সিলেটে এবার বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে শ্রমিক লীগ নেতার ধ’র্ষণ

225

প্রকাশ:০৫ অক্টোবর ২০২০,সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রাবাসে স্ত্রীকে গণধ’র্ষণ ও বেড়ানোর কথা বলে বাসায় এনে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধ’র্ষণের পর এবার পাঁচ সন্তানের জননীকে অস্ত্রের মুখে ধ’র্ষণের অভিযোগ ওঠেছে।

আগের দুই ধ’র্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। আর এবার ধ’র্ষণের অভিযোগ ওঠেছে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেট নগরের শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার চার নম্বর রোডের দুই নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। একই বাসার দোতলায় ধ’র্ষণের শিকার নারী ও নিচতলায় অভিযুক্ত দিলাওয়ার হোসেন পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন।

পাঁচ সন্তানের জননী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় গ্রে’প্তারকৃতরা হলো- সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের ২নং বাসার দুইতলার ভাড়াটে দিলাওয়ার হোসেন (৩৮) ও তার সহযোগী হারুন মিয়া ওরফে চাক্কু হারুন (৩৫)। দিলাওয়ার শ্রমিক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি সিলেট সদর উপজেলার পাইকেরগাঁওয়ের লাল মিয়ার ছেলে। হারুন নগরের তালতলা এলাকায় পার্কভিউ মেডিকেলের পেছনের একটি কলোনিতে ভাড়া থাকেন। ওসমানীনগর উপজেলার কুড়ুয়ার রাগবপুর গ্রামের মৃত শাহেদ মিয়ার ছেলে তিনি। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের দুজনকে মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

পুলিশ ও মা’মলার এজাহার থেকে জানা যায়, শামীমাবাদ এলাকার চার নম্বর রোডের দুই নম্বর বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন এক গৃহবধূ। শনিবার সন্ধ্যায় বাসার নিচতলার ভাড়াটে দিলাওয়ার হোসেন তার দুই সহযোগী হারুন মিয়া ওরফে চাক্কু হারুন ও জামাল মিয়া ওরফে বাইড্ডা জামালকে (৩৪) নিয়ে গৃহবধূকে ধ’র্ষণ করেন। পরে ওই নারীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সোমবার তিনি ওসিসি থেকে ছাড়া পেয়েছেন।

ধ’র্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে দিলাওয়ার হোসেন ও হারুন মিয়া ওরফে চাক্কু হারুনকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাদী হয়ে সোমবার সকালে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মা’মলা করেছেন গৃহবধূ।

লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন সরকার বলেন, যে বাসায় ধ’র্ষণের শিকার নারী ভাড়া থাকেন ওই বাসার নিচতলায় মা’মলার আসা’মি দিলাওয়ার হোসেনও ভাড়া থাকেন। দুই পরিবারের শিশুদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। পূর্ববিরোধের জের ধরে ওই গৃহবধূকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দিলাওয়ার দুই সহযোগীকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে ধ’র্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। দিলাওয়ার একাই গৃহবধূকে ধ’র্ষণ করেন। হারুন ও জামাল দিলাওয়ারকে ধ’র্ষণে সহযোগিতা করেছেন। খবর পেয়ে দিলাওয়ার ও তার সহযোগীকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ।

২৯ সেপ্টেম্বর এক কিশোরীকে বাসার ছাদে নিয়ে ধ’র্ষণ করেন এক ছাত্রলীগকর্মী। এ ঘটনায় গত শুক্রবার ছাত্রলীগকর্মী রাকিব হোসাইন নিজুকে আসা’মি করে কোতোয়ালি থানায় মা’মলা করেন কিশোরীর মা। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে ছাত্রলীগকর্মী নিজুকে গ্রে’প্তার করা হয়।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধ’র্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যে পালাক্রমে ধ’র্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুইজন। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মা’মলা করেন। মা’মলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজনকে আসা’মি করা হয়। পরে আটজনকে গ্রে’প্তার করা হয়।