অগ্রিম ভাড়া না দেয়ায় ঘরে তালা, মারা গেল ৬ মাসের শিশু

68

অগ্রিম ঘরভাড়া দিতে পারেননি কাঠমিস্ত্রি ইমদাদুল ইসলাম। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়েছেন বাড়িওয়ালা। বাড়িভাড়া না দেয়ার কারণে ছয় মাসের শিশুকন্যাসহ তার স্ত্রীকে পাঁচ দিন ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় বালতির পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু আজিজা তাসমিয়া।

গত সোমবার (১১ জানুয়ারি) খুলনা মহানগরীর হরিণটানা রিয়াবাজার এলাকায় বাড়িওয়ালা মো. নওশেরের বাড়িতে শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) শিশুটির বাবা-মা নওশেরকে দায়ী করে থানায় অভিযোগ দিতে যান। তবে পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ দম্পতির। পরে তারা আদালতে এসে আইনজীবীদের কাছে অভিযোগ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠের ডিজাইন মিস্ত্রি ইমদাদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তামান্না মাসে চার হাজার টাকা চুক্তিতে রিয়াবাজার এলাকায় একতলা বাড়িটির দুই কক্ষ ভাড়া নেন। জানুয়ারি মাসের অগ্রিম ভাড়া দিতে পারেননি তারা। ফলে ৬ জানুয়ারি থেকে ঘরে শিশু সন্তানসহ তামান্নাকে তালাবদ্ধ করে রাখেন বাড়িওয়ালা নওশের। এসময় তামান্নার স্বামী মোংলা ঝিউধরা এলাকায় কাঠের কাজ করছিলেন।

কাঠমিস্ত্রি ও ভাড়াটিয়া ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিম্নআয়ের মানুষ। আয়-রোজগার কম। সংসারে অভাব-অনটন থাকলেও সন্তানকে জীবন দিয়ে ভালোবাসতাম। কিন্তু বাড়িওয়ালার নিমর্মতায় আজ সেই সন্তানকে হারাতে হলো।’

ইমদাদুলের স্ত্রী তামান্না ইসলাম জানান, তালাবদ্ধ অবস্থায় গত সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে শিশুটি হঠাৎ খেলতে গিয়ে বালতির পানির মধ্যে উল্টে যায়। ঘরে এসে তিনি শিশুটিকে ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার করলেও বাইরে থেকে ঘর তালাবদ্ধ থাকায় চিকিৎসকের কাছে নিতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমার মতো এভাবে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। আর কোনো পাষণ্ড বাড়িওয়ালা যেন এভাবে অন্যায় করতে না পারে। তিনি বাড়িওয়ালার বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় জলমা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) শহিদুল ইসলাম লিটন জানান, শিশুটির মা জানালা দিয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন তালা ভেঙে তাদেরকে উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, অসহায় বাবা-মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হবে।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমীর কুমার সরদার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা অপমৃত্যু মামলা নিয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে এটা মামলায় রূপান্তরিত হবে।’