কোমায় থেকেও বাচ্চা প্রসব করলেন করোনা আক্রা’ন্ত নারী!

IPL ের সকল খেলা  লাইভ দেখু'ন এই লিংকে  rtnbd.net/live

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরা’সে আক্রা’ন্ত হয়ে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খুব ভয়াব’হ পর্যায়ে ঠেকেছিল। ফুসফুস তেমন একটা কাজ করছিল না। অনেক দিন ধরে ছিলেন কোমায়। এমন অবস্থায়ও নতুন প্রাণের জন্ম দিলেন দিয়ানা অ্যাঙ্গোলা নামে কলম্বিয়ার এক নারী। দেশ রূপান্তর

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী অ্যাঙ্গোলা। এই ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ছেলের নাম রাখা হয়েছে জেফারসন।

অ্যাঙ্গোলার ফুসফুস কাজ করছিল না বিধায় তার পেটের বাচ্চাকে বাঁচাতে হাসপাতালের সিজার সেকশনে নিয়ে যান চিকিৎসকেরা। অন্তত ১৪ সপ্তাহ আগেই পৃথিবীর আলোতে নিয়ে আসা হয় জেফারসনকে। মা করোনায় আক্রা’ন্ত হলেও এই নবজাতকের শরীরে করোনার সংক্রম’ণ নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

পরিস্থিতি ‘অনেক সংকটজনক’ ছিল বলে জানালেন কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ক্যালি শহরের ভেরসালেস ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওলা ভেলাসকেস।
এএফপিকে তিনি বলেন, “আমরা জানতাম যে, এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও পেটের শিশুকে রক্ষা করার কিছু ঘটনা আমাদের এখানে রয়েছে।”

অ্যাঙ্গোলা তীব্র জ্বর নিয়ে গত ১৫ মে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার আরও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিনের মাথায় চলে যান কোমাতে। নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন তিনি। শ্বাস প্রশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হতো।

অপরিপক্ব থাকা অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় জেফারসনেরও শ্বাস নিতে সমস্যা হতো বলে জানালেন চিকিৎসক। তাকে টিকিয়ে রাখতে অনেক ল’ড়াই করতে হয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এডউইন ওলিভো বলেন, “আমাদেরকে পুরো প্রক্রিয়াটা একজন গুরুতর রোগীর চিকিৎসা করার মতো অনুসরণ করতে হয়েছে।”
তিনি জানান, জেফারসনকে এখনো ইনকিউবিটরে রাখা হলেও দ্রুতই তার ওজন বাড়ছে। আরও সহজে শ্বাস
নিতে পারছে

চিকিৎসক পাওলা ভেলাসকেস বললেন, “২৪ সপ্তাহ হলেই ভালো ওজনের কোনো মানব শিশু বাঁচিয়ে রাখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অনেক টেকনোলোজি লাগবে, সেই সঙ্গে স্নায়বিক বিকাশ এবং ফুসফুসের প্রভাব সংক্রান্ত কাজগুলো ভালো করতে হবে।”

এদিকে, সুখবর হলো অ্যাঙ্গোলা এরই মধ্যে করোনাভাইরা’স থেকে সেরে উঠেছেন। ছেলেকে জেফারসনকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে তর সইছে না তার।

ভাঙা ভাঙা সুরে বলছিলেন, “আমাদের ল’ড়াই করতে হয়েছে, ডাক্তাররা আমাদের বাঁচাতে সহযোগিতা করেছে এটা জেনে খুব আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলাম।”

অ্যাঙ্গোলা জানান, করোনাভাইরা’সে কিভাবে সংক্রমিত হয়েছেন এটা তিনি জানেন না। বরং লকডাউনের সময়ে তার পরিবার তাকে কড়াকড়ি অবস্থার মধ্যে রাখেন। অ্যাঙ্গোলার সুস্থতা দেখে হাসপাতালের করিডরে যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন তার বন অ্যাঞ্জেলা।

Check Also

এরদোগানবিরোধী প্রচারণায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইকোনোমিস্ট

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের ১০ দিন আগে প্রকাশিত ব্রিটিশ সাপ্তাহিক পত্রিকা ইকোনোমিস্ট কভার পেজসহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *