বগুড়ায় যুবলীগ নেতা হত্যা মা’মলার আসা’মিকে কুপিয়ে হত্যা | মফস্বল

51

বগুড়ায় যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মানিক হত্যা মা’মলার প্রধান আসামি সুব্রত দাস ওরফে সম্রাট দাস (২৭) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সম্রাটের নামে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরতলির সাবগ্রাম হাটের দুর্গা মন্দিরের সামনে এই হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নি’হত সম্রাট সাবগ্রাম পালপাড়ার কালিপদ দাসের ছেলে। ওই ঘটনার পর থেকে সাবগ্রাম হাট ও মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, বালু ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে সম্রাটকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, রবিবার রাত ১টার দিকে সম্রাট ওই মন্দিরে যায়। প্রতিমা দর্শন শেষে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির চত্বরেই দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে সম্রাট মন্দির চত্বরে একটি টিনের ঘরে আশ্রয় নেয়। দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, সম্রাটের নামে হ’ত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি এলাকায় বালু ব্যবসা নিয়ে তার সঙ্গে এলাকার কিছু যুবকের বিরোধ হয়। তিন মাস আগে সম্রাটের বিরুদ্ধে সাবগ্রাম এলাকায় মানববন্ধন করে তার প্রতিপক্ষের লোকজন।
এরপর থেকে সম্রাট এলাকা ছেড়ে বগুড়া শহরে বসবাস শুরু করেন। সম্রাটের বড় ভাই জুয়েল দাস ওরফে হাড়ি জুয়েল পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। সম্প্রতি জুয়েল জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সম্রাটের পক্ষ নিয়ে ছাত্রলীগের এক নেতাকে মা’রধর করে। এরপর থেকে সাবগ্রাম এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

এলাকাবাসী জানায়, রবিবার রাতে সম্রাট গোপনে বাড়ি গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে। বাড়িতে খাওয়া দাওয়া শেষে মন্দিরে যায় প্রতিমা দর্শনে।

এদিকে প্রতিপক্ষের লোকজনের সম্রাটের আগমনের খবর পেয়ে সাবগ্রাম হাটের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়। সম্রাট মন্দির থেকে বের হতেই মন্দির চত্বরেই তার ওপর হামলা চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু জড়িতদের পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, নি’হত সম্রাটের নামে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।