আহ! ডক্টর কামাল আর ডাক্তার জাফরউল্লাহ!

277

বরাবরের মতো দেশের এই দুই বয়স্ক নাগরিক ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে নেমেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি অভিযুক্ত নুরুর পক্ষে আইনি লড়াই করবেন আর জাফরউল্লাহ বলেছেন, নুরকে হয়রানি করা হচ্ছে।

একটা লোক খুন হলে খুনের সাথে একাধিক মানুষ জড়িত থাকলে তাদের যার যতেটুকু সম্পৃক্ততা সেই অনুযায়ী সাজা হয়। কেউ ভিক্টিমের হাত বেঁধেছে, কেউ রশি এনেছে, কেউ গলায় ছুরি চালিয়েছে। কেউ কলকাঠি নেড়েছে কিংবা অপরাধীদের আশ্রয় দিয়েছে। বিচার হয় যার যতেটুকু ভূমিকা সে অনুযায়ী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নুরের সংগঠনের এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মেয়েটা সংগঠনের কাছে বিচার না পেয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছে। সে কোথাও বলেনি, এরা সবাই তাকে ধর্ষণ করেছে।
তদন্ত করে যার যতেটুকু ভূমিকা থাকবে তার সেই ভূমিকার বিচার হবে। কিন্তু তদন্তের আগে কামাল হোসেন কেন নুরকে আইনি সহায়তা দিতে চাইছেন? অভিযোগ তো নুরের সংগঠন থেকে এসেছে। আচ্ছা, অভিযোগকারী যদি প্রভাবশালী কেউ হতো অথবা অভিযোগকারী যদি কামাল হোসেন এর মেয়ে হতেন? উনি কি এমন ঘোষণা দিতেন?

জাফরউল্লাহ বলছেন, নুরুকে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা তো সরকার করেনি, ছাত্রলীগ করেনি নুরের সংগঠন এর নেত্রী করেছে। উনি জানেন না- কাল কেউ এসে যদি থানায় মামলা দিয়ে বলে, কিছু বখাটে জাফরউল্লাহর স্ত্রীকে উত্যক্ত করে, পুলিশ মামলা নিবে। তদন্ত করবে, কেউ অভিযুক্ত হলে বিচার করবে।

কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত যদি নুরু হয় তাহলে, অভিযুক্ত যদি ‘ভাইবার’ মান্না হয়-তাহলে তার বিচার করা যাবে না। কামাল হোসেন তাকে আইনি সহায়তা দেবে, জাফরউল্লাহ অভিযোগ করবে- হয়রানি করা হচ্ছে।

একটা মেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলছে আর দেশের দুই বয়স্ক নাগরিক নুরুর গংকে বাহবা পেতে পানি ঘোলা করছে, ওনারা এতো দেউলিয়া হয়েছে- জানা ছিলো না।

স্বীকার করি, বাংলাদেশের অনেক নারী নির্যাতনের পরও আইনি লড়াই করতে পারেন না। কামাল হোসেন, তাদের পাশে যান। সরকারও এই অপরাধ এর বিচার করবে, অতীতেও এমন অপরাধ করে কেউ মাফ পায়নি। কামাল হোসেন, আপনার মানবাধিকার কর্মী মেয়েকেই বলুন, নুরুদের যে কর্মী বিচার চেয়ে পথে নেমেছে- তার পাশে দাঁড়াতে। সবকিছু নিয়ে রাজনীতি কইরেন না।

ধর্ষিতা বলেছে, জনপ্রিয়তা দিয়ে অভিযুক্তরা মাফ পেয়ে পেতে চাইছে। কী সাংঘাতিক! একটা মেয়েকে ধর্ষণ করবে- তা চেপে রাখতে চাইবে- হুমকি দেবে কিন্তু তার জন্য বিচার করা যাবে না, কারণ এরা দুই তিনশো লোক নিয়ে মিছিল করার ক্ষমতা রাখে।

আর রাজনৈতিক দেউলিয়া সিনিয়র সিটিজেনরাও সেই মিছিলের দিকে তাকিয়ে অপরাধ-নিরাপরাধ ঠিক করে দেন, পক্ষ নেন।

সরকারের বিরোধিতা করতে হয় করেন। কিন্তু ধর্ষণকারীদের পক্ষ নিবেন সরকারকে বিতর্কিত করতে? লজ্জা লাগবে না? আপনাদেরতো বর্ণাঢ্য একটা অতীত আছে।

শেখ হাসিনার সরকার মিছিলে লোক দেখে অপরাধ এর বিচার করবে না। যে অপরাধী, তার ভূমিকা অনুযায়ী সাজা হবে। তার দল- অন্য দল এসব এই সরকার দেখে না। কামাল হোসেন, ডাক্তার জাফরউল্লাহদের এটা মনে রাখতে হবে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)