মূর্তি বানিয়ে কুর্নিশ করা আর ভাস্কর্য নির্মাণ এক না: রাব্বানী

267

মূর্তি বানিয়ে তাকে সৃষ্টিক’র্তা ভাবা, পূজা করা, কুর্নিশ করা (নাউজুবিল্লাহ, সরাসরি শিরক!) আর বিশ্বের বুকে একটা নতুন মানচিত্র ও জাতি রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়া আদর্শিক পিতার অসামান্য অবদান ও মহান স্মৃ’তির প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়ে তাঁর শৈল্পিক ভাস্কর্য নির্মাণ যে এক জিনিস না, এটা যেকোনো বোধসম্পন্ন মু’সলমানের মতো মামুনুল হক নিজেও বেশ জানেন ও বোঝেন। স্রেফ এদেশের ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলিম’দের অনুভূতিকে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে অ’পব্যবহার করতেই এই জামায়াত নেত্রীর স্বামী ও জামায়াত রুকনের জামাই অবান্তর প্রলাপ বকে চলেছেন!

আমাদের প্রা’ণপ্রিয় নবী করিম (সা.) বিদায় হ’জ্বের ভাষণে ধ’র্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে স্পষ্ট বারণ করেছেন। সীমা লঙ্ঘনকারীকে কিন্তু স্বয়ং আল্লাহও পছন্দ করেন নাহ! তিনি যে গর্হিত ভাষায় ও টোনে বক্তব্য দেন, তা শিষ্টাচার বহির্ভূত ধৃষ্টতা, সরাসরি রাষ্ট্র দ্রোহিতার শামিল। এটা কোনভাবেই একজন সহীহ দ্বীনি আলেমের বক্তব্য হতে পারে না।

অনতিবিলম্ব এই লেবাসধারী ধ’র্ম ব্যবসায়ীকে গ্রে’প্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, আর ধ’র্মীয় উগ্রবাদিতা ছড়ানোর অ’পচেষ্টায় রত খেলাফত মজলিসকে মামুনুলের মতো সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী নেতাদের প্রভাবমুক্ত করা অ’ত্যন্ত জরুরি।

ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রতি আহবান থাকবে, এই (অ)ভদ্রলোক ও তার অনুসারীদের জ’ঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ভালো’ভাবে ত’দন্ত করা হোক। খেলাফত মজলিস জামায়াতের সম’র্থনপুষ্ট এবং এ অংশটি থেকেই কওমী মাদ্রাসায় জ’ঙ্গিবাদের সূচনা হয়। হরকাতুল জেহাদের নেতারা আগে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে যু’ক্ত ছিল। গ্রেনেড হা’মলায় যু’ক্ত জ’ঙ্গি মুফতি শহিদুলের নেতৃত্বে এই মামুনুল হকরাই মোহাম্ম’দপুরের মাদ্রাসা দখল করেছিল, যা দ্রুত দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব বলে মনে করি।

খেলাফত-হেফাজতের বিরাট জমায়েতের মূল র’হস্য হচ্ছে, নিয়ন্ত্রাধীন সকল মাদ্রাসার ছাত্রদের তাদের ঘোষিত সমাবেশে আসতে বাধ্য করা হয়। তাই, মাদ্রাসার ছাত্রদের কোনো সমাবেশে নেয়া যাবে না- এই ম’র্মে নির্দেশনা জারি করা আবশ্যক।

আর আল্লাহর ঘর, পবিত্রতম স্থান ম’সজিদ কেন্দ্রীক যেকোনো মিটিং-মিছিল বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার আসলে নামাজ শেষ হওয়ার আগেই এরা ব্যানার ফেস্টুন হাতে ম’সজিদের দরজায় ও গেটে দাঁড়িয়ে যায়, আর সাধারণ মানুষ ম’সজিদ থেকে বের হওয়া প্রায় সকল মু’সল্লীকে এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মী সম’র্থক ভেবে ভুল করে।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ