ত্রাণের তালিকায় ৫৪ বার চেয়ারম্যানের মামাতো ভাইয়ের নাম্বার

193

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১০নং ধুরাইল ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নগদ অর্থ সহায়তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওয়ারিছ উদ্দিন সুমনের একাধিক নিকট আত্মীয়র মোবাইল নম্বর অর্ন্তভূক্ত থাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তালিকায় রয়েছে সহদোর ভাই, মামাতো ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী’র নাম ও একাধিক মোবাইল নম্বর।

কোভিড-১৯ মহামারীর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। তবে ১০নং ধুরাইল ইউনিয়নের প্রনীত তালিকায় অসংগতির কারণে একাধিকবার সংশোধন করা হলেও তা এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি। এতেকরে ইউনিয়নটির উপকারভূগীরা ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত থাকছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অর্থ সহায়তার আওতায় ১০নং ধুরাইল ইউনিয়নে ৪৬০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন। এতে চেয়ারম্যানের মামাতো ভাই আব্দুর রহিমের ব্যবহৃত মোবাইল ০১৯৭৩০৪৯৭৯৭ ও ০১৭২৩৪০৯৭৯৭ নাম্বার দুটি ৫৪ বার ওঠানো হয়। এছাড়াও তালিকায় আরও বেশকয়েটি নম্বর একাধিকবার অন্তর্ভূক্ত করা, উপকারকারী নাম ঠিকানা থাকলেও নম্বর দেয়া হয়েছে অন্যকারও এমন অনিয়ম রয়েছে বিস্তর। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনা মূখর হয়ে উঠলে গত ১৬ মে তা সংশোধন করে উপজেলা প্রশাসন পূনরায় নতুন তালিকা প্রকাশ করে। সংশোধিত এই তালিকায়ও একই রকম অনিয়ম ধরা পড়েনি। যা নিয়ে জেলাব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সংশোধিত তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই মো. শফিক উদ্দিন রিপনের ৩টি নম্বর যথাক্রমে ০১৭৩৯১৫৯২৮৪, ০১৬৪৩৮৫২০৪০, ০১৮২১২৭৪৪৪৫, ১২ বার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। মামাতো ভাই আব্দুর রহিমের ০১৯৭৩০৪৯৭৯৭ নম্বর ৩ বার, তার স্ত্রী হালিমা খাতুনের নম্বর ০১৭৬০৪৫২২২৫ অন্তর্ভূক্ত হয়েছে একবার। তবে, একাধিকবার ব্যবহৃত প্রতিটি নম্বরের প্রেক্ষিতে উপকারভোগীর নাম ও ঠিকানা স্থানীয় জনগণ হলেও তারা এই বিষয়ে অবগত নন বলে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রাধনমন্ত্রী ঘোষিত মানবিক অর্থ সহায়তা কার্যক্রমের তালিকাটি অতি অল্প সময়ে প্রণয়ন করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু ভূল ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা পূনরায় সংশোধন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সরকার ঈদের আগে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে ভুল ত্রুটির জন্য যথাসময়ে তালিকা প্রেরণ করতে না পারলে এটি ঈদের পরে দেয়া হবে।

Loading...

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারিছ উদ্দিন সুমন বলেন, তালিকাটি অতি দ্রুত প্রণয়ন করায় কিছু ভূল ত্রুটি হয়েছে যা সংশোধন করা হয়েছে। আমার পরিবারের কারও নাম বা মোবাইল নাম্বর তালিকায় থাকলে তা আমার জানা নেই। একটি পক্ষ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চক্রান্ত করছে।