২৮ ফুটের কলম বানালেন হায়দার, দিতে চান এরদোগানকে

২৮ ফুটের কলম বানালেন হায়দার, দিতে চান এরদোগানকে

বিশ্বরেকর্ড গড়ে গিনেজ বুকে নাম তুলতে একাধিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের যুবক আব্দুল্লাহ আল হায়দার।

এবার তিনি গাছ দিয়ে প্রায় ২৮ফুট দৈর্ঘ্যের বৃহৎ বলপয়েন্ট কলম বানিয়ে তাক লাগিয়েছেন। এই কলমটি তিনি উপহার দিতে চান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে। কলমের গায়ে আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নাম ও আল কোরআনের ১১৪টি সুরার নাম খোদাই করে আরবি নিজেই লিখেছেন ওই যুবক।

এর আগেও তিনি সাড়ে ৪ হাজার ফুট পুতির মালা বানিয়ে গিনেজ বুকে নাম লিখাতে চেয়েছিলেন। তবে নিজের না বুঝার কারণে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে সেটি আর হয়ে উঠেনি।

ব্যতিক্রমী চিন্তা ধারার যুবক হায়দারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামে।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে হায়দার সবার ছোট। হিসাববিজ্ঞানে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ইতোমধ্যে এটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বল পয়েন্ট কলম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদনও করেছেন হায়দার আব্দুল্লাহ। তার আত্ন বিশ্বাস এবার তিনি রেকর্ডবুকে নাম লিখাতে পারবেন।

কলমটি প্রসঙ্গে হায়দার জানান, কলমটি সেগুন গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর ওজন ৭৮ কেজি। কলমের দৈর্ঘ্য ২৭ দশমিক ৮ ফুট (৮ দশমিক ৪৭ মিটার) ও এর প্রস্থ ১৮ ইঞ্চি। বৃহৎ এই কলমের গায়ে খুদাই করে মহান আল্লাহতালার পবিত্র ৯৯ নাম ও ১১৪টি সুরার নামও ছাড়াও কলমের মুখে ‘আল্লাহু আকবর’ এবং সুরা আলাকের দুটি ও সুরা কলমের দুটি আয়াত খোদাই করে লেখা রয়েছে। কলমটি জালশুকা গ্রামে হায়দারের বাড়ির ছাদের উপর পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে হায়দার বলেন, কলমটিতে আরবিতে খোদাই করে লেখা আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নাম ও পবিত্র কোরআনের ১১৪টি সুরার নাম লেখা হয়েছে। এসব আরবিতে হায়দার নিজেই খোদাই করেছেন।

তিনি জানান, কলমের নিপ তৈরির কাজে সহযোগিতা করেছেন মাস্টার ক্রাফটম্যানশিপের হেড ট্রেইনার জাহিদ হোসেন। আর নির্ভুল আরবি লেখার যাচাইয়ের কাজে সহযোগিতা করেছেন সদর উপজেলার বিরামপুর উত্তরপাড়ায় অবস্থিত মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নজরুল ইসলাম বিন সাইদ এবং সদর উপজেলার নরসিংসারে জোবায়দা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

হায়দার বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে তিনি খুব পছন্দ করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধের চিন্তা থেকেই কলমটি তিনি তৈরি করেছেন। বল পয়েন্ট কলম তৈরির জন্য ১৫দিন আরবি লেখার চর্চা করেন তিনি। পরে রাতে কলমের গায়ে আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নাম এবং পবিত্র কোরআন শরীফের ১১৪টি সুরার নাম ও দুটি সুরার চারটি আয়াত আরবিতে খোদাই করে লিখেন।

তিনি বলেন, এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বল পয়েন্ট কলম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেছি। গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ আমার আবেদন গ্রহণ করে উত্তর দিয়েছেন। উত্তরে তারা আমাকে ৬১টি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। সকল শর্তই আমি পূরণ করেছি। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, কলমের বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেন আব্দুল্লাহ। গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ উত্তর দিয়ে আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলে জানিয়েছেন।

হায়দার বলেন, কলম প্রস্তুতের জন্য ২৫ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেগুন গাছ ২৮ হাজার টাকায় গাছটি ক্রয় করি। বাড়িতে এনে পরিস্কার করে ছাদের উপর গাছটি শুকিয়েছি।

তারপর গাছটি দুইভাগে কেটে এরমধ্যে ২৫ফুট দৈর্ঘ্যের ও আধা ইঞ্চি প্রস্তুর স্টিলের পাইপ স্থাপন করে গাছটি আটা দিয়ে যুক্ত করে রঙ্গ করেছি। তিনি বলেন, কলমের ১৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের নিপ বানাতে ওয়ার্কশপে সাতবার চেষ্টা করে অষ্টম বারের মাথায় সফল হয়েছি। এ কাজে ওয়ার্কশপের হেড ট্রেইনার মো: জাহিদ সহযোগিতা করেছেন।

ইতো পূর্বে রেকর্ড সম্পর্কে হায়দার বলেন, গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি যে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের হায়দারাবাদের আচার্য মুকুনুরি শ্রীনিভাসা নামে এক ব্যক্তি ৩৭ দশমিক ২৩ জেকি ওজনের সাড়ে পাঁচ মিটার (১৮দশমিক ৫৩ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি বল পয়েন্ট কলম তৈরি করেছিল। তার চেয়ে তার তৈরি করা কলমটি সব দিক থেকেই এগিয়ে।

আব্দুল্লাহ বলেন, এর আগেও তিনি সাড়ে ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্য একটি পুতির মালা তৈরি করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের অবস্থান তুলে ধরা। কিন্তু বুঝতে ভুল হওয়ার কারণে আবেদনে ত্রুটি ছিল। তাই সেটি সে সময় আর হয়ে উঠেনি।

এবার গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেলে কলমটি তার পছন্দের ব্যক্তি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে উপহার দিতে চান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net