রোযাদার কমলাকে সন্তানদের সামনেই নারকীয় ভাবে হ’ত্যা করল স্বামী-শাশুড়ী!

244

একটি হৃদয় বিদারক হত্যাকান্ড রোযা থাকা কমলাকে প্রথমে গালে কিল মারা হয়েছিল, এতে মেঝেতে পড়ে গেলে তার ঘাড়ে কষে লাথি মারা হয়েছে, তবুও হতচ্ছাড়া মেয়েটি মরতে চায়নি! কারন ওর তো ছয় বছর বয়সী ছেলে আর আড়াই বছর বয়সী মেয়ে আছে, ওর মরলে চলে? যাহোক, তারপর ওকে নিয়ে স্বামী, শাশুড়ী, শ্বশুরেরা মিলে ফুটবল খেলেছে। এ লাথি মেরে ওর কাছে পাঠিয়েছে, ও আবার আরেকজনের কাছে।

নাছোড়বান্দা কমলা তবুও মরতে চায়নি, দুধের শিশু মেয়েটির মুখ মনে পড়ে গেছিলো বলে বোধহয়। ‘নিরুপায়’ স্বামী-শাশুড়ীর আর কিই বা করার ছিলো! বাধ্য হয়ে রড হাতে তুলে নিয়েছিলো তারা, তারপর মেঝেতে ফেলে বেধড়ক পিটুনি….

ঘটনা শেষ হতে যেয়েও হলো না। কারন এত কিছুর পরেও কমলার বেঁচে থাকার সাধ হলো!!! উপায়ন্তর না পেয়ে ‘অসহায়’ স্বামীকূল মারপিট বাদ দিয়ে সবাই মিলে মৃতপ্রায় কমলার মুখে এবার গ্লাসে করে বিষ ঢেলে দিলো। কি জানি, অর্ধচেতন কমলা হয়তো পানি মনে করে বিষটুকু খুব তৃপ্তি সহকারে খেয়েছে।

সবশেষে পেশাদারী তৃপ্তি পেতে গলা টিপে সমাপ্ত করা হয়েছে এই মারণযজ্ঞ। এই সব কিছু হয়েছে কমলার দুই শিশু সন্তানের সামনে। হতবাক হলেও অবাক লাগেনি যখন শুনি লোকাল পুলিশ কমলার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পায়নি, সিনা চওড়া করে হেঁটে বেড়াচ্ছে স্বামী-শ্বশুর, কেউ গ্রেফতার হয়নি। এতে নিশ্চয় সবাই বুঝতে পেরেছেন কমলার বাবা এক নিরীহ কৃষকগোছেরই কেউ হবে।

কমলার পিতার নাম সেকেন্দার আলী, গ্রাম বুরাপাড়া।হ্রদয় ভেঙে যাওয়া এই পাশবিক হত্যাকান্ড ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার পোড়াদহর সেন্টারপাড়ায়, কমলার শ্বশুরবাড়িতে। নিহত কমলার শ্বশুরের নাম জুলহক আর স্বামীর নাম মানিক। আপাদমস্তক মাদকাসক্ত এই পরিবারের কুকীর্তি সর্বজন বিদিত।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে জনতা যদি আওয়াজ না তোলে তবে কমলার শরীরে কোনোদিন আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পাবে না পুলিশ। স্বাধীন বাংলাদেশে কমলাদের কোনো বিচার হয় না। কিন্তু ভায়েরা চুপ করে আর থাকবেন না, মনে রাখবেন আমাদের ঘরেও দু-একটি করে কমলা আছে। ঐ কমলাদের বাঁচিয়ে রাখতে গেলে এই কমলার বিচার হওয়া খুব দরকার। কমলার দুটি শিশু সন্তানের মুখটা কল্পনা করুন একবার।
জুলহকের টাকার থলির সামনে কি মাথা কুটে মরবে বিচারের বাণী???
এই নির্মম হত্যাকান্ডের কঠিন বিচার চাই।

Loading...