মিনিট কথার সুযোগ চাই। যেসকল অ’ভিযোগ মিডিয়া ও বিভিন্ন মা’রফতে শুনছি, সেগুলো অ’তিরঞ্জিত, অধিকাংশই ভিত্তিহীন, মনগড়া। আ’ত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আমাদের অবশ্যই প্রাপ্য। তাঁরা বললেন,

তোমাদের বক্তব্য চিঠি আকারে লিখে দাও, আমরা আপাকে দেখাবো। আর আপা এখন দেখা করবেন না। আগে প’দত্যাগপত্র জমা দাও, আমরা কথা বলে দ্রুতই দেখা করার ব্যবস্থা করে দেবো। প্রাণপ্রিয় নেত্রীর কথা বললে তো যেকোনো আদেশই শিরোধার্য! আমরা বুকে ক’ষ্টের পাথর বেঁ’ধে, লিখলাম…. প্রাণপ্রিয় নেত্রীর মনে ক’ষ্ট দিয়ে ছাত্রলীগ করতে চাইনা এতটা দিন পেরিয়ে গেলো, শ্রদ্ধেয় অ’গ্রজগণ আর আপার

সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিলেন না, আমরা আনীত অ’ভিযোগ খণ্ডনের সুযোগ পেলাম না। ফাঁ’সির আসামীও তো শেষ ইচ্ছে প্রকাশের সুযোগ পায়! অথচ, এখনো জানতে পারলাম নাহ, ঠিক কোন অ’পরাধে শা’স্তি পাচ্ছি, প্রাণপ্রিয় নেত্রীর স্নেহছায়া ব’ঞ্চিত হচ্ছি!(ইস্যুটা যদি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হয়, তাহলে কিছু প্রশ্নের উত্তর চাই!এত আলোচনা-স’মালোচনা, আ’ন্দোলন, লেখালিখি, তথ্যপ্রমাণ দাখিলের

পরেও কেন আজ পর্যন্ত একটা তদন্ত কমিটি হলো না? শিক্ষার্থীরা ভিসি ম্যামের কাছ থেকে টাকা পেয়েছে, দিন-তারিখ উল্লেখপূর্বক প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির পরও কেন সেই টাকার উৎস খোঁজা হলো না? মিডিয়াতে ম্যাম বললেন, শোভন-রাব্বানীর সাথে টাকা-পয়সা নিয়ে কোন কথা হয়নি, তাহলে চাঁ’দা চাওয়ার অ’ভিযোগ করলেন কিসের ভিত্তিতে? শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে? শিক্ষার্থীর স্বীকারোক্তির জবাবে ম্যাম বলেছেন, আগস্টের ০৯ ও ১০ তারিখ তার সাথে ঐ শিক্ষার্থীর কোন কথাই হয়নি। অথচ ম্যামের কল লিস্ট হিস্ট্রি বলছে, দুইদিনে শিক্ষার্থীর সাথে ম্যামের ০৬ বার কথা হয়েছে! ঐ শিক্ষার্থী কিন্তু মিডিয়াতে স্পষ্ট বলেছে,

কথোপকথনের রেকর্ডিং বের করলেই সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আমাদের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা, শ্রদ্ধেয় জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাইয়ের ধানমন্ডির অফিসে আমার আর শোভনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় ভাই বললেন, ‘তোমাদের দো’ষ নেই, ভিসি ম্যাডাম যে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কাজ দিয়েছেন, সেটা আমি জানি। যারা কাজ পেয়েছে, তার মধ্যে একজন ঠিকাদার আমার পরিচিত, সম্পর্কে ভাগ্নে হয়। ও নিজেই আমাকে টাকার বিনিময়ে কাজ পাবার কথা বলেছে।’এই তথ্যটা কি ভাই তখন আপাকে জানিয়েছিলেন? সম্ভবত না।

কারণ, অ’পরাধী জানলে আপা কাউকেই ছা’ড় দেন নাহ, সে যত আপন হোক না কেন, এটা আমি দৃ’ঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি! সুতরাং, নি’রপেক্ষ বি’চার বিভাগীয় ত’দন্ত করলেই বের হয়ে আসবে, কে আসল চাঁ’দাবাজ? প্রাণপ্রিয় নেত্রী, আপনি আশা-ভরসা আর আস্থার শেষ ঠিকানা। একবার নি’রপেক্ষ ত’দন্তের নির্দেশ দিন, ঠিক জানতে পারবেন, আপনার শোভন-রাব্বানী এমন কোন অন্যায় করেনি, যাতে এভাবে ক’ষ্ট পাবে, নিগৃহীত হবে!! কোন মিডিয়া ট্রায়ালে আর কারো সাজা না হোক। সকল বিষয়ে সঠিক ত’দন্ত হোক। আমাদের বক্তব্য শোনা হোক। দো’ষী হলে গ্রে’প্তার করে জেলে দিন, নাহলে দায়মু’ক্তি দিন!

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net