Breaking News

আদালতে ধ’র্ষণ ও হ’ত্যা র স্বীকারোক্তির পর কিশোরী জীবিত উদ্ধার!

নারায়ণগঞ্জে দেওভোগ এলাকার ১৫ বছরের এক কিশোরীর অপহরণ মা’মলায় গ্রেফতার তিন আসা’মি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ওই কিশোরীকে ধ’র্ষণের পর হ’ত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। তবে নিখোঁজের দেড় মাস পর ওই কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের তদন্ত ও তিন আসা’মির আদালতে দেওয়া জবানবন্দি নিয়ে।পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিবি জাহেদ পারভেজ চৌধুরিকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওই কিশোরীর জীবিত উদ্ধার হওয়ায় তার পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ প্রকাশ, করেছেন তিন আসা’মির স্বজনরা। তাদের দাবি মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস আই) শামীম আল মামুন সঠিক তদন্ত না করে আসা’মিদের দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পাশাপাশি রিমান্ডে আসা’মিদের মা’রধর না করার কথা বলে ৪৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।তবে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এসআই শামীমের মা’মলা তদন্তের বিষয় ও আসা’মির পরিবারের থেকে ঘুষ নেওয়াসহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এসআই শামীমের বিরুদ্ধে মা’মলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ওই কিশোরীকে অপহরণ মা’মলা দায়ের এজাহার থেকে জানা যায়, শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড বসিন্দা পনেরো বছরের কিশোরী গত ৪ জুলাই বিকালে বাসা থেকে নিখোঁজ হয়।

দীর্ঘদিন খোঁজ করেও না পেয়ে এক মাস পর ৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় অপহরণ মা’মলা করেন তার বাবা। এ ঘটনায় কিশোরীর মোবাইলফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে গত ৭ ও ৮ আগস্ট পুলিশ একই এলাকার রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিল নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে খলিল নৌকার মাঝি এবং রকিব অটোরিকশাচালক।গ্রেফতারের পর তিন আসা’মি দুই দফা রিমান্ড শেষে কিশোরীকে ধ’র্ষণের পর হ’ত্যা ও লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে ৯ আগস্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ সে সময় গণমাধ্যমকে জানায়। বর্তমানে আসা’মিরা জেলাহাজতে রয়েছেন।তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর রবিবার (২৩ আগস্ট) মোবাইলফোনে ওই কিশোরীর প্রেমিক ইকবাল হোসেন তার জীবিত থাকার কথা জানায়। ইকবাল ফোন করে জানায় তারা বন্দরের নবীগঞ্জের একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছে। তাদের কাছে টাকা নেই।

ঘর ভাড়া দিতে হবে। এ জন্য চার হাজার টাকা বিকাশ করার অনুরোধ জানায় সে। এসময় ওই কিশোরীর সঙ্গে তার মাকে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। ফোন পেয়ে কিশোরীর মা নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান।পুলিশের পরামর্শে কিছু টাকা বিকাশ করা হয়। বিকাশের দোকান থেকে তাদের জানানো হয় টাকা পাঠানো হয়েছে। এসময় কিশোরীর মা-বাব ওই দোকানের আশপাশে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, ওই কিশোরীর সঙ্গে আসা’মি আব্দুল্লাহর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আব্দুল্লাহর সঙ্গে দেখা করতেই গত ৪ জুলাই সে নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনালে আসে। কিন্তু তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর খাবার কেনার কথা বলে আব্দুল্লাহ পালিয়ে যায়।

এসময় পুরনো প্রেমিক ইকবালকে ডেকে এনে তার সঙ্গে পালিয়ে যায় ওই কিশোরী। পরে বন্দরের নবীগঞ্জের মহসিন মিয়ার বাড়ির একটি ঘর ২১০০ টাকা মাসিক ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে তারা।ওসি জানান, উদ্ধার কিশোরী সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাত’ন দমন আইনের ২২ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদলতে জবানবন্দি দেন। প্রেমিক ইকবাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন বিচারক।এসময় কিশোরীর মা জানান, আসা’মিদের বিরুদ্ধে এখন আর তাদের কোনও অভিযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে করা মা’মলা প্রত্যাহার করে নেবেন বলেও জানান তিনি।এদিকে মা’মলায় গ্রেফতার তিন আসা’মি আব্দুল্লাহ, নৌকার মাঝি খলিল ও অটোচালক রকিব আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়ার পর গত ১৫ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টিসহ পুলিশের তদন্তের বিষয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খোদ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই তিন আসা’মির ১৬৪ ধরায় দেওয়া জবানবন্দি নিয়ে বিস্মিত।এ বিষয়ে আসা’মি নৌকার মাঝি খলিলের স্ত্রী শারমিন বেগম অভিযোগ করেন, মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুন তিন পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৪৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন জানান, ওই মা’মলায় আব্দুল্লাহ্ ও রকিব দুই আসা’মিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিলো। রিমান্ড শেষে ওই দুই আসা’মিসহ তিন আসা’মি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রিমান্ডে নিয়ে নির্যাত’ন করে স্বীকারোক্তি আদায় ও আসা’মিদের পরিবারের থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।এদিকে এসআই শামীমের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। কমিটি যদি মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তার কাজে গাফেলতি এবং আসা’মিদের পরিবারের থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পান তাহলে আইনত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

জোরে গান বাজিয়ে পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে খুন, কিশোর গ্রেপ্তার

প্রচণ্ড শব্দে গান বাজিয়ে বাড়িতে একে একে মা, বোন, দাদা ও এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে খুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.