স্মার্টফোনের জন্য ছুরিকাঘাতের পর বিকাশকে গলা কেটে হ,ত্যা

18

কুমিল্লার মুরাদনগরে স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টেইলার কর্মী বিকাশের পিঠে ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় স্মার্টফোনটি।

পরে তার মরদেহ একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায় অবিযুক্ত শাকিব। মুরাদনগরের চাঞ্চল্যকর বিকাশ চন্দ্র বর্মনের (১৬) ক্লুলেস হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্ত শাকিবকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান।তিনি জানান, বিকাশ চন্দ্র বর্মন (৩০ অক্টোবর) রাতে পাশের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজায় যায়। রাতে এবং পরদিনও না ফেরায় তার মা-বাবা বিকাশকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে। এক পর্যায়ে নিখোঁজের তিন দিন পর (২ নভেম্বর) পাশের এক পুকুরে কচুরিপানার নিচ থেকে বিকাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে বিকাশের বাবা প্রহলাদ চন্দ্র বর্মন (৫০) বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।ঘটনার সূত্রে আরও জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর নিবিঢ় বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুনির পায়ের ফেলে যাওয়া জুতা পর্যবেক্ষণ, পূজায় আগত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির সহাতায় ঘাতক শাকিবকে (২৪) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। শাকিব মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। পুলিশের দাবি শাকিব মাদকসেবক হতে পারেন।কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে খুনির স্বীকারোক্তি জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে তিনি আরও জানান, বিকাশ চন্দ্র বর্মনসহ আরও কয়েকজন মিলে লক্ষ্মীপূজা শেষে মুরাদনগর বাজারে চা খেতে এসে দেখে চায়ের দোকান বন্ধ। তখন তারা ঠিক করলো বড়িতে ফিরে যাবে। ঠিক তখন মূষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।

রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টা তখন। বৃষ্টিতে তখন তারা মুরাদনগরের জেলেপাড়া পুকুরের একটি ৬ তলা বিল্ডিংয়ের নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে বিকাশের সঙ্গে থাকা উত্তম বর্মন (২১) ও অজয় চন্দ্র সরকার সাবু (২২) বিকাশ ও খুনি শাকিবকে রেখে বাড়িতে চলে যায়। বয়সে বড় শাবিক বিকাশকে একা পেয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। বৃষ্টি কমে আসলে বিকাশ বাড়িতে রওনা হলে ঘাতক শাকিবও তার পিছু নেয়। বিকাশ তার বাড়ির পাশের পুকুরের পাড়ে পৌঁছলে শাকিব কোমরে থাকা ছুরি দিয়ে বিকাশের পেছনে আঘাত করে। এসময় বিকাশ দৌড়ে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ঘাড়ে আঘাত করে শাকিব।

বিকাশ চিৎকার করে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বৃষ্টির শব্দের কারণে তার চিৎকার কেউ শুনতে পরেনি। পরে শাকিব বিকাশের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

পকেটে থাকা বিকাশের ব্যবহৃত লাভা কোম্পানির স্মার্টফোন নিয়ে তার মরদেহ পুকুরে থাকা কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান বলেন, শাকিবকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইলফোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ঘটনাস্থলের পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।