পুলিশি ‘নির্যাতনে’ অসুস্থ আ’লীগ নেতা বিপু হেলিকপ্টারে ঢাকায়

335

পুলিশি হেফাজতে ‘নির্যাতনে’ অসুস্থ যশোর পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপুকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম থেকে তাকে হেলিকপ্টারে নেয়া হয়।

ঢাকায় নেওয়ার আগে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাহমুদ হাসান বিপু। পুলিশ সদস্যকে মারপিটের অভিযোগে সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে আটকের পর মঙ্গলবার বিকালে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে মুক্তির পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বুধবার বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, মাহমুদ হাসান বিপুর সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। তার প্রেশার, ডায়াবেটিস রয়েছে। রক্তে প্লাটিলেট এক লাখের নিচে নেমে এসেছে। চার সদস্যের মেডিকেল টিম তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। মেডিকেল টিম তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে মাহমুদ হাসান বিপুকে জিম্মায় দেওয়া হয়। সেই সময় তিনি সুস্থ সবল ছিলেন। নিজেই জিম্মানামায় স্বাক্ষর করেছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও-ছবি আছে। মুক্ত হওয়ার পর তিনি পার্টি অফিসে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে ভুল স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে মারপিটের অভিযোগ করা হচ্ছে। এটা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে করতে পারেন। পুলিশ অপেশাদার আচরণ করেনি।’

যশোরের পুলিশ সুপার জানান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার সরোয়ার আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সদস্যকে মারপিটের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মাহমুদ হাসান বিপুকে আটকের পর ওই রাতেই পুলিশ শাহীন চাকলাদার সমর্থক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাংচুর ও তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করেছেন, সোমবার মধ্যরাতে পুলিশ যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি আব্দুল খালেক, তার ছেলে পৌর কাউন্সিলর হাজী সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, জেলা যুবলীগের সদস্য মনজুর আলম, এমএম কলেজ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান এবং যুবলীগ কর্মী সোহাগের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় বাড়িগুলোতে ভাংচুর ও তাণ্ডব চালানো হয় বলেও নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

এ প্রসঙ্গে এসপি মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি ভাংচুরের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পেয়েছি। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে পুলিশ স্বাভাবিক অভিযান চালিয়েছে। স্বাভাবিক অভিযানের ব্যত্যয় ঘটেনি।’