মোটরসাইকেলের লোভে তরুণকে খু’ন, ওসির অপসারণ দাবি

248

খাগড়াছড়ির গুইমারায় মোটরসাইকেল চালক আকিব উদ্দিনকে (১৯) হ’ত্যার রহস্য ও মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী সাচিং মারমা। হ’ত্যার পর লাশ পাহাড়ের জঙ্গলে ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে গ্রে’ফতারের পর সাচিং হত্যা’র কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে হ’ত্যায় গুইমারা থানার ওসির গাফিলতিকে দায়ি করে তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা।নি’হত আকিব উপজেলার কালাপানি এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।

নি’হত আকিবের বাবা ইকবাল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুইমারার কালাপানি এলাকার তাদের প্রতিবেশী মন্টিং মারমার ছেলে সাচিং মারমা মেলায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে আকিবকে ডেকে নেয়। গভীর রাতেও বাড়ি না ফিরলে ছেলের মোবাইলে কল দিয়ে ফোন বন্ধ পান। পরে ভাড়া নেওয়া সাচিংয়ের নম্বরে কল দিলে তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন বুধবার বহু খোঁজাখুঁজির পরও ছেলের সন্ধান না পেয়ে তিনি গুইমারা থানায় জিডি করতে গেলে ওসি জিডি নিতে গড়িমশি করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানোর পর বুধবার রাত ১২টার দিকে গুইমারা থানার ওসি বিদ্যুৎ বড়ুয়া তাকে থানায় ডেকে এনে ছেলের নিখোঁজের মামলা নেন।

এদিকে মহালছড়ি থানার পুলিশ বুধবার রাত ৩টার দিকে সাচিং মারমাসহ তার দুই সঙ্গীকে আকিবের মোটরসাইকেলসহ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সাচিং মারমা আকিবকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাচিং মারমাকে সঙ্গে নিয়ে সিন্ধুকছড়ির আমতলা নামক এলাকার জঙ্গল থেকে আকিবের মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে আকিবকে হ’ত্যার প্রতিবাদে ও নিখোঁজের মামলা নিতে কালক্ষেপণ করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে গুইমারা থানার ওসি বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়ার অপসারণের দাবিতে স্থানীয় শত শত নারী- পুরুষ জালিয়াপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ মানুষ খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও ফেনী সড়কে কাঠের টুকরা ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। এতে বেলা ২টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

এসময় গুইমারা থানার ওসির গাফিলতির জন্য আকিব খুন হয়েছে এমন অভিযোগ এনে তার অপসারণসহ শাস্তির দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তারা জালিয়াপাড়া পুলিশ বক্স ঘেরাও করে ওসির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এসময় ওসি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে নারীরা তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন।

ওসি বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের কাছে তার গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার আহমেদ জানান, এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। বেলা পৌনে ২টার দিকে গ্রামবাসীরা রাস্তার অবরোধও তুলে নিয়েছেন।