সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক ও তার বাবা-মাকে কুপিয়ে মারল ইউপি সদস্য!

47

সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল প্রতিনিধি শরিফুল আলম চৌধুরীর বাড়িতে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে, হাতুরী ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে চেয়ারম্যান শাহজাহানের লোকজন। তাকে বাচাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও বৃদ্ধ মাও গুরতর আহত হয়।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে এ নির্দয় ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার মূল হোতা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।

সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীর বাবা আহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সংবাদ প্রকাশ করে আমার ছেলে। উক্ত ঘটনায় ক্ষীপ্ত হয়ে আমার ছেলেকে প্রাণে শেষ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে আগে থেকেই হুমকি ধমকি দেয় চেয়ারম্যান ও তার দলবল।

এ নিয়ে ফেইসবুকেও একাধিকবার প্রকাশ করে শরিফ। নিজেকে অনিরাপদ ভেবে একমাস বাড়ির বাহিরে থেকে সে গত সপ্তাহে বাড়ি আসে। শরিফ বাড়িতে আছে এ খবর পেয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে চেয়ারম্যান শাহজাহানের লোকজন বাড়িতে ঢুকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জোরপূর্বক টেনে হিছড়ে বের করে বাড়ির ওঠানে আনেন। তখন দা দিয়ে কুপিয়ে, হাতুরী ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার দুই হাত পা ভেঙ্গে দেয়। দা দিয়ে তার মাথায় মারাত্বক আঘাত করে।

তাকে বাচাতে এগিয়ে গেলে রামদা দিয়ে আমার ডান হাতে কুপ দেন এবং রড দিয়ে পিটায়। তার মায়ের বাম ভেঙ্গে দেয়। আমাদের শোর চিৎকারেও চেয়ারম্যানের লোকজনের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। পরে তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে আবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আমরা মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।

মুরাদনগর থানার ওসি এ.কে.এম মনজুর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উক্ত ঘটনায় জড়িত চেয়ারম্যান শাহাজাহনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাংবাদিক শরিফকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হাসপাতাল পাঠাই। তার বাবা শরিফুল আলম চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দিয়েছে।

Loading...