ভারতে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আইপিএলে, প্রাইজমানি কমল ২৫ কোটি

ভারতে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আইপিএলে, প্রাইজমানি কমল ২৫ কোটি

ভারতে অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ এসে লেগেছে আইপিএলে। জমকালো এ ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ শুরুর পর ক্রিকেট বিশ্বে প্রবাদতুল্য ‘৮০০ পাউন্ড গরিলা’খ্যাতি পাওয়া বিসিসিআই এখন নানা খাতে ব্যয় সংকোচনে ব্যস্ত। দেশে অর্থনৈতিক মন্দার কারণেই কি আইপিএলে ব্যয় সংকোচন করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নই রেখেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’।

আইপিএলের ৮টি দল ও স্টেকহোল্ডারদের কাছে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এবার আর আইপিএলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে না—এ পুরোনো কথাই তারা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে নতুন করে। এ ছাড়াও প্লে অফে ওঠা চার দলের জন্য আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে আনার কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিসিসিআই। ২৯ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএলের নতুন মৌসুম।

এ বছর আইপিএলে ওঠা চারটি দলের জন্য আর্থিক বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। এর আগে প্লে অফে ওঠা চার দলের মধ্যে ৫০ কোটি রুপি বণ্টন করা হতো। এবার তা কমিয়ে ২৫ কোটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। এ ছাড়া ম্যাচ আয়োজনে অ্যাসোসিয়েশনকে ৫০ লাখ রুপি দেওয়া করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে। আগে ৩০ লাখ রুপি করে দিত দলগুলো। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এতে খুশি হতে পারেনি। দক্ষিণের একটি দলের এক অফিশিয়াল সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বৈঠকে এসব আমাদের বলা যেত। কিন্তু মালিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে হুট করে কিছু ফি বাড়ানো হয়েছে।’

এবার আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল প্রাইজমানি পাবে ১০ কোটি রুপি। ফাইনালে হেরে যাওয়া দল পাবে ৬.২৫ কোটি রুপি। ৪.৩৭৫ কোটি রুপি করে পাবে তৃতীয় ও চতুর্থ দল। কিন্তু গত আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ২০ কোটি রুপি। রানার্সআপ দল পেয়েছে ১২.৫ কোটি রুপি। ৮.৭৫ কোটি রুপি করে পেয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ দল। একই চুক্তিপত্রে আইপিএলে প্রতিটি ম্যাচ আয়োজনের জন্য অ্যাসোসিয়েশনকে বিসিসিআই ৫০ লাখ রুপি করে দেয়। অর্থাৎ ‘আইপিএলে প্রতি ম্যাচ আয়োজন করে এখন ১ কোটি রুপি করে পাবে প্রতিটি রাজ্য অ্যাসোসিয়েশন।’ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল জানিয়েছে, বিসিসিআইয়ের এমন সিদ্ধান্তে তারা খুশি হতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি দল এ নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘যুক্তি-তর্কে’র সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইপিএলে স্টাফদের ভ্রমণেও ব্যয় সংকোচন নীতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। এর আগে স্টাফদের আকাশপথে ভ্রমণের সময়সীমা তিন ঘণ্টার বেশি থাকলে তারা ‘বিজনেস ক্লাস’-এ ভ্রমণ করতে পারত। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আকাশপথে ভ্রমণের সময়সীমা ৮ ঘণ্টার কম হলে ‘ইকোনমি ক্লাস’-এ ভ্রমণ করতে হবে— ‘তবে দু-তিনজন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়, এ ছাড়া সবার জন্য এমনকি অপারেশনাল প্রধানও এ নিয়মের অধীনে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017 RTNBD.net