নুরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা সুহেল লাকি আক্তারের রুম থেকে আটক হন

1339

বাংলাদেশে সরকারি চাকুরীতে কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা সংগঠন, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একদল নেতা নিজেদের সংগঠনটির নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

একই সঙ্গে তারা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক ও পরিষদের যুগ্ম আহবায়কদের একজন, মুহাম্মদ রাশেদ খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
আজ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সংগঠনটির একটি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছেন- যাতে আহ্বায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সোহেলকে।

কে এই সোহেল ?

গণজাগরণ মঞ্চের আলোচিত লাকী আক্তারের ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে এক কোটা আন্দোলনের সময় সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

লাকী বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র এ পি এম সুহেলকে বৃহস্পতিবার তার বাসা থেকে ধরে নেওয়া হয়েছিল।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কৃষক সমিতির নেতা লাকীও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষার্থী ছিলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা সংগঠনে ভূমিকা রয়েছে সুহেলের। তিনি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। সম্প্রতি তিনি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকারও হয়েছিলেন।

লাকী প্রথমে দরজা না খুললেও অনেকক্ষণ বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালা আসার পর দরজা খুলে দেন।

তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক সুহেল আমার বাসায় ছিল। তারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে বাসার কম্পিউটারের হিস্ট্রি চেক করেন। এছাড়া সুহেল যে রুমে ছিল সেখানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। সুহেলের ব্যবহৃত একটি ফোন ছাড়া আর কিছুই তারা পাননি।”

প্রায় দেড় ঘণ্টা বাসায় অবস্থানকালে ওই ব্যক্তিরা সুহেলকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ‘হাতকড়া পরিয়ে’ জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলেও লাকী জানান।
“সুহেলকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি জানতে চাইলাম ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? তারা বললেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।”

“যাওয়ার সময় তারা বলে গেছেন, আপনারা ডিবি অফিসে যোগাযোগ করেন,” বলেন লাকী।কোটা আন্দোলনকারী কয়েকজন নেতাকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশ পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল।