ছি’নতাইকালে ছাত্রলীগ নেতাকে গ’ণধোলাই, মিসটেক বলে ছেড়ে দিল পুলিশ

ছি’নতাইকালে ছাত্রলীগ নেতাকে গ’ণধোলাই, মিসটেক বলে ছেড়ে দিল পুলিশ

রোগীর মানিব্যাগ ছি’নতাইয়ের অভিযোগে গ’ণধোলাইর শিকার হয়েছেন জহিরুল হক নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে দেয়া হলেও রাতের আধারে থানা থেকেই মুক্ত হয়ে যায় ওই ছাত্রলীগ নেতা। যদিও পুলিশের দাবি ভুলবসত ধরে আনা হয়েছিল জহিরুল হক নামের ওই ছাত্রলীগ নেতাকে।

গ’ণধোলাই ও ছি’নতাইর শিকার জহিরুল হক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী অপারেশন থিয়েটারে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়েশা বেগমের স্বামী এবং স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল।

এছাড়া জহিরুল হক নিজেকে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি বলে দাবি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরের শেবাচিম হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারের সামনে টিকেট কিনতে লাইনে দাড়ানো এক রোগীর পকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে দৌড় দেয় জহিরুল হক নামের ওই ছাত্রলীগ নেতা।

এসময় রোগীর অন্যান্য স্বজনরা ধাওয়া করে তাকে তাকে ধরে ‘গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আ’টক করে। পরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

তবে রহস্যজনক কারনে রাতা আধার হওয়ার সাথে সাথে ঘটনার প্রক্ষাপট পাল্টে যায়। এমনকি রাতেই স্বজনরা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করে ছেড়ে দিয়েছে।

জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, জহিরুল হক ছিনতাইকারী নয়, তাকে ভুলবসত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। জহিরের স্ত্রী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স। তাই তারাই আবার জহিরুলকে ছাড়িয়ে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত জহিরুল হক বলেন, আমি ছি’নতাই করিনি। আমার স্ত্রী হাসপাতালের নার্স এবং আমি ইঞ্জিনিয়ার। হাসপাতালের সামনে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মার্কেটিং (হাসপাতাল থেকে রোগী ধরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল) এর কাজ করি।

তাছাড়া আমি জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তাই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করে বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে গোপনে দেখা করার প্রস্তাব দেন এবং ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন।

জহিরুলের স্ত্রী শেবাচিম হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আয়েশা বেগম বলেন, আমার স্বামী ইঞ্জিনিয়র এবং ছাত্রলীগ নেতা। সে যেটা করেছে সেটা একটি মিসটেক। তবে সে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালি করে। দালালি করাটা কি অপরাধ বলুন! তাই এটা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলেন তিনি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, স্ত্রী নার্স হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ দিন ধরেই হাসপাতালে দালালি এবং ছিনতাইয়ের অপরাধ সংঘটিত করে আসছে জহিরুল হক। এমনটি করতে গিয়ে সম্প্রতি আরও একবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জহিরুল। তখনও পুলিশ তাকে মেট্রো অধ্যাদেশে কোর্টে চালান করে। একদিন হাজতে থাকার পর জরিমানা দিয়ে ছাড়া পায় জহির।

ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে বেড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net