চতুর্ভুজ প্রেমের অবৈধ সম্পর্ক ফাঁস, অতঃপর..

45

চতুর্ভুজ প্রেমের অবৈধ সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ায় প্রেমিকা আরিফার নির্দেশেই খু’ন করা হয় বড়াইগ্রামের ইকোরি গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেনকে। পুলিশ ঘটনার মাত্র ২ দিনের মাথায় এ হ’ত্যা রহসের উদঘাটন ও হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর তিন প্রেমিককে গ্রে’প্তার করেছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিটন কুমার সাহা জানান, গত ১৫ জুন বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকোরি গ্রামের মৃত খয়ের উদ্দিনের ছেলে মোবারক হোসেন (৩৮) খু’ন হন। মোবারককে হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হ’ত্যা করা হয়। এ বিষয়ে নি’হতের স্ত্রী রানী বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে সোনাবাজুর কাচু খার স্ত্রী আরিফা বেগম (৩০) গ্রে’প্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা হ’ত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এবং অপর তিনজন প্রেমিকের হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানায়। পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রে’প্তার করে।
তারা হলেন, সোনাবাজু গ্রামের ইমরুল প্রামাণিকের ছেলে রশিদ প্রামাণিক (৩৮) একই গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জিহাদ আলী (৩২) এবং ইকোরি গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ সুপার জানান, এই হ’ত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড ছিলেন আরিফা। সে পালাক্রমে নি’হত মোবারকসহ ৪ জনের সাথেই অবৈধ মেলামেশা ও তাদের কাছে থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিত। মোবারক ঠিকমত আরিফাকে টাকা না দেওয়া এবং সেসহ অন্যদের সাথে আরিফার সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেয়। এতে আরিফা ক্ষুব্ধ হয় এবং অপর তিন প্রেমিককে নিয়ে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন মোবারক গরু চড়াতে গেলে আরিফা বেগম শারীরিক মেলামেশার প্রলোভন দিয়ে মোবারককে পাট ক্ষেতে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোবারককে হ’ত্যা করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করেতে থাকে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, হ’ত্যার পরে আসামিরা মোবাইল ফোনে কোন রূপ যোগাযোগ করেনি। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় পুলিশ বিচক্ষণতার সাথে আরিফাকে টার্গেট করে আটক করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরামুল ইসলাম, নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, বড়াইগ্রাম থানার ওসি দিলিপ কুমার দাস, ডিবির ওসি আনারুল ইসলাম প্রমুখ।

Loading...