প্রকাশ্যে পুলিশকে ইচ্ছামত ধমকালেন স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা, ভিডিও ভাইরাল

896

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকায় এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি দিয়ে শাসিয়েছেন ইউনিয়ন  নেতা মীর হোসেন মীরু।
সাদা পোশাকে থাকা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক সদস্যকে আঙুল উঁচিয়ে প্রকাশ্যে শাসানোর একটি ভিডিওচিত্র মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রচার হতে থাকে।
মীর হোসেন মীরু ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি হ’ত্যা ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজনেরও বেশি মা’মলার আসা’মি বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) ফতুল্লার পাগলাবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাজীব তালুকদার ওরফে ভিপি রাজীবের হ’ত্যাকারীদের গ্রে’ফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ওই মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক একাধিক মা’মলার আসা’মি মীর হোসেন মীরু। মানববন্ধনের একপর্যায়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল আবদুল মতিনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মীরু। পরে রিকশায় উঠে ওই পুলিশ সদস্যকে হুমকি-ধমকি দেন তিনি।
এ ঘটনার ভাইরাল হওয়া ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে মীর হোসেন মীরুকে উঁচু গলায় বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আওয়ামী লীগ করেন, আপনি যুবলীগ করেন, ছাত্রলীগ করেন, আপনি বিএনপি করেন, জাতীয় পার্টি করেন? আপনি কেন পোলাপানরে দৌড়ানি দিবেন?’ সে সময় উপস্থিত ডিএসবির কনস্টেবল আবদুল মতিনকে উদ্দেশ করে প্রকাশ্যেই কথাগুলো বলেন এবং হুমকি-ধমকি দেন মীরু।

ওই পুলিশ সদস্যকে হুমকি দিয়ে মীরু বলেন, ‘এইগুলা কিন্তু ভালো না। পূর্বের ইতিহাস কিন্তু করাইয়েন না। আপনি কেন এইগুলা করবেন? কেন দৌড়ানি দিবেন?’ এ সময় ওই পুলিশ সদস্যকে আঙুল উঁচিয়ে শাসাতে দেখা যায় মীর হোসেন মীরুকে।
এ বিষয়ে বুধবার রাতে মীর হোসেন মীরুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে সময় নিউজকে তিনি বলেন, এলাকার একটা হ’ত্যা মা’মলার আসা’মিদের পুলিশ দীর্ঘ সাত মাস ধরে গ্রে’ফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী মিলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। তবে মানববন্ধন শুরুর দিকে সেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছিল আমার লোকজন। তারা মানববন্ধনে যোগদানের উদ্দেশ্যে আসার সময় রড হাতে নিয়ে তাদের দৌড়ানি দেন ডিএসবির সদস্য আবদুল মতিন।

মীরু বলেন, শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচিতে এমন কাজ কেন করবেন তিনি? এইজন্য আমি একটু উত্তেজিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। পরে অবশ্য তিনি সরি বলে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীরুর দাবি, থানা পুলিশ-তো আমাদের এই কর্মসূচি নিষেধ করে নাই। ডিএসবির সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ ব্যতীত বাধা দেয়ার এখতিয়ার রাখেন না। যদি এমন কোনো আদেশ থাকত তাহলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের নিষেধ করা হতো। আমরাও আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। তবে রড নিয়ে দৌড়ানি দেয়ার মতো এমন আচরণ তার উচিত হয়নি।

ভিডিও ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সময় নিউজকে মীরু বলেন, এই বিষয় নিয়ে নিউজ কেন হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। ওই দিনই তার সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সমাধান হয়ে গেছে। তা ছাড়া পুলিশ প্রশাসন থেকেও এ ব্যাপারে আমাকে কোনো কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেননি। যদি তারা জানতে চান তবে আমি সত্য ঘটনাই তুলে ধরব।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিউল ইসলাম সময় নিউজকে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নই। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত করে দেখব। যার দোষ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।