গৃহকর্মী হত্যার প্রতিবাদে চেয়ারম্যানের ফাঁসির দাবি

310

নেত্রকোনার বারহাট্টা কিশোরী গৃহকর্মীকে পাশবিক নির্যাতনে হত্যার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সিংধা আলোকদিয়া সড়কে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের ফাঁসির দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় নারী পুরুষসহ শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধনে অংশ নেয়।

এলাকাবাসীর দাবি, এটি শিশু হত্যা। তার ওপর গৃহকর্মী। মানুষ জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিরাপত্তা খোঁজে আর সেখানে যদি তাদের কাছেই শিশুরাও অনিরাপদ থাকে তাহলে আমরা যাব কোথায়? অবিলম্বে তারা এ চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে তাকে চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি প্রদানের আল্টিমেটাম দেন।

এদিকে চেয়ারম্যানের লোকজন মানববন্ধনে বাধা দিলে কয়েক মিনিটে তারা মানববন্ধন শেষ করে দেন।

গত ৯ মে চেয়ারম্যানের মোহনগঞ্জ বাসায় গৃহকর্মী কিশোরী মারুফার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। বিকেলে শিশুটিকে চেয়ারম্যান নিজেই মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ১১ মে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মারুফার মা আকলিমা আক্তারের দায়ের করা মামলা নেয় থানা পুলিশ। ওইদিনই রাতে মোহনগঞ্জ থানার পুলিশ চেয়ারম্যানকে আটক করে। পরদিন আদালতে সোপর্দ করলে জেলে রাখার একদিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হন চেয়ারম্যান কাঞ্চন।

এদিকে মোহনগঞ্জ থানায় ওসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়া এবং মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ করেন মেয়ের মা। এরপর দুইদিন বাদে ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসীর সহায়তায় মামলা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝর ওঠে। পরে শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সঠিক বিচার দাবি করেন জেলাবাসী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে নিজেই তদন্ত করতে নামেন পুলিশ সুপার।

অন্যদিকে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ওঠে সরকারি সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে এ চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে এ সব অপকর্ম করে যাচ্ছেন এলাকায়। তিনি বারহাট্টা উপজেলায় অফিস না করে মোহনগঞ্জ বাসার পাশে একটি দোকানে বসে পরিষদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এতে ওই ইউনিয়নবাসীর নানা বেগ পেতে হয়। কোন কাজে তাদের এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলা পর্যন্ত আসতে হয়। এছাড়াও গত ২০১৯ সালে চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

Loading...